ফেসবুক স্ক্রোল করলেই স্ক্রিনে ভেসে উঠত এক মিষ্টি তরুণী আর তাঁর চারপেয়ে বন্ধু ‘সুন্দরীর’ (পোষ্য গরু) আদুরে ভিডিও। সেই সারল্যে ভরা হাসিমুখের ভ্লগ দেখতেই অভ্যস্ত ছিলেন লক্ষাধিক অনুগামী। কিন্তু সেই হাসির আড়ালে যে এতটা অন্ধকার লুকিয়ে ছিল, তা কে জানত! রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হলো সোশ্যাল মিডিয়ার অত্যন্ত জনপ্রিয় পশুপ্রেমী ও বিখ্যাত ভ্লগার সায়নী চক্রবর্তীর। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, আত্মহত্যা করেছেন তিনি। এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক খবরে একপ্রকার ভেঙে পড়েছে নেটনাগরিকেরা।

সদ্য শেষ হয়েছিল গ্র্যাজুয়েশন, ছিল প্রেমের টানাপোড়েন?
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি সায়নীর গ্র্যাজুয়েশন সম্পূর্ণ হয়েছিল। নিজের এই সাফল্যের বেশ কিছু হাসিখুশি ছবিও সমাজমাধ্যমে শেয়ার করেছিলেন তিনি। কিন্তু তার কয়েকদিনের মধ্যেই কী এমন ঘটল যার জন্য চরম পথ বেছে নিতে হলো এই তরুণীকে?
সূত্রের খবর, সায়নী বেশ কিছুদিন ধরে এক গভীর মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। তাঁর এই চরম সিদ্ধান্তের পেছনে দীর্ঘদিনের কোনো প্রেমঘটিত সমস্যা বা সম্পর্কের টানাপোড়েন দায়ী থাকতে পারে বলে অনুমান করছে পুলিশ ও তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের একাংশ। প্রেমের টানাপোড়েনের সেই ধাক্কা সামলাতে না পেরেই কি এত তাড়াতাড়ি মাত্র কুড়ি-বাইশের এই তরতাজা প্রাণ নিজেকে শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সুন্দরীর ভিডিওর পরেই ‘অজ্ঞাতবাস’ ও মৃত্যু
সোশ্যাল মিডিয়ায় সায়নী ও তাঁর মা মলি চক্রবর্তী অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ। মা-মেয়ের একটি যৌথ পেজের পাশাপাশি তাঁদের আলাদা আলাদা পেজও রয়েছে। সায়নীর মা নেটপাড়ায় ‘মলি চক্রবর্তী’ নামেই বেশি পরিচিত। মৃত্যুর মাত্র একদিন আগেও সায়নীদের পেজে আপলোড করা হয়েছিল তাঁদের আদরের পোষ্য ‘সুন্দরী’র মিষ্টি ভিডিও। অনুগামীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন সায়নীর পরবর্তী ভ্লগের জন্য। কিন্তু বৃহস্পতিবার হঠাৎ নতুন কোনো ভিডিওর বদলে সামনে আসে সায়নীর দেহ উদ্ধারের হাড়হিম করা খবর।
যদিও বৃহস্পতিবার সকালেও মলি চক্রবর্তীর পেজ থেকে কিছু ভিডিও পোস্ট করা হয়, যেখানে শুধু পোষ্যদেরই দেখা গিয়েছিল। তবে মেয়ে কেন এমন মারাত্মক পদক্ষেপ করল, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত জনসমক্ষে কোনো মন্তব্য করেননি মলিদেবী।
{{/usCountry}}যদিও বৃহস্পতিবার সকালেও মলি চক্রবর্তীর পেজ থেকে কিছু ভিডিও পোস্ট করা হয়, যেখানে শুধু পোষ্যদেরই দেখা গিয়েছিল। তবে মেয়ে কেন এমন মারাত্মক পদক্ষেপ করল, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত জনসমক্ষে কোনো মন্তব্য করেননি মলিদেবী।
{{/usCountry}}সায়নীর এই অকালপ্রয়াণে ‘সুন্দরী’ ও অন্যান্য পোষ্যরা তো মাতৃহারা হলোই, সেই সঙ্গে বিনোদন ও ভ্লগিং দুনিয়ায় নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। অনুগামীদের একটাই প্রশ্ন— যে মেয়েটি সমাজমাধ্যমে এত পজিটিভিটি ছড়াত, তাঁর নিজের জীবনটাই কেন এতটা সাদা-কালো হয়ে থেমে গেল? অনীক দত্তের আত্মহত্যার খবরটাই এখনও মেনে নিতে পারেনি বাঙালি। পরিচালকের পর আরও একটা আকস্মিক মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।