...
...
Next Story

Supriya-Uttam Daughter: সোমা উত্তম কুমারের দত্তক সন্তান আদালতে প্রমাণ হয়নি,সুপ্রিয়া-কন্যা সহজে মেনেছিলেন মায়ের ‘পরকীয়া’?

১৯৮৯ সালে কলকাতা হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে আইনি জটিলতার কারণে মহানায়ক উত্তম কুমারের দত্তক কন্যা হিসেবে সোমার দাবি খারিজ হয়ে গিয়েছিল। আদালতের নথিতে আইনের কঠোর অনুশাসনে সোমা হয়তো উত্তরাধিকারী হতে পারেননি, কিন্তু রূপোলি পর্দার আড়ালে যে বাস্তব জীবনটা গড়ে উঠেছিল, তার রূপরেখা ছিল একেবারে অন্যরকম।

Published on: Jul 28, 2026, 09:01:49 IST
Advertisement

মহানায়ক উত্তম কুমার ও সুপ্রিয়া দেবীর সম্পর্কের রসায়ন নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই আজও। অনেকেই সুপ্রিয়া দেবীকে 'রক্ষিতা' বলে কটাক্ষ করেছেন। জীবদ্দশায় কম গঞ্জনা সহ্য করেননি বাংলা চলচ্চিত্রের এই প্রবাদ প্রতিম নায়িকা। তবুও ‘আপনাদের দাদা’ (উত্তম কুমার) এই শব্দবন্ধ ছাড়া মিডিয়ার সামনে তাঁর একটা বাক্যও যেন সম্পূর্ণ হত না। উত্তম কুমার তাঁর জীবনের শেষ দু-দশক কাটিয়েছেন সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গে। সমাজের চোখে সেটা লিভ-ইন সম্পর্ক হলেও উত্তম কুমার কিন্তু সুপ্রিয়া দেবীকে বিয়ে করেছিলেন। যদিও সেই বিয়ের আইনি স্বীকৃতি ছিল না। কারণ উত্তম কুমার কোনওদিন তাঁর স্ত্রী গৌরী দেবীকে ডিভোর্স দেননি। হিন্দু বিবাহ আইন অনুসারে তাঁর দ্বিতীয় বিয়ে অবৈধ। তবুও এই সম্পর্কের মর্যাদায় আঁচড় কাটতে দেননি সুপ্রিয়া দেবী।

সোমা উত্তম কুমারের দত্তক কন্যা আদালতে প্রমাণ হয়নি,মায়ের 'পরকীয়া' মেনেছিলেন সহজে?
সোমা উত্তম কুমারের দত্তক কন্যা আদালতে প্রমাণ হয়নি,মায়ের 'পরকীয়া' মেনেছিলেন সহজে?

উত্তম কুমারের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষ্য়ে এক সাক্ষাৎকারে ঠাকুর্দার অতীত নিয়ে কথা বলে বিতর্কের আগুন জ্বালিয়েছেন নবমিতা চট্টোপাধ্যায়। ঠাকুর্দার সঙ্গে সুপ্রিয়া দেবীর সম্পর্ক, তাঁর মৃত্যুর পর সুপ্রিয়া দেবীর উত্তম কুমারের সম্পত্তির ভাগ দাবি করা নিয়ে বেশ কিছু কথা বলেন নবমিতা। সেই নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। একথা ঠিক, মহানায়কের মৃত্যুর পর সম্পত্তির ভাগ চেয়ে আইনি চিঠি এসেছিল, মামলাও চলে প্রায় এক দশক। তবে সেই মামলা করেছিলেন উত্তম কন্যা (তেমনই দাবি) সোমা চট্টোপাধ্যায়। যিনি অভিনেতা শন চট্টোপাধ্যায়ের মা।

অতীতে এক সাক্ষাৎকারে উত্তমকুমারের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে খোলামেলা জবাব দিয়েছেন সোমা দেবী। তিনি টিভি নাইন বাংলাকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘একদিন জানতে পারি উত্তমকুমারের সঙ্গে মায়ের (সুপ্রিয়া দেবী) সম্পর্ক আছে। খুব ছোট ছিলাম তো, সেরকম কোনও প্রতিক্রিয়া ছিল না আমার। তার উপর আমি বোর্ডিং স্কুলে পড়তাম। তবে এটুকু বলব, আমি মায়ের খুব বাধ্য মেয়ে ছিলাম। তিনি আমাকে যা বলতেন, আমি শুনতাম। মায়ের জীবনের একটা অধ্যায় ছিল সেটা। মা যাতে ভাল থাকে, সেটাই আমার প্রধান দেখার বিষয় ছিল। ফলে মায়ের উপরই সবটা ছেড়ে দিয়েছিলাম আমি। ওঁদের সম্পর্ক নিয়ে কোনও দিন নিজের মতামত প্রকাশ করিনি।’

এক জন ছোট্ট মেয়ের পক্ষে নিজের জন্মদাতা বাবাকে ছেড়ে অন্য এক পুরুষকে মায়ের পাশে মেনে নেওয়া মোটেও সহজ ছিল না। শুরুতে মানসিক টানাপোড়েন ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকলেও, সময় গড়াতে সেই বরফ গলতে শুরু করে। আর তার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিলেন স্বয়ং মহানায়ক।সেই ‘বাবি’ (পড়ুন বাবা)-র সঙ্গে কেমন সম্পর্ক ছিল সোমা চট্টোপাধ্যায়ের? তাঁকে কি বাবার আসনে বসাতে পেরেছিলেন? তাঁর জবাব অবাক করবে। সোমা চট্টোপাধ্যায় জানান, ‘আমি ব্রোকেন ফ্যামিলির মেয়ে। প্রত্যেক মেয়ের মতো আমিও বাবাকে ভালবেসেছিলাম। বাবা চলে গেলেন অন্যত্র। তাই পাঁচ বছর বয়স থেকে আমার জীবন মা-কেন্দ্রিক হয়ে গেল। অনেক ছোটবেলা থেকে উত্তমকুমারকে আমাদের বাড়িতে এসে থাকতে দেখেছি। মা যা করেছেন, আমি তাই-ই মেনে নিয়েছি। তাই আপনার এই প্রশ্নের উত্তর আমি ঠিক মতো দিতে পারব না। উত্তমকুমার একজন ফিল্মস্টার ছিলেন। মায়ের সঙ্গে তিনি থাকতেন ঠিকই, কিন্তু নিজের পরিবারকে ত্যাগ করতে পারেননি। আমার মনে হত, তিনি যথেষ্ট শক্ত মানুষ নন। আমার মাকেই অনেক বেশি শক্ত (স্ট্রং) মানুষ বলে মনে হয়েছে চিরকাল।’

 
ABOUT THE AUTHOR
Priyanka Mukherjee

প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe