শ্রেয়া ঘোষাল বাঙালির সার্বজনীন গর্ব। সংগীতজগতের অন্যতম শীর্ষ এই গায়িকার শৈশব ও বেড়ে ওঠা পশ্চিমবঙ্গের বাইরে হলেও, তাঁর শিকড় যে গভীরভাবে বাংলার সংস্কৃতিতেই গাঁথা—তা তিনি আবারও প্রমাণ করলেন। সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের প্রাত্যহিক জীবনের এক টুকরো বাঙালিয়ানার কথা তুলে ধরেন এই জনপ্রিয় গায়িকা।

সাক্ষাৎকার চলাকালীন সঞ্চালক রসিকতা করে শ্রেয়াকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনার বাড়িতে কি ঝর্ণা ঘি আর কাসুন্দি আছে?’ প্রশ্ন শুনেই হাসিতে ফেটে পড়েন গায়িকা। কারণ, অনুমান যে একবিন্দু ভুল ছিল না, তা প্রকাশ পায় তাঁর প্রতিক্রিয়াতেই। বাঙালি গৃহস্থালির এই অপরিহার্য অঙ্গ দুটি তাঁর রান্নাঘরেও যে সগৌরবে বিরাজমান, তা অকপটে স্বীকার করে নেন তিনি।
শুধু ঘরের খাবারই নয়, নিজের ব্যক্তিগত অভ্যাসের কথাও শেয়ার করেন শ্রেয়া। তিনি বলেন, 'ইনফ্যাক্ট আমার ব্যাগে সব সময় বোরোলীন থাকে। আমি পশ্চিমবঙ্গে সেভাবে কোনোদিন থাকিওনি, তাও আমি মনেপ্রাণে এতটাই বাঙালি।"
পশ্চিমবঙ্গের বাইরে বড় হয়েও যেভাবে তিনি নিজের ভেতরে খাঁটি বাঙালি সংস্থানকে টিকিয়ে রেখেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। বোরোলীন, ঝর্ণা ঘি কিংবা কাসুন্দি—এগুলি স্রেফ কোনো বস্তু নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রতিটি বাঙালির আবেগ ও ঐতিহ্যের প্রতীক। আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও প্রাত্যহিক জীবনের এমন ছোট ছোট অভ্যাসে শিকড়কে জড়িয়ে রাখার এই সরলতাই শ্রেয়া ঘোষালকে বিশ্ববাঙালির কাছে আরও বেশি আপন করে তুলেছে।
তবে এই প্রথম নয়, এর আগে নিজের প্রিয় খাদ্য়ের তালিকাতেও শ্রেয়া প্রমাণ করেছিলেন তাঁর বাঙালিয়ানা। বিশ্বের সেরা সব দামী পদের হাতছানি থাকলেও শ্রেয়ার শ্রেষ্ঠ তৃপ্তি লুকিয়ে আছে এক অতি সাধারণ পদে। তিনি হাসিমুখে বলেন, ‘আমার সবথেকে প্রিয় খাবার হলো মুসুর ডাল, আলুসেদ্ধ আর ভাত।’ তাঁর মতে, এই ঘরোয়া খাবারের যে স্বাদ এবং তৃপ্তি, তা পৃথিবীর অন্য কোনো রাজকীয় খানা দিতে পারে না।
{{/usCountry}}তবে এই প্রথম নয়, এর আগে নিজের প্রিয় খাদ্য়ের তালিকাতেও শ্রেয়া প্রমাণ করেছিলেন তাঁর বাঙালিয়ানা। বিশ্বের সেরা সব দামী পদের হাতছানি থাকলেও শ্রেয়ার শ্রেষ্ঠ তৃপ্তি লুকিয়ে আছে এক অতি সাধারণ পদে। তিনি হাসিমুখে বলেন, ‘আমার সবথেকে প্রিয় খাবার হলো মুসুর ডাল, আলুসেদ্ধ আর ভাত।’ তাঁর মতে, এই ঘরোয়া খাবারের যে স্বাদ এবং তৃপ্তি, তা পৃথিবীর অন্য কোনো রাজকীয় খানা দিতে পারে না।
{{/usCountry}}মুম্বইয়ের গ্ল্যামার দুনিয়ায় বছরের পর বছর কাটিয়েও শ্রেয়া তাঁর অভ্যাসে ও মনে আজও সেই সাধারণ বাঙালি মেয়েটিই রয়ে গেছেন। শ্রেয়া প্রবাসী বাঙালি। কিন্তু তাঁর শিকড়ের প্রতি টান অটুট। বড় তারকা হয়েও তিনি একজন মাটির মানুষ হিসেবে থাকতেই বেশি পছন্দ করেন। প্রবাসে থাকা হাজার হাজার বাঙালির কাছে শ্রেয়া এক জীবন্ত উদাহরণ যে, আধুনিকতা মানেই নিজের সংস্কৃতিকে ভুলে যাওয়া নয়।
নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া
ভিডিওটি ভাইরাল হতেই ভক্তদের প্রশংসায় ভাসছেন গায়িকা। কেউ লিখেছেন, ‘হাজারটা ভাষায় গান গাইলেও শ্রেয়াদি আজও মনের দিক থেকে সেই পাশের বাড়ির মেয়েটিই আছেন।’ আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, ‘বাঙালি আর বোরোলীন, এই সম্পর্ক চিরন্তন। ঠিক যেমন সঙ্গীত আর শ্রেয়ার’।