Debolina Nandy: বাতিল করা হোক পাসপোর্ট, প্রবাহর ফ্লাইট ওড়ানোয় আপত্তি জানালেন দেবলীনা
Debolina Nandy: চলতি বছরের শুরুর দিকে টলিউডের জনপ্রিয় গায়িকা দেবলীনা নন্দী এবং তাঁর স্বামী প্রবাহ নন্দীর সংসার ভাঙ্গনের খবর সামনে উঠে আসে। দেবলীনার আত্মহত্যার খবর জানাজানি হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়ে যায় বিতর্ক।
Debolina Nandy: চলতি বছরের শুরুর দিকে টলিউডের জনপ্রিয় গায়িকা দেবলীনা নন্দী এবং তাঁর স্বামী প্রবাহ নন্দীর সংসার ভাঙ্গনের খবর সামনে উঠে আসে। দেবলীনার আত্মহত্যার খবর জানাজানি হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়ে যায় বিতর্ক। হাসপাতাল থেকে দেবলীনা বাড়ি ফিরে আসেন ঠিকই কিন্তু তার পরেও স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কে উন্নতি হয়নি। খুব সম্প্রতি চন্দননগরে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজের জিনিস আনতে গিয়ে আবারও চরম হেনস্থার সম্মুখীন হতে হয়েছিল দেবলীনাকে।

ইতিমধ্যেই স্বামী প্রবাহর বিরুদ্ধে বারুইপুর আদালতে মামলা করেন দেবলীনা, যার শুনানি হয় ১৯ জুন। আদালতে শুনানির পরেই সাংবাদিকদের সম্মুখীন হন দেবলীনা এবং তাঁর আইনজীবীরা। প্রেস মিটে দেবলীনা তাঁর জীবনে চলতে থাকা সমস্যা এবং আগামী দিনে তিনি এই পুরো বিষয়টিতে কীভাবে এগোবেন সেটাই জানান।
আরও পড়ুন: টলিউডের আচ্ছে দিন আসছে, কমিটি চালাতে কাদের বেছে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী?
কী বললেন দেবলীনা?
দেবলীনা বলেন, ‘আমি হয়তো এত দূর এগোতাম না কিন্তু উল্টোদিক দিক থেকে আমাকে বারবার হেনস্থা করা হচ্ছে তাই আমাকে আইনি পথে এগোতে হচ্ছে। আমি সবার সঙ্গে আলোচনা করে কিছু স্টেপ নিয়েছি।’
দেবলীনাট আইনজীবী শুভম কাঞ্জিলালের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে দেবলীনা আর প্রবাহর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ওঁর উপর মানসিক এবং শারীরিক অত্যাচার শুরু হয়। বিয়ের দিনেই দেবলীনা নন্দীর মাকে গায়ের রঙ নিয়ে অপমান করা হয়। এমনকি ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে থাইল্যান্ডের হানিমুনে গিয়ে মদ্যপান করে দেবলীনা নন্দীর গায়ে হাত তোলেন প্রবাহ।
আইনজীবী আরও বলেন, ‘প্রবাহ নন্দীর বাড়ির তরফ থেকে এতটাই মানসিক অত্যাচার করা হতো যে দেবলীনা বাধ্য হয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেন। এরপরেই প্রবাহর বিরুদ্ধে আইনি পথে হাঁটা হয়। কিন্তু দেবলীনা যখন নিজের জিনিস আনতে যান শ্বশুরবাড়িতে, তখনও তাঁকে বাধা দেওয়া হয়। পরে কিছু জিনিস উদ্ধার করা হলেও গলার হার, মানতাসা এইসব কিছু উদ্ধার সম্ভব হয়নি।’
আরও পড়ুন: চোখে-মুখে বার্ধক্যর ছাপ, তাকিয়ে আছেন দৃঢ় চিত্তে, চিনতে পারছেন অভিনেত্রীকে?
তবে এসব কিছুর মধ্যেই প্রবাহর তরফ থেকে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করা হয়, যদিও দেবলীনা প্রথম থেকে চেয়েছিলেন যাতে বিয়েটা টিকে থাকে। শারীরিকভাবে অত্যাচারিত হলেও, মেকআপ দিয়ে শরীরের কালশিটে ঢাকা দিয়ে রাখলেও দেবলীনা তা কখনও প্রকাশ্যে আনেন নি। তবে খুব সম্প্রতি দেবলীনার একটি ভিডিও অন্যরকম ভাবে পোস্ট করেন প্রবাহ, যেটা তিনি নিজেই ফোনে তুলেছিলেন।
প্রবাহর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, যেহেতু ফ্লাইটে ওঠার কিছু নির্দিষ্ট সময় আগে মদ্যপান করতে হত, তাই প্রবাহ ঘড়ি দেখে মদ্যপান করতেন। প্রায় প্রত্যেকদিন মদ খেয়ে দেবলীনাকে মারধর করতেন প্রবাহ। শুধু প্রবাহ একা নন, হেনস্থা করতেন প্রবাহর বাবা-মাও। এমনকি ফ্ল্যাটে আসার অনুমতি ছিল না দেবলীনার মায়ের। তিনি সবসময় নিচেই দাঁড়িয়ে থাকতেন।
এই সবকিছুর মধ্যেই খুব সম্প্রতি দেবলীনা গাড়িকে চন্দননগরের ফলো করা হয়। দুটো FIR করা হয়েছে, চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে প্রবাহর পাসপোর্ট সিজ করে দেওয়া যায়, আইনকে যাতে ফাঁকি না দিতে পারেন, অন্য দেশে যাতে চলে না যেতে পারেন সেটা চেষ্টা করা হচ্ছে। Air India-রও ব্যাপারটা দেখা উচিত কারণ যে দু তিনজন মানুষকে নিয়ে সংসার করতে পারছে না, সে ২০০-৩০০ জন যাত্রী নিয়ে প্লেন কি করে চালাবে? দাবী গায়িকার।
E-Paper

