ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের প্রবাদপ্রতিম অভিনেতা নানা পাটেকরের আচমকা প্রয়াণে গোটা দেশ জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পর্দায় তাঁর দাপুটে অভিনয় আর ব্যক্তিজীবনে নিঃস্বার্থভাবে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর কারণে অনুরাগীদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছিলেন ‘ক্রান্তিবীর’ খ্যাত এই তারকা। তাঁর প্রয়াণের পর আবারও চর্চায় উঠে এসেছে অভিনেতার জীবনের নানা অজানা ও আবেগঘন অধ্যায়। একসময় যিনি দিনে ৬০টি পর্যন্ত সিগারেট খেতেন, তিনি কীভাবে রাতারাতি ধূমপান পুরোপুরি ছেড়ে দিয়েছিলেন— লল্লনটপ-কে দেওয়া এক পুরোনো সাক্ষাৎকারে সেই কাহিনি শোনান খোদ নানা।

ছেলের মৃত্যুতে চরম মানসিক আঘাত ও তীব্র ধূমপান:
সাক্ষাৎকারে নানা পাটেকর প্রকাশ করেছিলেন যে, জীবনে এক চরম সংকটময় মুহূর্তে তিনি মারাত্মকভাবে ধূমপানে আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর প্রথম সন্তান দুর্বাসের অকালপ্রয়াণ ঘটেছিল মাত্র আড়াই বছর বয়সে। জন্মের পর থেকেই তাঁর শরীরে কিছু জটিলতা ছিল— ঠোঁটে সমস্যা ও এক চোখে দেখতে না পাওয়া। নানা আফসোস করে বলেছিলেন, সন্তানকে প্রথম দেখার পর তাঁর মাথায় এসেছিল ‘লোকজনে কী বলবে’, যা পরবর্তীতে তাঁকে চরম অপরাধবোধে ও মানসিক যন্ত্রণায় ফেলেছিল। এই মানসিক আঘাত থেকেই তিনি দিনে ৬০টি পর্যন্ত সিগারেট খাওয়া শুরু করেন। এমনকি স্নান করার সময়ও তাঁর ঠোঁটে জ্বলত সিগারেট এবং তাঁর গাড়িতে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ থাকায় কেউ বসতে পর্যন্ত চাইত না। আড়াই বছরের ছেলেকে হারানোর গ্লানি আরও ঘিরে ধরেছিল নানাকে। আর তিনি আষ্টেপৃষ্টে ধরেছিলেন সিগারেটকে।
বোনের এক কথায় জীবন পরিবর্তন:
অবশেষে ৫৬ বছর বয়সে এসে চিরতরে সিগারেটকে বিদায় জানান নানা পাটেকর। তবে এর নেপথ্যে ছিল তাঁর বোনের এক মর্মস্পর্শী উক্তি। নানার বোন তাঁর নিজের একমাত্র সন্তানকে হারিয়েছিলেন। সন্তানের মৃত্যুর ঠিক আট দিন পর নানাকে ধূমপান করে কাশতে দেখে বোন আকুল হয়ে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আর কী কী দেখতে হবে আমাকে?’
{{/usCountry}}অবশেষে ৫৬ বছর বয়সে এসে চিরতরে সিগারেটকে বিদায় জানান নানা পাটেকর। তবে এর নেপথ্যে ছিল তাঁর বোনের এক মর্মস্পর্শী উক্তি। নানার বোন তাঁর নিজের একমাত্র সন্তানকে হারিয়েছিলেন। সন্তানের মৃত্যুর ঠিক আট দিন পর নানাকে ধূমপান করে কাশতে দেখে বোন আকুল হয়ে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আর কী কী দেখতে হবে আমাকে?’
{{/usCountry}}বোনের মুখ থেকে এই কথাটি শোনার পরই অভিনেতার বিবেক নাড়া দেয়। তিনি স্থির করেন, ‘আজকের দিন থেকে আর সিগারেট ছোঁব না’। এইভাবে একের পর এক দিন পার হতে হতে টানা পাঁচ দিন কাটে। পঞ্চম দিনে বোনকে ফোন করে জানান যে তিনি আর ধূমপান করছেন না। সেই দিনের পর থেকে টানা ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই বদঅভ্যাস থেকে পুরোপুরি দূরে থেকেছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা।
অভিনয় জীবনের পাশাপাশি নিজের জীবনের এই ধরনের চরম বাস্তব ও কঠিন অনুভূতির কথা নিঃসংকোচে প্রকাশ করাই নানা পাটেকরকে সাধারণ মানুষের কাছে ‘ভগবান’ সমতুল্য করে তুলেছিল।