২০২৬ বিধানসভা ভোটে শাসক দলের বিরোধী হাওয়া ছিল প্রথম থেকেই। তবে সোমবার ৪ মে সব হিসেব-নিকেষ পালটে দিয়েছে নির্বাচনের ফল। ম্যাজিক ফিগার টপকে গিয়েছে বিজেপি, এদিকে ডবল ডিজিটে আটকে তৃণমূল! গেরুয়া আবিরে ইতিমধ্যেই রেঙে গিয়েছে উত্তরে দার্জিলিং থেকে শুরু করে দক্ষিণে সুন্দরবন। এরই মাঝে বামফ্রন্ট ও আইএসএফ জোট এগিয়ে ২টি আসনে। বঙ্গের হাওয়া বদল নিয়ে কী বলছেন পরিচালক, বাম-সমর্থক সৌরভ পালোধি?

বামেদের ফলে কি আশাহত? প্রচারে এত মানুষ, তাও কেন লালেদের হয়ে ভোট দিলেন না আমজনতা? হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার তরফে যোগাযোগ করা হলে সৌরভ পালোধি জানালেন, ‘সিপিএম একই জায়গায় দাঁড়িয়ে নেই তো। আর এটা আজকের দিনটা শেষ হলে বোঝা যাবে। সকলে বলে ব্রিগেডে তোমাদের এত লোক হয়, ভোট হয় না কেন! এটার সাথে আমি বরাবরই দ্বিমত পোষণ করি। ব্রিগেডে কত লোক হয়? ৫ লাখ লোক হয়, ৮ লাখ লোক হয়। কিন্তু ভোটে খুব খারাপ পার্সেন্টেজে থাকলেও তো আমরা ৫০ লাখ-৫৫ লাখ ভোট পাই। এটা আসলে মিডিয়ার তৈরি ন্যারেটিভ-- যত লোক হয়, তত ভোট হয় না! একটা জমায়েতে একসঙ্গে দেখলে মনে হয়, এত লোক, তাও হেরে গেল!’
‘মানুষ এই যে তৃণমূল অ্য়ান্টি তৃণমূল ভোট দিয়েছে, এটা বোঝা যাচ্ছে পরিষ্কার। আমি এতে খুশিও। বামেদের পক্ষে ভোট কম আসছে এখনো, সেটা দিন শেষে খানিক বাড়বে বলেই আমি আশাবাদী। আর আগেরবারের অবস্থানের থেকে এবারে বামেরা ভালো ফল করছে। করবেও। লেফট এবং আইএসএফ একসঙ্গে। সেটা আমার কাছে একটা বড় ইমপ্যাক্ট। মিডিয়া তো একটা বাইনারি তৈরি করেছিল, টিমসি না বিজেপি। ভোটের গণনার শো-তেও লেখা, পরিবর্তন না প্রত্যাবর্তন। এই পোলারাইজেশনের মাঝেখানে বামেরা আগের থেকে ভালো ফল করছে, এটা অনেক বেশি ইমপ্যাক্টফুল। এটা অনেক বেশি প্রয়োজনীয়। প্রমাণ যে, এই পোলারাইজেশনের বাইরেও ভোটটা গিয়েছে।’, বললেন সৌরভ।
সঙ্গে স্পষ্ট করলেন যে বিজেপি-র চোখে চোখ রেখে লড়ার জন্য প্রস্তুত বামবাহিনী। যেভাবে এতদিন তৃণমূলের করা সব ‘অন্যায়ের’ প্রতিবাদ করেছেন সিপিএম, এবারেও সেটাই করে যাবে। দাঁড়াবে খেটে খাওয়া মানুষের পাশে।
{{/usCountry}}সঙ্গে স্পষ্ট করলেন যে বিজেপি-র চোখে চোখ রেখে লড়ার জন্য প্রস্তুত বামবাহিনী। যেভাবে এতদিন তৃণমূলের করা সব ‘অন্যায়ের’ প্রতিবাদ করেছেন সিপিএম, এবারেও সেটাই করে যাবে। দাঁড়াবে খেটে খাওয়া মানুষের পাশে।
{{/usCountry}}সৌরভের কথায়, ‘আমার বিজেপিকে নিয়ে কোনো আশা নেই, বিজেপি আমার কাছে অপ্রয়োজনীয় একটা দল। আলাদা করে কোনো আশাই রাখছি না। ভালো কিছু হবে না, বরং আরও খারাপই হবে। আমি শুধু চাই যে, হিন্দু মুসলিম ভেদাভেদটা যেন না হয়। খুবই ভয় পশ্চিমবঙ্গে দাঁড়িয়ে। সেটা অক্ষুন্ন যাতে থাকে, সম্প্রীতিটা যাতে থাকে সেটা নিয়ে বামেরা যেমন আন্দোলনে থাকে, তেমনই থাকবে। বুঝতেই পারছ, যে হারে তৃণমূল এখন চলছে, সেটাই যদি থাকে, তৃণমূল খুবই তলার দিকে শেষ করবে আগের তুলনায়। ২০০ প্লাস থেকে ডবল ডিজিটে শেষ করবে, গোটা তৃণমূলটাই বিজেপির হয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস। এর আগে লড়ার জন্য তৃণমূলের বিরুদ্ধে বামেরা ছিল, বিজেপির বিরুদ্ধেও বামেরাই থাকবে। মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য বামেরা যেভাবে চিরকাল থেকেছে, সেরকমই থাকবে।’