...
...
Next Story

'নামী নারীর জন্য সিঁদুর শখ, দরিদ্র নারীর জন্য় প্রয়োজন, আর মধ্যবিত্ত নারীর জন্য এখনও নিয়ম', সিঁদুর-বিতর্কে সরব তসলিমা

‘রেখা থেকে প্রান্তিক নারী— সিঁদুর কি তবে শখ, নিরাপত্তা নাকি মধ্যবিত্তের নিয়ম?’ তসলিমা নাসরিনের তীক্ষ্ণ কলমে সিঁদুর বিতর্ক ও সমাজের দ্বিচারিতা।

Published on: Nov 1, 2026, 16:01:09 IST
Advertisement

সধবা নারীর প্রতীক হিসেবে উদযাপিত লাল সিঁদুর কি তবে তার প্রচলিত ধর্মীয় ও বৈবাহিক পরিচয় ছাড়িয়ে সম্পূর্ণ এক নতুন বিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে? সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় এমনই এক গভীর ও সমাজমনস্তাত্ত্বিক প্রশ্ন তুলে দিলেন বিতর্কিত ও প্রখ্যাত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। নেপথ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ওঠে আসা তারকাদের সিঁদুর বিতর্ক।

'নামী নারীর জন্য সিঁদুর শখ, দরিদ্র নারীর জন্য় প্রয়োজন, আর মধ্যবিত্ত নারীর জন্য এখনও নিয়ম', সিঁদুর-বিতর্কে সরব তসলিমা
'নামী নারীর জন্য সিঁদুর শখ, দরিদ্র নারীর জন্য় প্রয়োজন, আর মধ্যবিত্ত নারীর জন্য এখনও নিয়ম', সিঁদুর-বিতর্কে সরব তসলিমা

রূপা গঙ্গোপাধ্যায় ও পল্লবী চট্টোপাধ্যায়, টলিপাড়ার দুই পরিচিত মুখ সম্প্রতি জানিয়েছেন তাঁরা ডিভোর্সি তবে সিঁদুর পরেন নিজেদের ভালো লাগার জেরে। সেই নিয়ে তর্ক-বিতর্কের শেষ নেই। এবার সেই নিয়ে নিজের মতামত রাখলেন লেখিকা।

ভানুরেখা গণেশন (রেখা), রূপা গঙ্গোপাধ্যায় কিংবা পল্লবী চট্টোপাধ্যায়ের মতো তারকাদের সিঁথিতে স্বামী ছাড়াই সিঁদুরের উপস্থিতি এবং অন্যদিকে বস্তি বা প্রান্তি অঞ্চলের স্বাবলম্বী অথচ একক নারীদের শাঁখা-সিঁদুর পরার বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে সমাজের শ্রেণিবৈষম্য ও দ্বিচারিতাকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি।

তারকাদের সিঁদুর: শখ ও ব্যক্তিস্বাধীনতা

লেখিকা তাঁর পোস্টে তুলে ধরেছেন যে, স্বামী না থাকা সত্ত্বেও বলিউডের রেখা কিংবা টলিপাড়ার রূপা গঙ্গোপাধ্যায় ও পল্লবী চট্টোপাধ্যায়ের মতো তারকারা নিয়মিত সিঁদুর পরেন। এই ধরনের ক্ষেত্রে নারীরা স্পষ্ট জানান, সিঁদুর পরা তাঁদের নিজেদের পছন্দ বা সাজের অংশ।

উচ্চবিত্ত বা নামী নারীদের ক্ষেত্রে সমাজ এই ব্যতিক্রমকে 'শখ' বা 'ব্যক্তিগত স্বাধীনতা' হিসেবে মেনে নেয়। কটাক্ষ হলেও তা উপেক্ষা করে বাঁচায় তাঁদের সামাজিক ও আর্থিক ক্ষমতা সাহায্য করে।

তারকাদের বাইরে গিয়ে সমাজ যে দিকটির খবর রাখে না, সেই প্রান্তিক নারীদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তসলিমা নাসরিন। নিম্নবিত্তের অনেক নারী— যাঁদের স্বামী ছেড়ে চলে গেছেন বা মারা গেছেন— তাঁরাও হাতে শাঁখা ও সিঁথিতে সিঁদুর পরেন।

জিজ্ঞেস করলে তাঁরা জানান, রাস্তায় উটকো ঝামেলা এড়াতে এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজের চোখে আত্মসম্মান ও মর্যাদা বজায় রেখে কাজ করে খেতে এই শাঁখা-সিঁদুর তাঁদের জন্য একটি ‘সুরক্ষা বর্ম’ বা হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। মানুষ চলে গেলেও টিকে থাকার প্রয়োজনে তাঁদের কাছে এই চিহ্নের ব্যবহার ফুরোয়নি।

মধ্যবিত্তের ঘাড়েই সংস্কার ও কৈফিয়তের বোঝা:

উচ্চবিত্তের ‘শখ’ আর নিম্নবিত্তের ‘নিরাপত্তা’র মাঝে সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক অবস্থানে রয়েছে মধ্যবিত্ত সমাজ। মধ্যবিত্ত নারীর ক্ষেত্রে স্বামী থাকলে সিঁদুর না পরলেও জোটে ‘অসংস্কারী’ বা ‘আধুনিকতার দম্ভের’ অপবাদ। আবার স্বামী না থাকা বা বিচ্ছেদের পর সিঁদুর পরলে শুনতে হয় ‘লোকদেখানো’র কটূক্তি।

আত্মীয়, প্রতিবেশী ও সমাজের কাছে মধ্যবিত্ত নারীকেই তাঁর সিঁথির রঙের জন্য প্রতিনিয়ত কৈফিয়ত দিয়ে যেতে হয়। সমাজের সংস্কার ও নিয়ম টিকিয়ে রাখার সমস্ত দায়ভার একা মধ্যবিত্ত নারীর ওপরই এসে পড়ে।

সিঁদুরের শ্রেণীভিত্তিক বিবর্তন:

তসলিমা নাসরিন প্রশ্ন তুলেছেন, সিঁদুর কি তবে তার চিরাচরিত সধবা পরিচয় থেকে দূরে সরে এসে শ্রেণীভিত্তিক রূপ ধারণ করছে? নামী নারীর জন্য: শখ ও ফ্যাশন।দরিদ্র নারীর জন্য: নিরাপত্তার প্রয়োজন ও কৌশল এবং মধ্যবিত্ত নারীর জন্য: আজও বাধ্যবাধকতা ও নিয়মের শৃঙ্খল।

সিঁথির রং দেখে আর যাই হোক, কোনো নারীর ব্যক্তিগত জীবনের বা সংসারের বাস্তব চিত্র নিখুঁতভাবে বোঝা সম্ভব নয়। সিঁদুরের এই বহুমাত্রিক সমাজতাত্ত্বিক অর্থ বদলে যাওয়ার বিষয়টিই এখন সোশাল মিডিয়া ও চিন্তাশীল মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Priyanka Mukherjee

প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks