অমিতাভ বচ্চনের নাতনি এবং অভিষেক বচ্চন ও ঐশ্বর্য রাই বচ্চনের কন্যা আরাধ্যা বচ্চন-এর (Aaradhya Bachchan) স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ইউটিউবে ছড়ানো ভুয়া খবরের মামলায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও অভূতপূর্ব আইনি প্রশ্ন তুলল দিল্লি হাইকোর্ট। ২০২৩ সালে করা এই ব্যক্তিত্বের অধিকার (Personality Rights) ও সুরক্ষার মামলায় বৃহস্পতিবার শুনানি চলাকালীন আদালত প্রশ্ন তোলে, একটি পরিবারের নাম কি ট্রেডমার্কের মতো যুগের পর যুগ বংশপরম্পরায় সুরক্ষা পেতে পারে?

বিচারপতি অনুপ জয়রাম ভাম্বানির (Justice Anup J Bhambhani) একক বেঞ্চ এই মামলার শুনানিতে ট্রেডমার্কের সাথে ব্যক্তির ভাবমূর্তি ও পারিবারিক খ্যাতির প্রার্থক্যের বিষয়টি তুলে ধরেন।
দিল্লি হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও প্রশ্নসমূহ
শুনানি চলাকালীন বিচারপতি ভাম্বানি উল্লেখ করেন, কোনো পণ্যের সাথে ট্রেডমার্ক বা ব্র্যান্ডের নাম যুক্ত থাকে। কিন্তু কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিষয়টির প্রেক্ষাপট আলাদা। আদালত মূলত নিম্নলিখিত আইনি প্রশ্নগুলো বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করে:
পারিবারিক নামের স্বত্বাধিকারের সীমা: আদালত প্রশ্ন তোলে, "যদি কোনো পারিবারিক নামকে ট্রেডমার্কের মতো সমান সুনামের অধিকারী ধরা হয়, তবে কাজের সাফল্য বা খ্যাতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সেই সম্মান বংশপরম্পরায় কত দূর বা কত প্রজন্ম পর্যন্ত সুরক্ষার আওতায় থাকবে?"
আইপিআর (IPR) লঙ্ঘন কি না: ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর খবর—তা যতই 'কুরুচিকর বা নীতিহীন' প্রকৃতির হোক না কেন—তা প্রকাশ করা আদৌ কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি অধিকারের (Intellectual Property Rights) লঙ্ঘন কি না? এবং লঙ্ঘন হলে তা কোন আইপিআর-এর আওতায় পড়বে?
আরাধ্যা বচ্চনের পক্ষে আইনজীবী প্রবীণ আনন্দ আদালতে সওয়াল করে জানান যে, পুরো বচ্চন পরিবারের ছবি ও নাম ব্যবহার করে মিথ্যা খবর ছড়ানো হচ্ছে এবং এই ধরনের ভুয়া খবর তাদের অর্জিত সম্মান ও 'গুডউইল' (Goodwill) নষ্ট করছে।
{{/usCountry}}আরাধ্যা বচ্চনের পক্ষে আইনজীবী প্রবীণ আনন্দ আদালতে সওয়াল করে জানান যে, পুরো বচ্চন পরিবারের ছবি ও নাম ব্যবহার করে মিথ্যা খবর ছড়ানো হচ্ছে এবং এই ধরনের ভুয়া খবর তাদের অর্জিত সম্মান ও 'গুডউইল' (Goodwill) নষ্ট করছে।
{{/usCountry}}চাইল্ড রাইটস ও পূর্ববর্তী রায়
এর আগে ২০২৩ সালের ২০ এপ্রিল দিল্লি হাইকোর্ট বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলকে আরাধ্যার স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ভুয়া খবর ও ভিডিও প্রদর্শনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। সেই সময় আদালত কড়া পর্যবেক্ষণ জানিয়ে বলেছিল:
"একটি শিশুকে নিয়ে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর ও স্পর্শকাতর ভুয়া তথ্য ছড়ানো মানসিক বিকৃতির পরিচয়। আইনের চোখে এটা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিটি শিশুর সম্মান ও শ্রদ্ধার সাথে বেঁচে থাকার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।"
একই সাথে টেক জায়ান্ট গুগলকেও (Google) নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যাতে তাদের প্ল্যাটফর্মে এমন কনটেন্ট না ছড়ায়।
মামলার পেছনের প্রেক্ষাপট
২০২৩ সালে বাবা অভিষেক বচ্চনের মাধ্যমে আরাধ্যা বচ্চন দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। বেশ কিছু ইউটিউব চ্যানেলে ভুয়া খবর প্রকাশ করা হয়েছিল যে আরাধ্যা গুরুতর অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি, এমনকি কিছু জায়গায় তাঁর মৃত্যুর মতো কুরুচিকর গুজবও ছড়ানো হয়। বচ্চন পরিবার ইচ্ছাকৃতভাবে চিকিৎসার দেরি করছে বলেও অভিযোগ আনা হয়েছিল। এসব মিথ্যা খবরের বিরুদ্ধে আদালতের কাছে আইনি সুরক্ষা চান আরাধ্যা।
আদালত জানিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নগুলোর ওপর ভিত্তি করে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে মামলাটির পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।