বলিউডের খ্যাতনামা কোরিওগ্রাফার ও পরিচালক ফারাহ খান এবং শিরীষ কুন্দরের তিন সন্তান— জার, ডিভা ও আনিয়া এখন প্রাপ্তবয়স্ক। মুম্বইয়ের সবচেয়ে ব্যায়বহুল ‘ধিরুভাই আম্বানি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল’ (DAIS) থেকে ক্লাস ১২-এর পড়াশোনা শেষ করে এবার উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে মুম্বাইয়ের বাড়ি ছেড়ে আমেরিকার তিন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পাড়ি দিল এই তিন তারকা সন্তান। সন্তানদের নতুন জীবনের সূচনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় এক আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করেছেন ফারাহ। ব্যাকগ্রাউন্ডে ‘কভি আলবিদা না কেহনা’ ছবির শিরোনাম গানটি জুড়ে দিয়ে এক মন খারাপ করা মিষ্টি বিদায়ের মুহূর্ত তুলে ধরেছেন তিনি।

আমেরিকার ৩ নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা:
ফারাহ-শিরীষের তিন সন্তান তিনটি আলাদা শহরে নিজের নিজের পছন্দের বিষয় নিয়ে উচ্চশিক্ষায় যোগ দিয়েছে।
ডিবা কুন্দর: ব্যাবসন কলেজে 'এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড ফাইন্যান্স' নিয়ে পড়াশোনা করছে সে।
আনিয়া কুন্দর: নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে (NYU) পড়ছে 'ইকোনমিক্স অ্যান্ড ডেটা সায়েন্স'।
জার কুন্দর: এমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ে বেছে নিয়েছে 'আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইন বিজনেস'।
ফারহার আবেগঘন বার্তা ও তারকাদের ভালোবাসা:
ইনস্টাগ্রামে সন্তানদের সঙ্গে কাটানো সুন্দর মুহূর্তের ছবি পোস্ট করে ফারাহ লেখেন, ‘যদি একটা সন্তানকে কলেজে পাঠানো কঠিন মনে হয়, তবে ভাবুন তো তিনটি সন্তানের ক্ষেত্রে সেটা কেমন হতে পারে! ৩টি শহর, ৩টি ক্যাম্পাস আর ৩বার অলবিদা... আমার হৃদয়ের তিনটি টুকরো! যাও, জীবনটাকে উপভোগ করো... তবে মনে রেখো সব রাস্তা ঘুরে আবার মা-বাবার কাছেই ফিরে আসে।’ সঙ্গে শিরীশ কুন্দরের ছবি তোলার অ্যালার্জি নিয়েও রসিকতা করতে ছাড়েননি তিনি।
ফারহার এই পোস্টে পরিচালক করণ জোহর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লিখেছেন, ‘সেরা মা’। অভিনেত্রী রিয়া কাপুর, শিল্পা শিরোদকার ও অনিল কাপুরের পরিবার থেকে অনেকেই এই পোস্ট ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন এবং ফারাহকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
{{/usCountry}}ফারহার এই পোস্টে পরিচালক করণ জোহর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লিখেছেন, ‘সেরা মা’। অভিনেত্রী রিয়া কাপুর, শিল্পা শিরোদকার ও অনিল কাপুরের পরিবার থেকে অনেকেই এই পোস্ট ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন এবং ফারাহকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
{{/usCountry}}ইউটিউব ক্যারিয়ার ও অতিরিক্ত খরচের খোলামেলা স্বীকারোক্তি:
গত বছর কাজল ও টুইঙ্কেল খান্নার টক শো 'টু মাচ'-এ এসে ফারাহ নিজের ইউটিউব চ্যানেল শুরু করার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে সন্তানদের এই কলেজের খরচের কথা মজা করেই স্বীকার করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ‘যখন আমার কোনও সিনেমা পরিচালনা করার কাজ ছিল না, তখন ভাবলাম ইউটিউবটা চেষ্টা করি। তাছাড়া পরের বছরই আমার তিন সন্তান বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে, আর বিদেশে পড়াশোনা মারাত্মক ব্যয়বহুল!’
সন্তানদের ডানা মেলে উড়ে যেতে দেওয়ার এই অভিজ্ঞতা একদিকে যেমন গর্বের, তেমনি এক মিষ্টি-মধুর বেদনারও— যা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে এই বলি-পরিচালকের কথায়।