পিত্তথলিতে সংক্রমণ ও বিশালাকৃতির পাথরের অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর বর্তমানে সুস্থতার পথে প্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ‘বিগ বস বাংলা’ প্রতিযোগী ঝিলম গুপ্ত। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গত বুধবার তাঁর গলব্লাডার-স্টোনের সফল অস্ত্রোপচারের খবর মিলতেই সহ-প্রতিযোগী-বন্ধুরা তাঁকে দেখতে হাসপাতালে উপস্থিত হন।

হাসপাতালের কেবিন থেকে ঝিলমকে কেন্দ্র করে তোলা বেশকিছু ছবি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন সাবেক ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাস এবং অভিনেত্রী সোহিনী পাল।
‘ঈশ্বরের কাছে দ্রুত আরোগ্য কামনা’: দীপেন্দু বিশ্বাসের পোস্ট
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ঝিলমের বেডের পাশে দাঁড়িয়ে আবেগঘন এক বার্তা দেন দীপেন্দু বিশ্বাস। ছবিতে দেখা যায়, বেডে শুয়ে থাকা হাসিমুখের ঝিলমের হাত ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তাঁর বিশেষ বান্ধবী পৌলমী। পাশে গিয়ে উপস্থিত হয়েছেন দীপেন্দু বিশ্বাস, অভিনেত্রী সোহিনী পাল। যন্ত্রণার জেরে কাহিল ঝিলম, তবে কাছের মানুষদের পাশে পেয়ে মুখ খানিক স্বস্তির হাসি।
সামাজিক মাধ্যমে ছবিটি পোস্ট করে দীপেন্দু লেখেন, ‘আমাদের সকলের স্নেহের ঝিলামের সফল অপারেশন হওয়ার পর তাকে দেখতে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ঈশ্বরের কাছে ঝিলামের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।’
‘সিজনের সবচেয়ে বড় এলিমিনেশন!’ সোহিনী পালের মজাদার মন্তব্য
অন্যদিকে, ‘বিগ বস বাংলা’-র স্টাইলে পুরো ঘটনাটিকে এক রসময় ও মজাদার কোণ থেকে ব্যাখ্যা করেছেন সহ-প্রতিযোগী সোহিনী পাল। হাসপাতালে ঝিলমের সঙ্গে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে তোলা ছবি শেয়ার করে সোহিনী লেখেন, বিগ বসের ঘর থেকে এলিমিনেশন হলেও এই সিজনের সবচেয়ে বড় এলিমিনেশন ছিল ঝিলমের পেটের সেই পিত্তথলির পাথরটি, যা অনাহূত অতিথি হিসেবে এতদিন ধরে ঝিলমকে যন্ত্রণা দিচ্ছিল! ছবিতে দেখা মিলেছে আলেকজান্দ্রা টেলরেরও।
দ্রুত আরোগ্যের পথে ঝিলম:
জটিল ও দীর্ঘ দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার পর ঝিলম এখন অনেকটাই স্বস্তিতে রয়েছেন। বন্ধুদের এভাবে পাশে পাওয়া এবং সোশাল মিডিয়ায় প্রিয়জন ও ভক্তদের ক্রমাগত প্রার্থনায় দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন তিনি।
এদিন নিজেও ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট করেন ঝিলম। সেখানে তিনি জানান, তাঁর কেসটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ বা ক্রিটিক্যাল হয়ে উঠেছিল। যে অপারেশন আধ ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা, সেখানে তাঁর ক্ষেত্রে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। স্বাভাবিকভাবেই অপারেশনের পর পেটের ব্যথা ও শারীরিক কষ্ট অন্যান্য রোগীদের চেয়ে একটু বেশি হওয়াটাই ছিল স্বাভাবিক।
এছাড়া আয়া মাসিদের উদ্দেশ্য শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা জানান বিগ বস প্রতিযোগী। ঝিলম লেখেন- 'আমি জীবনে বহুবার অসুস্থ হয়েছি, কিন্তু বিছানায় শুয়ে হিসু করার পরিস্থিতি কখনও তৈরি হয়নি। তবে এবারে হয়েছে। বলতে লজ্জা নেই, শ্রদ্ধায় অবনত হতে বাধা নেই এই দুটি মানুষের কাছে, আমার জন্য তারা বেডপ্যান ধরেছেন। আমাকে পরিষ্কার থাকতে সাহায্য করেছেন।'
লজ্জা ভুলে ও পরম শ্রদ্ধায় মাথা নত করে ঝিলম স্বীকার করেছেন— ওই দুজন মানুষ হাসিমুখে তাঁর বেডপ্যান ধরেছেন এবং তাঁকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সাহায্য করেছেন।