কলকাতার সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্রস্থল নন্দন চত্বরে রবিবার মধ্যরাতে বসেছিল চাঁদের হাট। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মেগা ফাইনালে আর্জেন্টিনা বনাম স্পেনের মহাযুদ্ধের লাইভ স্ক্রিনিং দেখতে হাজির হয়েছিলেন বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তবে সব আলো কেড়ে নিলেন রাজ্যের হেভিওয়েট মন্ত্রী তথা প্রখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পাল। একটা সময় ফ্যাশন ট্রেন্ড থাকত তাঁর নখদর্পণে। তবে রাজনীতিতে আসবার পর থেকে সে-সব থেকে দূরে অগ্নিমিত্রা পাল। সম্প্রতি এক অ্যাওয়ার্ড সেরেনামির রেড কার্পেটে তাঁকে বলতে শোনা গেছে, ‘এখন আর দামী শাড়ি পরি না’।

বাড়িতে নামী-দামী শাড়ির ভাণ্ডার, সাজানো অসংখ্য় স্টিলেটো। তবে আজকাল তাঁত বা সুতির শাড়ি এবং স্নিকার্সেই নিজেকে সাজান অগ্নিমিত্রা। কারণ রাজনীতির ময়দানে নিজেকে বেমানান প্রমাণ করতে চান না বিজেপি নেত্রী।
সবসময় চেনা সুতির শাড়ির চেনা ছক ভেঙে এদিন একেবারে স্পোর্টি লুকে হাজির হয়ে তাক লাগিয়ে দিলেন তিনি। আর্জেন্টিনার কড়া সমর্থক মন্ত্রীকে দেখা গেল লিয়োনেল মেসির দলের নীল-সাদা জার্সি গায়ে।
অগ্নিমিত্রা পালের ‘ফুটবল লুক’ ডিকোড
ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে অগ্নিমিত্রার পোশাক জ্ঞান বরাবরের নজরকাড়া। এদিন নন্দনে খেলা দেখতে আসার জন্য তিনি যে আরামদায়ক অথচ স্টাইলিশ ফিউশন লুক বেছে নিয়েছিলেন। লিয়োনেল মেসির দেশের প্রতি নিজের সমর্থন স্পষ্ট করে নীল-সাদা স্ট্রাইপের অফিশিয়াল আর্জেন্টিনা ফুটবল জার্সি পরেছিলেন অগ্নিমিত্রা।
সুতির ঘাগরা-স্কার্ট ও ওড়না: জার্সির নিচে ট্র্যাডিশনাল জিন্স বা ট্রাউজার্স না পরে, তিনি বেছে নিয়েছিলেন ব্লক প্রিন্টের একটি সবুজ ও কালো কম্বিনেশনের আরামদায়ক সুতির সাবেকি পোশাক। সাথে ম্যাচিং করা সুতির ওড়নাটি ওঁর লুকে একটি ইন্দো-ওয়েস্টার্ন ফিউশন টাচ এনে দিয়েছে।
বরাবরের মতোই কপালে ওঁর চেনা বড় লাল টিপ, সিঁথিতে সিঁদুর, হাতে সাধারণ ঘড়ি ও নোয়া এবং পায়ে আরামদায়ক ফ্ল্যাট জুতো। রাজনীতির দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝেও এই স্পোর্টি ও ক্যাজুয়াল অবতার সামাজিক মাধ্যমে তুমুল প্রশংসিত হচ্ছে।
{{/usCountry}}বরাবরের মতোই কপালে ওঁর চেনা বড় লাল টিপ, সিঁথিতে সিঁদুর, হাতে সাধারণ ঘড়ি ও নোয়া এবং পায়ে আরামদায়ক ফ্ল্যাট জুতো। রাজনীতির দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝেও এই স্পোর্টি ও ক্যাজুয়াল অবতার সামাজিক মাধ্যমে তুমুল প্রশংসিত হচ্ছে।
{{/usCountry}}‘রাজনীতিতে দামি শাড়ি বেমানান’— কেন এমন সাজ?
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে অগ্নিমিত্রা পাল নিজের পোশাক পরিচ্ছদ নিয়ে এক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, আজকাল তিনি আর আগের মতো দামি শাড়ি পরেন না। ওঁর কথায়— ‘জনপ্রতিনিধি বা রাজনীতির ময়দানে যারা থাকেন, তাঁদের সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে মিশে যেতে হয়। কাদা-মাটি-রোদের মধ্যে দামি সিল্ক বা ডিজাইনার শাড়ি পরে ঘোরাটা রাজনীতির জগতের সাথে একেবারেই বেমানান।’
নিজের সেই বক্তব্যকে সত্যি প্রমাণ করতেই যেন রবিবাসরীয় রাতে কোনো জাঁকজমক ছাড়াই স্রেফ সাধারণ সুতির স্কার্ট আর প্রিয় দলের জার্সি গায়ে নন্দনে হাজির হন মন্ত্রী।
নন্দনে টানটান ফাইনাল: খেলার ফলাফল
নন্দন ১-এর বিশাল পর্দায় তখন চলছে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের কাপ যুদ্ধ। গ্যালারিতে বসে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের মতোই চেঁচিয়ে, হাততালি দিয়ে ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেন অগ্নিমিত্রা। স্পেন ও আর্জেন্টিনার এক তরফা ফাইনালে শেষ হাসি হাসল লাল-হলুদ শিবির। মেসির আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ দখলে নিল স্পেন। হার দিয়েই শেষ হল মেসির আর্ন্তজাতিক ফুটবল।