টলিউডের জনপ্রিয় গায়িকা দেবলীনা নন্দী (Debolina Nandy) এবং তাঁর পাইলট স্বামী প্রবাহ নন্দী (Prabaha Nandy)-র বৈবাহিক জীবনের টানাপোড়েন ও আইনি বিচ্ছেদের খবর বিগত কয়েক মাস ধরেই বিনোদন জগতের অন্যতম চর্চার বিষয়। বছরের শুরুতে দেবলীনার আত্মহত্যার চেষ্টা এবং সম্প্রতি শ্বশুরবাড়ি থেকে জিনিসপত্র উদ্ধার করতে গিয়ে হেনস্থার অভিযোগের পর, কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছিল স্বামী প্রবাহকে। দীর্ঘ ছয় মাস ধরে সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ার সমস্ত ফোন এবং সমালোচনা এড়িয়ে সম্পূর্ণ চুপ ছিলেন পেশায় পাইলট প্রবাহ নন্দী। অবশেষে প্রথমবার মিডিয়ার সামনে মুখ খুললেন প্রবাহ।

টিভি৯ বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রবাহ তাঁদের দাম্পত্য জীবনের ভাঙন, শাশুড়ির হস্তক্ষেপ এবং দেবলীনার আচরণের একাধিক বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করেছেন।
দাম্পত্য কলহের মূল কারণ শাশুড়ির ‘অনুপ্রবেশ’ ও স্পেসের অভাব
প্রবাহের দাবি, দেবলীনার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগতভাবে কোনও বড় সমস্যা ছিল না। তাঁদের সুখের সংসারে আসল নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেবলীনার মায়ের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের কারণে। প্রবাহ জানান, ‘আমাদের বিয়েতে কোনও সমস্যা ছিল না। প্রধান সমস্যা ছিল ওঁর মায়ের সব কিছুতে ঢুকে পড়া। বিয়ের আগেও খুব কম জায়গায় আমি আর দেবলীনা একসঙ্গে যেতে পেরেছি। অধিকাংশ জায়গায় ওঁর মা সঙ্গে যেতেন। আমাদেরকে কোনও নিজস্ব স্পেস দেওয়া হতো না।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, মা ও মেয়ের মধ্যেও প্রায়শই তুমুল ঝগড়া হতো। দেবলীনার মা অনেক সময় মেয়েকে ব্ল্যাকমেইল করতেন যে কথা না শুনলে তিনি শো-তে (Show) একসাথে যাবেন না। তবে প্রবাহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি কোনওদিন দেবলীনাকে ‘হয় মাকে ছাড়ো, নয় আমাকে ছাড়ো’— এমন কোনও শর্ত দেননি। সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে দেবলীনা ব্ল্য়াকমেল করত স্বামীকে, দাবি তাঁর
আত্মহত্যার চেষ্টার রাতের আসল ঘটনা ও প্রবাহর প্রশ্ন
{{/usCountry}}আত্মহত্যার চেষ্টার রাতের আসল ঘটনা ও প্রবাহর প্রশ্ন
{{/usCountry}}চলতি বছরের প্রথম সপ্তাহে দেবলীনা একটি শো থেকে ফেরার পথে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। সেই রাতে প্রবাহ কেন আসেননি, তার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, দিন কয়েক আগে লাঞ্চের একটি প্ল্যান বাতিল হওয়ায় এবং নতুন বছরের শুরুতে সোশ্যাল মিডিয়ায় দুজনের ছবি পোস্ট না করায় দেবলীনা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন।
ডিউটি সেরে এসে প্রবাহ যখন ঘুমাচ্ছিলেন, তখন রাত ২টোর সময় দেবলীনার মায়ের ফোন থেকে মাত্র দু'বার ফোন এসেছিল। পরদিন সকালে তিনি অভিনেতা সায়কের পোস্ট দেখে জানতে পারেন দেবলীনা হাসপাতালে। প্রবাহর কথায়, ‘যেখানে শুনি ও ৭৮টা ঘুমের ওষুধ খেয়েছিল। ওই সময়ে আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম, কী করা উচিত বুঝতে পারিনি। পরে আমার মনে হয়েছে, ৭৮টা ঘুমের ওষুধ খেয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পর কীভাবে চিকিৎসা হয়েছে, কোন চিকিৎসকের অধীনে চিকিৎসা হয়েছে, এগুলো বিস্তারিতভাবে জানা প্রয়োজন।’
‘দেবলীনা আমাকে চড় মেরেছে, অন্তর্বাস গোনার গল্প সম্পূর্ণ মিথ্যা’
দেবলীনার আনা শারীরিক নির্যাতনের (Domestic Violence) সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে প্রবাহ উল্টে দাবি করেছেন যে, দেবলীনা অত্যন্ত শর্ট-টেম্পারড (চটজলদি রেগে যাওয়া স্বভাবের)। প্রবাহ বলেন, 'ও আমাকে চড় মেরেছে, আবার পরে পা ধরে ক্ষমাও চেয়েছে। ও যখনই চাইত আমি ওঁর সব কথায় 'হ্যাঁ' বলি, আর তা না হলেই ও বলত সমাজ মাধ্যমে গিয়ে বলবে বা পলিটিক্যাল কানেকশন ব্যবহার করবে, নয়তো জীবন শেষ করে দেবে।'
সম্প্রতি দেবলীনা অভিযোগ করেছিলেন যে, প্রবাহর ভাইয়ের সামনে তাঁকে নাকি নিজস্ব অন্তর্বাস গুনে দেখাতে হয়েছিল। এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ 'মিথ্যা' ও 'ভিত্তিহীন' বলে দাবি করে প্রবাহ জানান, তাঁদের কাছে প্রমাণ আছে যে এমন কোনও ঘটনাই ঘটেনি। না জেনে সমাজমাধ্যমে যেভাবে তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে দিনের পর দিন অপমান ও হুমকি দেওয়া হয়েছে, তার বিরুদ্ধে এবার আইনি তদন্ত হওয়া দরকার বলে মনে করেন এই পাইলট।
কাজ ও মানসিক জীবনে গভীর প্রভাব
এই পুরো ঘটনায় প্রবাহ মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন যে ১৫-১৬ দিন তিনি ঠিকমতো ফ্লাই করতে বা কাজ করতে পারেননি। নিজের বিমান সংস্থা (Airline Company) থেকে তাঁকে বাধ্য হয়ে ছুটি নিতে হয়েছিল। নিজের স্ত্রীর সম্মানহানি করতে চাননি বলেই এতদিন তিনি চুপ ছিলেন, কিন্তু এবার নিজের বক্তব্য সাধারণ মানুষের সামনে আনা প্রয়োজন মনে করেই তিনি নীরবতা ভেঙেছেন।