মুম্বাইয়ের নবরাত্রি আর 'গরবা কুইন' ফাল্গুনী পাঠকের গান—যেন একে অপরের পরিপূরক। প্রতি বছরের মতো এবারও ২০২৬ সালের নবরাত্রির প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে শহরজুড়ে। তবে এবার ফাল্গুনীর সুমধুর কণ্ঠের সুরের চেয়ে বেশি চর্চায় উঠে এসেছে তাঁর লাইভ শো 'নবরাত্রি উৎসব ২০২৬' (Navratri Utsav 2026)-এর টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম!

সবচেয়ে সস্তা টিকিটের দাম শুরু হচ্ছে ২,২০০ টাকা থেকে, আর সর্বোচ্চ টিকিটের দাম পৌঁছে গেছে অবিশ্বাস্য ২.০৪ লাখ টাকায়! মুম্বাইয়ের জিও ওয়ার্ল্ড কনভেনশন সেন্টারে আগামী ১১ই অক্টোবর থেকে ১৯শে অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ৯ রাতের এই জাঁকজমকপূর্ণ উৎসব।
টিকিটের দামের এমন তফাত কেন?
বুকমাইশো সূত্রে জানা গেছে, এবার টিকিটের বিভিন্ন ক্যাটাগরি রাখা হয়েছে:
সিজন পাস (৯ রাতের জন্য): প্রথম ফেজের ‘আর্লি বার্ড’ টিকিটের দাম শুরু হয়েছিল ১৬,০০০ টাকা থেকে। সেকেন্ড ফেজে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮,০০০ টাকায়। বর্তমানে প্রতি ব্যক্তির ৯ দিনের সিজন পাসের দাম ২০,০০০ টাকা।
একদিনের টিকিট: মাত্র একদিনের জন্য সাধারণ টিকিটের দাম শুরু হচ্ছে ২,২০০ টাকা (কর ব্যতীত) থেকে। POD প্যাকেজ (ভিআইপি সুবিধা): অনুষ্ঠানের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এই প্যাকেজটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২.০৪ লাখ টাকা। মাত্র ১২ জনের জন্য নির্ধারিত এক রাতের এই প্যাকেজে থাকছে ১০,০০০ টাকার খাবার ও পানীয়ের কুপন।
ক্ষুব্ধ মধ্যবিত্ত অনুরাগীরা: ‘নবরাত্রি সবাইকে এক করার উৎসব, বাদ দেওয়ার নয়’
{{/usCountry}}ক্ষুব্ধ মধ্যবিত্ত অনুরাগীরা: ‘নবরাত্রি সবাইকে এক করার উৎসব, বাদ দেওয়ার নয়’
{{/usCountry}}টিকিটের সাধারণ বিক্রি শুরু হতেই ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। মধ্যবিত্ত ফাল্গুনী-প্রেমীদের বক্তব্য, আগে বোরিভলিতে যখন খোলা মাঠে অনুষ্ঠান হতো, তখন ৩০ হাজার মানুষ একসঙ্গে নাচত। কিন্তু জিও কনভেনশন সেন্টারের মতো বিলাসবহুল এসি ভেন্যু বেছে নেওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে তা বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ইন্সটাগ্রামে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এক অনুরাগী লিখেছেন, ‘ফাল্গুনী পাঠককে ভালোবাসি এবং তাঁর গরবার জন্য পুরো বছর অপেক্ষা করি। কিন্তু জিও কনভেনশন সেন্টারের মতো ভেন্যু বেছে নেওয়ার কারণে মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে এটা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে গেছে। নবরাত্রি ও গরবা মানুষের মধ্যে ঐক্য আনে, উচ্চ মূল্যের কারণে মানুষকে দূরে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়।’
আরেকজন মন্তব্য করেছেন, 'ফাল্গুনী, তুমি এত দামী হয়ে গেলে! এবার তো কিডনি বেচতে হবে'।
অনেক অনুরাগী বুকমাইশো এবং ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাগুলোর ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিযোগ করেছেন, আগেই টিকিটগুলো ব্ল্যাকে বিক্রি করার জন্য ইভেন্ট কোম্পানিগুলো বুক করে নেয়।
উৎসবে কী কী থাকছে?
ট্রাইবভাইব এন্টারটেইনমেন্ট এবং অ্যালফনসো স্টুডিওস (Alphonso Studios)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই ৯ দিনের ইভেন্টে প্রতিদিন লাইভ পারফর্ম করবেন ফাল্গুনি পাঠক নিজেই। 'চুড়ি জো খনকি হাথোঁ মেঁ', 'ম্যায়নে পায়েল হাই ছনকাই'-এর মতো কালজয়ী পপ ও ঐতিহ্যবাহী গুজরাটি গরবা গানে মাতাবেন তিনি।
অগস্টের ১২ তারিখ থেকে পুরোনো দর্শকদের জন্য প্রি-সেল এবং ১৩ই আগস্ট থেকে সাধারণ বিক্রি শুরু হয়েছে। উচ্চমূল্য সত্ত্বেও ফাল্গুনীর অনুরাগী সংখ্যা কম নয়, তবে এই 'দিনদুপুরে ডাকাতি'র মতো টিকিটের মূল্য নিয়ে আলোচনা থামছেই না।