ভারতীয় বিপ্লবের ইতিহাসে অনন্য ও বিতর্কিত এক ব্যক্তিত্ব অনন্ত সিং। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের অন্যতম নায়ক, আবার পরবর্তীতে নিজের প্রতিষ্ঠিত ‘ম্যান-মানি-গান’ (MMG) গ্রুপের মাধ্যমে কলকাতার ব্যাঙ্ক ডাকাতির মাস্টারমাইন্ড। তাঁর আত্মজীবনী ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’ বইটিকে অবলম্বন করে সিনেমা নির্মাণ করেছেন পরিচালক পথিকৃৎ বসু। যেখানে মুখ্য ভূমিকায় দর্শক দেখবে সুপারস্টার জিৎ-কে। রাতপোহালেই ছবি মুক্তি। কিন্তু এই কাহিনির নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে বলিপাড়ার এক অসম্পূর্ণ ও গভীর আবেগঘন ইতিহাস, যা শেয়ার করেছেন চিত্রনাট্যকার-গবেষক অর্কদীপ নাথ।

তিগমাংশু ধুলিয়া ও ইরফান খানের সেই অধরা প্রজেক্ট
বছর কয়েক আগে বলিউডের খ্যাতনামা পরিচালক তিগমাংশু ধুলিয়া অনন্ত সিংয়ের জীবন নিয়ে হিন্দি ছবি বানানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন, এমনটাই দাবি অর্কদীপের। ছবির শিরোনাম রাখা হয়েছিল ‘ম্যান মানি গান’ (যা অনন্ত সিংয়ের রাজনৈতিক ও সশস্ত্র দলের নামের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত)।
রিসার্চ ও রাইটিং টিমে ছিলেন কলকাতার পরিচিত মুখ অর্ক দেব ও অর্কদীপ নাথ। সেই নিয়ে দীর্ঘদিন চলেছে অক্লান্ত ছোটাছুটি ও তথ্য সংগ্রহ। পরিচালক তিগমাংশু ধুলিয়া এই বায়োপিকের নামভূমিকায় চূড়ান্ত করেছিলেন তাঁর প্রিয় বন্ধু ও বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ইরফান খান-কে।
প্রজেক্ট বন্ধ হওয়া: চিত্রনাট্য সম্পূর্ণ হয়েছিল, প্রি-প্রোডাকশনও শুরুর মুখে। ঠিক সেই সময়েই ঘটে যায় ট্র্যাজেডি— ২০২০ সালে অকালপ্রয়াণ ঘটে ইরফান খানের। প্রিয় বন্ধু তথা ছবির মূল চরিত্রকে হারিয়ে মানসিকভাবে ভীষণ ভেঙে পড়েন তিগমাংশু ধুলিয়া। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি সেদিন বলেছিলেন, ‘মেঁরা অনন্ত চলা গয়া’।
পরবর্তীতে অভিনেতা জয়দীপ আহলাওয়াত-কে নিয়ে ছবিটি এগোনার ভাবনা হলেও, মানসিক শূন্যতার কারণে শেষ পর্যন্ত ছবিটি আর হয়ে ওঠেনি। উল্লেখ্য, জয়দীপ এর আগে বেদব্রত পাইনের ‘চট্টগ্রাম’ ছবিতে মনোজ বাজপেয়ীর (মাস্টারদা) পাশে অনন্ত সিংয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।
{{/usCountry}}পরবর্তীতে অভিনেতা জয়দীপ আহলাওয়াত-কে নিয়ে ছবিটি এগোনার ভাবনা হলেও, মানসিক শূন্যতার কারণে শেষ পর্যন্ত ছবিটি আর হয়ে ওঠেনি। উল্লেখ্য, জয়দীপ এর আগে বেদব্রত পাইনের ‘চট্টগ্রাম’ ছবিতে মনোজ বাজপেয়ীর (মাস্টারদা) পাশে অনন্ত সিংয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।
{{/usCountry}}ক্লাউড থেকে রুপোলি পর্দায়
চিত্রনাট্যকার অর্কদীপ নাথ আবেগপ্রবণ হয়ে স্মরণ করেন যে, সেই ‘ম্যান মানি গান’-এর স্ক্রিপ্ট ও প্রেজেন্টেশন এখনও তাঁর ক্লাউডে সযত্নে রাখা রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘যদি ইরফান স্যার সেই স্ক্রিপ্ট খুঁজে নিয়ে কোনও প্যারালাল ভুবনে হয়ে ওঠেন অনন্ত সিং।’
যদিও হিন্দি প্রজেক্টটি বাস্তবায়িত হতে পারেনি, তবুও অগ্নিপুরুষ অনন্ত সিংয়ের জীবনগাথা যে অবশেষে আলোর মুখ দেখছে, তাতেই খুশি অর্কদীপ ও তাঁর টিম। পথিকৃৎ বসুর পরিচালনায় তৈরি ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’ ছবির জন্য অফুরান শুভেচ্ছা জনিয়েছেন তিনি।
অনন্ত সিংয়ের অজানা অধ্যায় এবং ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য এই বায়োপিক এক বড় উপহার হতে চলেছে।