বর্তমান যুগে অভিনয় জগতের সমীকরণ অনেকটাই বদলে গিয়েছে। ওয়েব সিরিজ বা সিনেমায় এখন সাহসী এবং অন্তরঙ্গ দৃশ্য অত্যন্ত সাধারণ বিষয়। কিন্তু এই স্রোতে গা ভাসাতে একেবারেই রাজি নন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রাজা গোস্বামী এবং তাঁর স্ত্রী মধুবনী। কেরিয়ারের হাতছানি বা লোভনীয় অফার থাকলেও, নিজেদের পারিবারিক মূল্যবোধকে বিসর্জন দিতে নারাজ এই তারকা দম্পতি।

রাজার স্পষ্ট কথা: ‘মা-বাবার সঙ্গে দেখা যায় না এমন কাজ করব না’
সম্প্রতি নিজের একান্ত ব্যক্তিগত মতামত ভাগ করে একটি পোস্ট করেছেন রাজা গোস্বামী। তিনি লেখেন, ‘আমি ইন্টিমেট সিনে (Intimate Scene) একেবারেই কমফোর্টেবল নই, তার জন্য প্রচুর কাজও হাতছাড়া হয়েছে। কিন্তু কী বলতো, আমি এমন কোনো দৃশ্যে আজ অবধি অভিনয় করিনি যেটা আমি আমার মা, বাবা বা আমার স্ত্রীর সাথে বসে দেখতে পারব না।’ রাজার এই সোজাসাপ্টা বার্তার আসল ম্যাজিক লুকিয়ে রয়েছে তাঁর পরের লাইনে— ‘কারণ পর্দায় হিরো হওয়ার থেকে নিজের রিয়েল লাইফে হিরো হওয়াটা আমার কাছে অনেক বেশি জরুরী।’
সহমত মধুবনীও, তাই দূরে ওটিটি থেকে:
স্বামীর এই ভাবনার সঙ্গে শতভাগ সহমত মধুবনীও। ছোট পর্দা থেকে বিরতি নিলেও বড় পর্দা বা সিরিজে কেন তাঁকে দেখা যাচ্ছে না? আনন্দবাজার অনলাইনের এক সাক্ষাৎকারে মধুবনী অকপটে জানান, ‘সিরিজে বা সিনেমাতে এখন অনেক সাহসী বা অন্তরঙ্গ দৃশ্য থাকে। আমরা ওই ধরণের দৃশ্যে এখনও অনায়াস (Comfortable) নই। তাই ওই দুই মাধ্যম থেকে দূরেই আছি।’
বিকল্প পথ ও নিশ্চিন্ত জীবন:
{{/usCountry}}বিকল্প পথ ও নিশ্চিন্ত জীবন:
{{/usCountry}}টেলিভিশন বা গ্ল্যামার দুনিয়ার অনিশ্চয়তাকে মাথায় রেখেই রাজা-মধুবনী অনেক বছর আগে থেকেই শুধু অভিনয়ের ওপর নির্ভরশীলতা কাটিয়ে উঠেছেন। নিজেদের ডিজাইনার ব্য়াগের বুটিকের ব্যবসা সামলাচ্ছেন তাঁরা। রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করছেন। এছাড়া মধুবনীর নিজস্ব স্যালোঁ রয়েছে। উপার্জনের জন্য অভিনয়ের উপরই নির্ভরশীল নন দুজনেই। তাছাড়া মধুবনী এখন ব্যস্ত ছেলে কেশবকে নিয়ে।
আজকের গ্ল্যামার দুনিয়ায় যেখানে লাইমলাইটে থাকার জন্য অনেকেই সব ধরণের আপস করতে রাজি, সেখানে রাজা এবং মধুবনীর এই ‘রিয়েল লাইফ হিরো’ হয়ে ওঠার মানসিকতা এবং যৌথ সিদ্ধান্ত নেটিজেনদের মনে এক আলাদা শ্রদ্ধার জায়গা তৈরি করেছে। রাজাকে শেষ পর্দায় দেখা গিয়েছে চিরসখা ধারাবাহিকে। স্টার জলসার ভালোবাসা ডট কম ধারাবাহিকের ওম-তোড়া হিসাবেই দর্শক মনে আজও নিজেদের জায়গা ধরে রেখেছেন দুজনে। সেই সিরিয়ালের সেটেই প্রেম দুজনের। তারপর বিয়ে, সংসার। এখন ছোট্ট কেশবের বাবা-মা রাজা-মধুবনী।