অসমে চরম আকার ধারণ করেছে বন্যা পরিস্থিতি। সেই ভয়াবহ বন্যায় নিজের ভিটেমাটি এবং পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানাতে গিয়ে সোশাল মিডিয়ায় অঝোরে কেঁদে ফেললেন জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী দেবলীনা ভট্টাচার্য (Devoleena Bhattacharjee)। শিবসাগরের নাজিরায় অভিনেত্রীর বৃদ্ধা মা এখনও আটকে রয়েছেন এবং বহু আত্মীয়-স্বজনের বাড়িঘর সম্পূর্ণ জলে ডুবে গেছে বলে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন অভিনেত্রী।

‘সব শেষ হয়ে গেছে…’— অঝোরে কাঁদলেন দেবলীনা
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেবলীনা নিজের উদ্বেগ ও অসহায়তার কথা প্রকাশ করেন। দেবলীনার জন্ম ও বেড়ে ওঠা অসমের শিবসাগর ও নাজিরায়। ওঁর মা এখনও নাজিরায় বন্যাকবলিত এলাকায় আটকে রয়েছেন।অভিনেত্রীর মামা, মাসি, দিদিমা সবার বাড়ি বন্যায় পুরোপুরি ডুবে গেছে। কান্নাভেজা কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘সব শেষ হয়ে গেছে, আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। আমি ভিডিও বানাতে পারছিলাম না কারণ জানতাম মুখ খুললেই কেঁদে ফেলব।’ তিনি আরও বলেন, ‘পথ-পশুরা মারা যাচ্ছে, গৃহপালিত পশুরা একের পর এক অসুস্থ হয়ে পড়ছে। জানি না কবে সব ঠিক হবে’।
দেবলীনা বলেন, ‘আমার সবচেয়ে বড় আফসোস আমি ওখানে যেতে পারছি না। কারণ আপনারা জানেন আমার একটা দুধের শিশু আছে। আমার এত অসহায় লাগছে, আমি ছোট থেকে দেখছি অসমে বন্যা হয়। তবে এইরকম বন্যা আগে দেখেনি।’
অসহায় বোধ করলেও দেবলীনা একা হাত গুটিয়ে বসে থাকেননি। তিনি দুর্গতদের জন্য খাদ্য ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভর্তি ট্রাক পাঠাচ্ছেন এবং সামাজিক মাধ্যমে অনুরাগীদেরও অসমের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
{{/usCountry}}অসহায় বোধ করলেও দেবলীনা একা হাত গুটিয়ে বসে থাকেননি। তিনি দুর্গতদের জন্য খাদ্য ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভর্তি ট্রাক পাঠাচ্ছেন এবং সামাজিক মাধ্যমে অনুরাগীদেরও অসমের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
{{/usCountry}}অসমের বন্যা পরিস্থিতি ও সরকারি ত্রাণ
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, অসমের বন্যা পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। চলতি বছর অসমে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫-তে এবং প্রায় ১.৩৫ লাখ মানুষ এই প্লাবনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
১৬০ কোটি টাকার অন্তর্বর্তী ত্রাণ
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma) উজান অসমের (Upper Assam) ডিব্রুগড় থেকে প্রথম কিস্তিতে প্রায় ১৬০ কোটি টাকার অন্তর্বর্তী ত্রাণ রূপায়ণের কাজ শুরু করেছেন।
পরিবার পিছু সাহায্য: সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিবসাগর, চরাইদেও, জোরহাট ও গোলাঘাট জেলার প্রায় ৭৫,০০০ পরিবারকে বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার জন্য ১৫,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর’ প্রকল্পের সুবিধাও দুর্গতদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।