বর্তমানে কানাডায় নিজের ‘অরা’ (Aura) ট্যুর নিয়ে ব্যস্ত দিলজিৎ দোসাঞ্জ। কিন্তু সম্প্রতি একটি শো চলাকালীন খলিস্তান-পন্থী কিছু সমর্থক পতাকা উড়িয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলে মেজাজ হারান গায়ক। তবে মেজাজ হারালেও নিজের যুক্তি থেকে একচুল নড়েননি তিনি। সটান জানিয়ে দিলেন, তাঁর কাজ গান গাওয়া, রাজনীতি করা নয়।

বিবাদের মূলে বিগ বি-র পা ছোঁয়া?
ঘটনার সূত্রপাত গত বছর অক্টোবর মাসে। অমিতাভ বচ্চনের শো ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’-তে হাজির হয়ে বিগ বি-র পা ছুঁয়ে প্রণাম করেছিলেন দিলজিৎ। অমিতাভও তাঁকে ‘পাঞ্জাব দা পুত্তর’ বলে সম্মোধন করেন। কিন্তু এই সৌজন্যই কাল হলো। খলিস্তান-পন্থী গোষ্ঠী ‘শিখস ফর জাস্টিস’ (SFJ) অভিযোগ তোলে যে, ১৯৮৪-র শিখ দাঙ্গায় প্ররোচনা দেওয়া অমিতাভের পা ছুঁয়ে দিলজিৎ নাকি শিখদের অপমান করেছেন। সেই রেশ টেনেই কানাডার কনসার্টে পতাকা দেখিয়ে তাঁকে হেনস্থা করার চেষ্টা হয়।
দিলজিতের কড়া হুঙ্কার:
বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে মঞ্চ থেকে দিলজিৎ বলেন, ‘আমার কাজ চ্যারিটি করা নয়। তবুও আমি যে প্ল্যাটফর্মেই যাই না কেন, সবসময় পাঞ্জাবের কথা বলি। আমরা বলি জাতীয় মিডিয়া পাঞ্জাবকে গুরুত্ব দেয় না, তাই আমি কেবিসি-র মতো মঞ্চে গিয়েছি যাতে জাতীয় স্তরে আমাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরতে পারি। এমনকি জিমি ফ্যালনের শো-তেও গিয়েছি পাঞ্জাব আর ‘গুরু নানক জাহাজ’ (কোমাগাতা মারু) ঘটনা নিয়ে কথা বলতে। কোনও সিনেমা বা গানের প্রচার করতে নয়।’ এরপরই সেই মোক্ষম সংলাপ ছুড়ে দেন তিনি— ‘জিনে ঝাণ্ডে দিখানে দিখাই চালো’ (যাদের যত পতাকা দেখানোর ইচ্ছে, দেখিয়ে যাও)।
ভালোবাসার বার্তা:
{{/usCountry}}ভালোবাসার বার্তা:
{{/usCountry}}হুমকি বা ট্রোলিংয়ে যে তিনি দমে যাওয়ার পাত্র নন, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন দিলজিৎ। তিনি বলেন, ‘আমার গুরু শিখিয়েছেন ‘এক ওঙ্কার’। এই পৃথিবী আমার কাছে এক। কেউ আমাকে ট্রোল করুক বা হিংসে করুক, আমি সবসময় ভালোবাসার বার্তাই দিয়ে যাব। আমি পরোয়া করি না কে কী ভাবল।’
জাতীয়তাবোধ বনাম বিতর্ক:
জিমি ফ্যালনের শো-তে ১৯১৪-র কোমাগাতা মারু ঘটনার মতো ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ তুলে ধরে দিলজিৎ আগেই প্রমাণ করেছেন তিনি শিকড়কে ভোলেননি। কিন্তু রাজনৈতিক পতাকা দেখিয়ে কনসার্ট ভেস্তে দেওয়ার এই চেষ্টাকে তিনি যে প্রশ্রয় দেবেন না, তা এদিনের কড়া মূর্তিতেই পরিষ্কার।