...
...
Next Story

Bhaskar-Rahul: 'কাজ কেড়ে নেওয়ার অধিকার কে দিল?’ রাহুল-কাণ্ডে ফোরামকে বিঁধল ভাস্কর, জুটল ‘মেরুদণ্ডহীন’ কটাক্ষ

অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকালপ্রয়াণ টলিউডকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া জটিলতা এখন সাধারণ কলাকুশলীদের ‘ভাতের হাঁড়ি’তে টান ফেলেছে। অভিনেতা ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এবার সরাসরি তোপ দাগলেন আর্টিস্ট ফোরামের বিরুদ্ধে।

Published on: May 14, 2026, 10:45:52 IST
Advertisement

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণের ক্ষত এখনও টাটকা। কিন্তু সেই শোকের আবহেই এবার উত্তাল টলিপাড়া। অভিনেতা ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। আর্টিস্ট ফোরামের কিছু ‘হঠকারী’ সিদ্ধান্তের কারণে দেড় মাস ধরে কাজ হারিয়েছেন অসংখ্য শিল্পী ও টেকনিশিয়ান। সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে ভাস্কর লিখেছেন, 'আর্টিস্ট ফোরামের কাজ দেওয়ার ক্ষমতা যখন নেই, তখন কাজ কেড়ে নেওয়ার অধিকার তাদের কে দিল?

'কাজ কেড়ে নেওয়ার অধিকার কে দিল?’ ফোরামকে বিঁধল ভাস্কর, জুটল ‘মেরুদণ্ডহীন’ কটাক্ষ
'কাজ কেড়ে নেওয়ার অধিকার কে দিল?’ ফোরামকে বিঁধল ভাস্কর, জুটল ‘মেরুদণ্ডহীন’ কটাক্ষ

ঠান্ডা ঘরে বসে বড় বড় কথা:

লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের নিয়মিত অভিনেতা ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। রাহুল প্রয়াণের পরপর সিরিয়ালের প্রযোজনা সংস্থার উপর পোশাকি নিষেধাজ্ঞা জারি করে আর্টিস্ট ফোরাম। জানানো হয়, ফোরামের কোনও শিল্পী ম্যাজিক মোমেন্টস প্রয়োজনার সঙ্গে কাজ করবে না। বন্ধ হয়ে যায়, প্রোডাকশনের চলতি দুই মেগা- চিরসখা এবং ভোলে বাবা পার করেগা। এতেই ক্ষুব্ধ অভিনেতা। তাঁর অভিযোগ, যাঁরা ফোরামকে ‘ছাতা’ মনে করে বাৎসরিক চাঁদা দেন, আজ সংকটের দিনে ফোরাম তাঁদের পাশেই নেই। ভাস্করের স্পষ্ট বার্তা, ‘ঠান্ডা ঘরে বসে বড় বড় কথা না বলে মাঠে নেমে দেখুন নিজের সভ্যদের কীভাবে রক্ষা করা যায়।’

ক্ষতিগ্রস্ত কারা?

ভাস্করের মতে, কাজ বন্ধ হওয়ার ফলে চ্যানেল বা প্রযোজক— কারওরই ব্যক্তিগত কোনও ক্ষতি হয়নি। চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সেই সব নিরপরাধ শিল্পী ও টেকনিশিয়ানরা, যাঁদের প্রতিদিনের উপার্জনের ওপর সংসার চলে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, তদন্ত তদন্তের পথে চলুক, কিন্তু তার জন্য দেড় মাস ধরে কিছু মানুষকে বেকার করে রাখা কোন ধরনের বিচার?

আর্টিস্ট ফোরামের পদাধিকারীদের উদ্দেশে ভাস্করের সতর্কবাণী— শুধু নাম কেনার জন্য বা নিজেদের দিকে তাকিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন না। সংগঠনের সভ্যদের কথা না ভাবলে ‘শেষের সেদিন আর বেশি দূরে নয়।’ তাঁর এই পোস্টের নিচে সহমত পোষণ করেছেন ইন্ডাস্ট্রির আরও অনেকে।

আবার অনেকে বর্ষীয়ান অভিনেতাকে বিঁধতেও ছাড়েননি। সিরিয়াল পাড়ার চেনা মুখ পরিচালক পারোমিতা মুন্সী। ভাস্করের এই ভাবনাকে ‘আত্মকেন্দ্রিক’ বলে মনে করেছেন পারোমিতা। তিনি লেখেন, ‘হটকারি সিদ্ধান্ত?!! আগামীকাল বিনা পারমিশনে শুটিং করতে গিয়ে কারও মৃত্যু হলে, তার দায় যখন প্রোডাকশন হাউস নেবে না, উল্টে মৃত ব্যক্তির ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দেবে, তখন আপনি দায়িত্ব নেবেন তো?!! ৯৯% আর্টিস্ট যাদের সঙ্গে কাজ করতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, তাদের সিদ্ধান্তকে মান্যতা দিয়েছে আর্টিস্ট ফোরাম। ফেডারেশন সাপোর্ট করেছে তাতে। একটা বিশেষ হাউসের ২ টি সিরিয়ালের অনন্তকালের আয়ু থাকে না। সেটা বন্ধ হলে সংশ্লিষ্ট কলা কুশলীদের জীবন বিপন্ন হয়, প্রথম শুনলাম। …….আপনারও তো সন্তান আছে। একবার রাহুলের মা কাকীমার জুতোতে পা গলিয়ে, পরিস্থিতি বিচারের অনুরোধ রইল স্যার। সিনিয়র এক্টর আপনি। যা লিখেছেন, ভেবে চিন্তেই হয়তো লিখেছেন। কিন্তু সেই ভাবনাটা আত্মকেন্দ্রিক’।

রাহুল প্রয়াণের যন্ত্রণা যেমন গভীর, তেমনই পেটের টান যে আরও ভয়াবহ, ভাস্করের এই ফেসবুক পোস্ট যেন টলিউডের সেই রূঢ় বাস্তবটাকেই সামনে এনে দিল। এখন দেখার, ফোরামের ‘মাথা’রা এই অভিযোগের জবাবে কোনও সদর্থক পদক্ষেপ করেন কি না।

 
ABOUT THE AUTHOR
Priyanka Mukherjee

প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe