...
...
Next Story

আরাধ্যাকে নিয়ে ভুয়ো খবর, ঐশ্বর্য কন্যার মামলায় কী জানাল দিল্লি হাইকোর্ট?

আরাধ্যার স্বাস্থ্য নিয়ে ভুয়া খবর: 'ব্যক্তিত্বের অধিকার' নাকি 'পারিবারিক ট্রেডমার্ক'? বচ্চন পরিবারের মামলায় আইনি প্রশ্ন আদালতের

Published on: Aug 15, 2026, 10:31:08 IST
Advertisement

অমিতাভ বচ্চনের নাতনি এবং অভিষেক বচ্চন ও ঐশ্বর্য রাই বচ্চনের কন্যা আরাধ্যা বচ্চন-এর (Aaradhya Bachchan) স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ইউটিউবে ছড়ানো ভুয়া খবরের মামলায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও অভূতপূর্ব আইনি প্রশ্ন তুলল দিল্লি হাইকোর্ট। ২০২৩ সালে করা এই ব্যক্তিত্বের অধিকার (Personality Rights) ও সুরক্ষার মামলায় বৃহস্পতিবার শুনানি চলাকালীন আদালত প্রশ্ন তোলে, একটি পরিবারের নাম কি ট্রেডমার্কের মতো যুগের পর যুগ বংশপরম্পরায় সুরক্ষা পেতে পারে?

আরাধ্যাকে নিয়ে ভুয়ো খবর, ঐশ্বর্য কন্যার মামলায় কী জানাল দিল্লি হাইকোর্ট?
আরাধ্যাকে নিয়ে ভুয়ো খবর, ঐশ্বর্য কন্যার মামলায় কী জানাল দিল্লি হাইকোর্ট?

বিচারপতি অনুপ জয়রাম ভাম্বানির (Justice Anup J Bhambhani) একক বেঞ্চ এই মামলার শুনানিতে ট্রেডমার্কের সাথে ব্যক্তির ভাবমূর্তি ও পারিবারিক খ্যাতির প্রার্থক্যের বিষয়টি তুলে ধরেন।

দিল্লি হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও প্রশ্নসমূহ

শুনানি চলাকালীন বিচারপতি ভাম্বানি উল্লেখ করেন, কোনো পণ্যের সাথে ট্রেডমার্ক বা ব্র্যান্ডের নাম যুক্ত থাকে। কিন্তু কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিষয়টির প্রেক্ষাপট আলাদা। আদালত মূলত নিম্নলিখিত আইনি প্রশ্নগুলো বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করে:

পারিবারিক নামের স্বত্বাধিকারের সীমা: আদালত প্রশ্ন তোলে, "যদি কোনো পারিবারিক নামকে ট্রেডমার্কের মতো সমান সুনামের অধিকারী ধরা হয়, তবে কাজের সাফল্য বা খ্যাতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সেই সম্মান বংশপরম্পরায় কত দূর বা কত প্রজন্ম পর্যন্ত সুরক্ষার আওতায় থাকবে?"

আইপিআর (IPR) লঙ্ঘন কি না: ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর খবর—তা যতই 'কুরুচিকর বা নীতিহীন' প্রকৃতির হোক না কেন—তা প্রকাশ করা আদৌ কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি অধিকারের (Intellectual Property Rights) লঙ্ঘন কি না? এবং লঙ্ঘন হলে তা কোন আইপিআর-এর আওতায় পড়বে?

চাইল্ড রাইটস ও পূর্ববর্তী রায়

এর আগে ২০২৩ সালের ২০ এপ্রিল দিল্লি হাইকোর্ট বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলকে আরাধ্যার স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ভুয়া খবর ও ভিডিও প্রদর্শনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। সেই সময় আদালত কড়া পর্যবেক্ষণ জানিয়ে বলেছিল:

"একটি শিশুকে নিয়ে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর ও স্পর্শকাতর ভুয়া তথ্য ছড়ানো মানসিক বিকৃতির পরিচয়। আইনের চোখে এটা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিটি শিশুর সম্মান ও শ্রদ্ধার সাথে বেঁচে থাকার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।"

একই সাথে টেক জায়ান্ট গুগলকেও (Google) নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যাতে তাদের প্ল্যাটফর্মে এমন কনটেন্ট না ছড়ায়।

মামলার পেছনের প্রেক্ষাপট

২০২৩ সালে বাবা অভিষেক বচ্চনের মাধ্যমে আরাধ্যা বচ্চন দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। বেশ কিছু ইউটিউব চ্যানেলে ভুয়া খবর প্রকাশ করা হয়েছিল যে আরাধ্যা গুরুতর অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি, এমনকি কিছু জায়গায় তাঁর মৃত্যুর মতো কুরুচিকর গুজবও ছড়ানো হয়। বচ্চন পরিবার ইচ্ছাকৃতভাবে চিকিৎসার দেরি করছে বলেও অভিযোগ আনা হয়েছিল। এসব মিথ্যা খবরের বিরুদ্ধে আদালতের কাছে আইনি সুরক্ষা চান আরাধ্যা।

আদালত জানিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নগুলোর ওপর ভিত্তি করে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে মামলাটির পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Priyanka Mukherjee

প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe