সোমবার রাত থেকেই বদলে যাচ্ছে বাংলা টেলিভিশনের ‘দিদি’। রচনার জায়গা নিচ্ছেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্য়ায়। দিদি নম্বর ১ আর রচনা বন্দ্যোপাধ্য়ায়, দুটো সমার্থক শব্দ তা অস্বীকার করার জো নেই। শো থেকে বাদ পড়া নিয়ে এবার বোমা ফাটালেন রচনা।

বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিকেলবেলা বাঙালির ড্রয়িংরুমে একচেটিয়া রাজত্ব করেছেন ‘দিদি নম্বর ১' রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেখান থেকে তাঁর এই আকস্মিক বিদায় কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না অনুরাগীরা।
বাদ পড়ার পর স্বাভাবিকভাবেই মন ভালো নেই রচনার। সম্প্রতি টিভি নাইন বাংলা-কে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে নিজের অভিমান, কষ্ট এবং এই শো-এর সাথে জড়িয়ে থাকা একরাশ আবেগের কথা উজাড় করে দিলেন টলিউডের এই প্রথম সারির অভিনেত্রী।
‘দিদি নম্বর ১ আমার নিজের সন্তানের মতো’— স্মৃতিকাতর রচনা
পুরনো দিনের কথা মনে করে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এই শো-এর সঙ্গে তাঁর আত্মিক যোগ কতটা গভীর।
স্মৃতির পাতা উল্টে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের বয়স যখন মাত্র ৩ বছর, সেই সময় থেকে আমি দিদি নম্বর ওয়ান করছি। আমার কাছে এই শো আমার নিজের সন্তানের মতো। ছেলেকে যেভাবে আগলে বড় করেছি, দিদি নম্বর ওয়ানকেও ঠিক সেভাবেই তিল তিল করে বড় করেছি। এমন দিনও গিয়েছে, যখন ছেলেকে সময় দিতে হবে আবার শো-এর শুটিংও সামলাতে হবে। তাড়াহুড়ো করে মেট্রো চড়ে বাড়ি ফিরেছি। রাতে শুটিং শেষ করে রাস্তায় যাতে কেউ চিনতে না পারে, তাই বোরখা পরে বাড়ি ফিরতাম। এই শো-এর সঙ্গে আমার ঠিক এমন একটা অনুভূতি জড়িয়ে রয়েছে।’
বাদ পড়ার পেছনে কি রাজনৈতিক কারণ?
{{/usCountry}}বাদ পড়ার পেছনে কি রাজনৈতিক কারণ?
{{/usCountry}}সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বা তৃণমূলের লোকসভা/বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের সাথে কি তাঁর এই বাদ পড়ার কোনও যোগ রয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তরে রচনা স্পষ্ট জানান, এর সঙ্গে রাজনীতির সরাসরি কোনও যোগ নেই বলেই তাঁর মনে হয়। তবে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ, পরিচালক বা প্রযোজক নেপথ্যে কী ভেবেছেন, তা তাঁর জানা নেই।
রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনেই রচনা জীবনের এক বড় সত্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘তৃণমূলের এই ভরাডুবি মানুষকে অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে গিয়েছে। এটা শেখাল যে, মানুষের সামনে সবসময় ভদ্র এবং সভ্যভাবে আসতে হবে। মনে কোনও দম্ভ রাখা চলবে না। নিজের ভাষা ও শব্দের প্রতি সচেতন হতে হবে। আর সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো— কোনও কিছুই চিরস্থায়ী নয়। একটা আসবে, অন্যটা চলে যাবে।’
বিদায়ের প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমান
শো থেকে বাদ পড়া নিয়ে রচনার আক্ষেপ অন্য জায়গায়। তিনি মনে করেন পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী, কিন্তু যেভাবে তাঁকে আকস্মিক সরানো হলো, সেই অপমানজনক প্রক্রিয়াটি তিনি মেনে নিতে পারছেন না।
অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি কখনই ভাবিনি যে আমি যতদিন বাঁচব, ততদিনই দিদি নম্বর ওয়ান করে যাব। এটা হতে পারে না। একজন আসবে, একজন যাবে— এটাই নিয়ম। কিন্তু জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ কোনও কিছু যখন শেষ করতে হয়, তখন সেটা খুব সুন্দরভাবে শেষ করা উচিত। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে যেভাবে পুরো বিষয়ট করা হলো, সেটা হওয়া উচিত হয়নি। এটা আমি অন্তত আশা করিনি। অন্য কেউ আসতেই পারে, কিন্তু যেভাবে গোটা ঘটনাটা ঘটল, তা আমি এক্সপেক্ট করতে পারিনি।’
চ্যানেল কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে পরোক্ষভাবে এক হাত নিয়ে রচনা বলেন, বিকেল সাড়ে চারটের ওই প্রাইম টাইম স্লটটা রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের তৈরি করা ছিল। নতুন যাকে আনা হচ্ছে, তাকে নিয়ে ওই টাইমটা ধরে রাখার সাহস হয়তো চ্যানেলের হয়নি। তাই শো-এর সময় বদলে রাতে দেওয়া হয়েছে। লড়াইটা কঠিন হয়ে যেত বলেই হয়তো ওরা অডিয়েন্স টার্গেটটাই চেঞ্জ করে দিল। রচনা স্পষ্ট জানান, পুরোটাই চ্যানেলের সিদ্ধান্ত। তাঁকে সরানোয় দিদি নম্বর ১ টিমের সকলে চোখের জল ফেলছে।