...
...
Next Story

Rachana Banerjee: ‘দিদি নম্বর ১ আমার সন্তানের মতো, টিমের সবাই চোখের জল ফেলেছে আমার জন্য…’, জি বাংলাকে চ্যালেঞ্জ রচনার!

‘যেভাবে আমাকে সরানো হলো তা আশা করিনি!’ ‘দিদি নম্বর ১’ থেকে বাদ পড়ে বিস্ফোরক রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, টানলেন রাজনীতির প্রসঙ্গও।

Published on: Jun 29, 2026, 20:49:31 IST
Advertisement

সোমবার রাত থেকেই বদলে যাচ্ছে বাংলা টেলিভিশনের ‘দিদি’। রচনার জায়গা নিচ্ছেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্য়ায়। দিদি নম্বর ১ আর রচনা বন্দ্যোপাধ্য়ায়, দুটো সমার্থক শব্দ তা অস্বীকার করার জো নেই। শো থেকে বাদ পড়া নিয়ে এবার বোমা ফাটালেন রচনা।

‘দিদি নম্বর ১ গোটা টিম চোখের জল ফেলেছে আমার জন্য…’, জি বাংলাকে চ্যালেঞ্জ রচনার!
‘দিদি নম্বর ১ গোটা টিম চোখের জল ফেলেছে আমার জন্য…’, জি বাংলাকে চ্যালেঞ্জ রচনার!

বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিকেলবেলা বাঙালির ড্রয়িংরুমে একচেটিয়া রাজত্ব করেছেন ‘দিদি নম্বর ১' রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেখান থেকে তাঁর এই আকস্মিক বিদায় কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না অনুরাগীরা।

বাদ পড়ার পর স্বাভাবিকভাবেই মন ভালো নেই রচনার। সম্প্রতি টিভি নাইন বাংলা-কে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে নিজের অভিমান, কষ্ট এবং এই শো-এর সাথে জড়িয়ে থাকা একরাশ আবেগের কথা উজাড় করে দিলেন টলিউডের এই প্রথম সারির অভিনেত্রী।

‘দিদি নম্বর ১ আমার নিজের সন্তানের মতো’— স্মৃতিকাতর রচনা

পুরনো দিনের কথা মনে করে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এই শো-এর সঙ্গে তাঁর আত্মিক যোগ কতটা গভীর।

স্মৃতির পাতা উল্টে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের বয়স যখন মাত্র ৩ বছর, সেই সময় থেকে আমি দিদি নম্বর ওয়ান করছি। আমার কাছে এই শো আমার নিজের সন্তানের মতো। ছেলেকে যেভাবে আগলে বড় করেছি, দিদি নম্বর ওয়ানকেও ঠিক সেভাবেই তিল তিল করে বড় করেছি। এমন দিনও গিয়েছে, যখন ছেলেকে সময় দিতে হবে আবার শো-এর শুটিংও সামলাতে হবে। তাড়াহুড়ো করে মেট্রো চড়ে বাড়ি ফিরেছি। রাতে শুটিং শেষ করে রাস্তায় যাতে কেউ চিনতে না পারে, তাই বোরখা পরে বাড়ি ফিরতাম। এই শো-এর সঙ্গে আমার ঠিক এমন একটা অনুভূতি জড়িয়ে রয়েছে।’

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বা তৃণমূলের লোকসভা/বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের সাথে কি তাঁর এই বাদ পড়ার কোনও যোগ রয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তরে রচনা স্পষ্ট জানান, এর সঙ্গে রাজনীতির সরাসরি কোনও যোগ নেই বলেই তাঁর মনে হয়। তবে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ, পরিচালক বা প্রযোজক নেপথ্যে কী ভেবেছেন, তা তাঁর জানা নেই।

রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনেই রচনা জীবনের এক বড় সত্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘তৃণমূলের এই ভরাডুবি মানুষকে অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে গিয়েছে। এটা শেখাল যে, মানুষের সামনে সবসময় ভদ্র এবং সভ্যভাবে আসতে হবে। মনে কোনও দম্ভ রাখা চলবে না। নিজের ভাষা ও শব্দের প্রতি সচেতন হতে হবে। আর সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো— কোনও কিছুই চিরস্থায়ী নয়। একটা আসবে, অন্যটা চলে যাবে।’

বিদায়ের প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমান

শো থেকে বাদ পড়া নিয়ে রচনার আক্ষেপ অন্য জায়গায়। তিনি মনে করেন পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী, কিন্তু যেভাবে তাঁকে আকস্মিক সরানো হলো, সেই অপমানজনক প্রক্রিয়াটি তিনি মেনে নিতে পারছেন না।

অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি কখনই ভাবিনি যে আমি যতদিন বাঁচব, ততদিনই দিদি নম্বর ওয়ান করে যাব। এটা হতে পারে না। একজন আসবে, একজন যাবে— এটাই নিয়ম। কিন্তু জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ কোনও কিছু যখন শেষ করতে হয়, তখন সেটা খুব সুন্দরভাবে শেষ করা উচিত। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে যেভাবে পুরো বিষয়ট করা হলো, সেটা হওয়া উচিত হয়নি। এটা আমি অন্তত আশা করিনি। অন্য কেউ আসতেই পারে, কিন্তু যেভাবে গোটা ঘটনাটা ঘটল, তা আমি এক্সপেক্ট করতে পারিনি।’

চ্যানেল কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে পরোক্ষভাবে এক হাত নিয়ে রচনা বলেন, বিকেল সাড়ে চারটের ওই প্রাইম টাইম স্লটটা রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের তৈরি করা ছিল। নতুন যাকে আনা হচ্ছে, তাকে নিয়ে ওই টাইমটা ধরে রাখার সাহস হয়তো চ্যানেলের হয়নি। তাই শো-এর সময় বদলে রাতে দেওয়া হয়েছে। লড়াইটা কঠিন হয়ে যেত বলেই হয়তো ওরা অডিয়েন্স টার্গেটটাই চেঞ্জ করে দিল। রচনা স্পষ্ট জানান, পুরোটাই চ্যানেলের সিদ্ধান্ত। তাঁকে সরানোয় দিদি নম্বর ১ টিমের সকলে চোখের জল ফেলছে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Priyanka Mukherjee

প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe