বলিউডের খিলাড়ি অক্ষয় কুমার তাঁর কড়া শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা এবং ভোরবেলায় শুটিং শুরু করার অভ্যাসের জন্য গোটা ইন্ডাস্ট্রিতে পরিচিত। ছবির শুটিং যতই বড় হোক না কেন, তিনি নিজের নির্ধারিত সময়ের বাইরে এক মিনিটও কাজ করেন না। এবার অক্ষয়ের এই অনন্য কর্মপদ্ধতি এবং ২০১০ সালের কাল্ট-কমেডি ছবি ‘তিস মার খাঁ’ (Tees Maar Khan)-এর শুটিংয়ের এক মজাদার ও অজানা তথ্য ফাঁস করলেন পরিচালক-কোরিওগ্রাফার ফারহা খান।

সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় ফারহা জানান, মুম্বইয়ের কুখ্যাত ট্রাফিক এড়াতে এবং নিজের ৭ ঘণ্টার শিফট বজায় রাখতে অক্ষয় কীভাবে হেলিকপ্টারে চড়ে প্রতিদিন সেটে আসতেন।
ট্রাফিক এড়াতে চার্টার্ড হেলিকপ্টার!
ফারহা খান জানান, ‘তিস মার খাঁ’ ছবির একটি বড় অংশের শুটিং চলছিল মুম্বইয়ের উপকণ্ঠে অবস্থিত মাড আইল্যান্ড এলাকায়। মুম্বইয়ের মূল ভূখণ্ড থেকে সেখানে সড়কপথে যাতায়াত করা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ এবং ক্লান্তিকর। অক্ষয় তখন থাকতেন জুহু এলাকায়।
ছবির পরিচালক ফারহা স্মৃতির সরণি বেয়ে বলেন- প্রথমবার তিনি কোনও অভিনেতাকে হেলিকপ্টারের সাথে ট্যাক্সির মতো আচরণ করতে দেখেছিলেন। ফারহার কথায়, ‘অক্ষয় কুমারের কাজের ধরণ একেবারেই আলাদা। ও দিনে মাত্র ৭ ঘণ্টা কাজ করে— সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত। মাড আইল্যান্ডে আসার ট্রাফিক জ্যামে যাতে ওর এই মূল্যবান সময় নষ্ট না হয়, তার জন্য ও প্রতিদিন জুহু থেকে মাড আইল্যান্ডে আসার জন্য একটা চার্টার্ড হেলিকপ্টার বুক করেছিল! ও ঠিক সকাল সাড়ে ৬টায় হেলিকপ্টারে চেপে সেটে নামত এবং ২টো বাজার সাথে সাথে আবার হেলিকপ্টারে চড়ে বাড়ি ফিরে যেত।’
অক্ষয়ের কড়া নিয়ম: ২টো বাজলেই প্যাক-আপ
{{/usCountry}}অক্ষয়ের কড়া নিয়ম: ২টো বাজলেই প্যাক-আপ
{{/usCountry}}বলিউডের অন্যান্য তারকারা যখন রাত জেগে বা শিফটের তোয়াক্কা না করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুটিং করেন, অক্ষয় সেখানে ব্যতিক্রম। ফারহা জানান, ছবির সেট তৈরি থাক বা না থাক, ঘড়িতে দুপুর দুটো বাজলেই অক্ষয় মেকআপ তুলে হেলিকপ্টারে উঠে পড়তেন।
তবে এই নিয়মের একটি ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেছেন পরিচালক। ফারহা বলেন, ‘ও ৭ ঘণ্টা কাজ করলেও সেই সময়ে এক মুহূর্তের জন্য নিজের ভ্যানিটি ভ্যানে গিয়ে বসে থাকত না। ফোনে কথা বলা বা আড্ডা মেরে সময় নষ্ট করত না। ও সেটে আসা মানে ব্যাক-টু-ব্যাক শট দিয়ে কাজ শেষ করা। ও এত দ্রুত কাজ করে যে দুপুরের মধ্যে আমরা প্রায় এক সপ্তাহের কাজ নামিয়ে নিতাম।’ ফারহা মজা করে বলেন, ‘আমার সব পয়সা খেয়ে নিয়েছে অক্ষয়’। আক্কি বন্ধু ফারহাকে মনে করিয়ে দেন, ছবির প্রযোজক তিনি নিজেই ছিলেন। এই ছবির যৌথ প্রযোজক ছিলেন নায়ক অক্ষয় কুমার।
‘শিলা কি জওয়ানি’ ও ক্যাটরিনার ডেডিকেশন
অক্ষয়ের এই কড়া শিডিউলের কারণে ছবির নায়িকা ক্যাটরিনা কাইফ (Katrina Kaif)-কেও চরম খাটনি খাটতে হয়েছিল। বিশেষ করে ছবির আইকনিক গান ‘শিলা কি জওয়ানি’ শুটিংয়ের সময় অক্ষয়ের অংশের কাজ দ্রুত শেষ করতে হতো, যাতে তিনি ২টোর মধ্যে চলে যেতে পারেন। এরপর বাকি সময়টা ক্যাটরিনা নিজের একক শটের শুটিং করতেন।
এর আগে রণবীর আলাহাবাদিয়ার সঙ্গে কথা বলার সময় ফারাহ জানিয়েছিলেন, এই ছবির ব্যর্থতা কীভাবে তাকে ব্যক্তিগত ও পেশাগতভাবে প্রভাবিত করেছে। বক্স অফিসে ৮৪ কোটির ব্যবসা করা তিস মার খান হিটের তকমা পায়নি। সমালোচকদের থেকেও কটূ কথা শুনতে হয়েছিল ফারহাকে। সেই স্মৃতি আজও দগদগে। তিনি বলেছিলেন, ‘এই ব্যর্থতা আপনাকে খুব দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাকফুটে রাখে। আপনি এগিয়ে যান, ফিরে আসেন এবং কাজ চালিয়ে যান, তবে আপনার মনের কোথাও না কোথাও, আপনি সর্বদা ব্যাকফুটে থাকেন। এমন নয় যে আপনি নিজেকে সন্দেহ করতে শুরু করেন, তবে লোকেরা আপনাকে আত্ম-সন্দেহের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। এমনকি যখন আপনার চলচ্চিত্রটি হিট হয়ে যায়, লোকেরা আপনাকে মনে করায় আপনি কিচ্ছু পারেন না’।