ফুটবল কি তবে শুধুই বুটের ঠোকাঠুকি আর ট্যাকটিক্সের দাবাখেলা? নাকি তার চেয়েও বেশি কিছু? উত্তর খুঁজতে আমেরিকার দিকে চোখ ফেরাতে হচ্ছে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বজয়ের মহাযুদ্ধে নামছে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। লিয়োনেল মেসি বনাম লামিনে ইয়ামালের সেই দ্বৈরথ নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে পারদ চড়ছে, ঠিক তখনই এক অভূতপূর্ব ফুটবল-বিপ্লবের সাক্ষী হতে চলেছে গোটা দুনিয়া। ফিফা বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের সুদীর্ঘ ইতিহাসে যা কখনও ঘটেনি, ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই রাতে সেটাই বাস্তব হতে চলেছে। ফাইনাল ম্যাচের ঠিক মাঝপথে আয়োজিত হতে চলেছে এক জমকালো ‘হাফ-টাইম শো’!
আমেরিকান ক্রীড়াসংস্কৃতির চেনা অঙ্গ ‘সুপার বোল’-এর কায়দাতেই এবার সাজানো হচ্ছে বিশ্বফুটবলের শ্রেষ্ঠ মঞ্চকে। মাঠের ৯০ মিনিটের ফুটবল যদি স্নায়ুর চাপ বাড়ায়, তবে প্রথমার্ধ শেষের বিরতি মন ভালো করবে সুরের মূর্ছনায়।
প্রথমার্ধ শেষে মঞ্চে চাঁদের হাট, কোলাজ তৈরি করছেন ক্রিস মার্টিন
ফুটবলপ্রেমী হোন বা না হোন, মেটলাইফ স্টেডিয়ামের এই বিনোদন সূচি যে কাউকে টিভির পর্দায় চোখ রাখতে বাধ্য করবে। মাত্র ১১ মিনিটের এই টানটান পারফরম্যান্সের জন্য যে লাইন-আপ তৈরি করেছে ফিফা, তা এককথায় অবিশ্বাস্য।
কোল্ডপ্লে ব্যান্ডের প্রধান গায়ক ক্রিস মার্টিনের কিউরেশনে এবং গ্লোবাল সিটিজেনের প্রযোজনায় এই মঞ্চে একসঙ্গে পারফর্ম করতে চলেছেন পপ সম্রাজ্ঞী ম্যাডোনা, লাতিন পপ কুইন শাকিরা, কানাডিয়ান হার্টথ্রব জাস্টিন বিবার এবং কোরিয়ান পপ সেনসেশন বিটিএস (BTS)! এখানেই শেষ নয়, তাঁদের সঙ্গে যোগ দেবেন নাইজেরিয়ান তারকা বার্না বয় এবং উগান্ডার জনপ্রিয় ড্যান্স ট্রুপ ‘ঘেটো কিডস’। ভেনিজুয়েলার বিখ্যাত কন্ডাক্টর গুস্তাভো দুদামেলের নেতৃত্বে সুরের জাল বুনবে নিউ ইয়র্ক ফিলহারমোনিক অর্কেস্ট্রা। এমনকি ছোটদের নস্টালজিয়া উসকে দিতে হাজির থাকবে ‘সেসামি স্ট্রিট’ ও ‘দ্য মাপেটস’-এর জনপ্রিয় চরিত্ররাও।
বদলে যাচ্ছে ফুটবলের চেনা নিয়ম?
{{/usCountry}}বদলে যাচ্ছে ফুটবলের চেনা নিয়ম?
{{/usCountry}}এই চোখ ধাঁধানো অনুষ্ঠানের কারণে ফুটবলের একটা চেনা নিয়মে কিন্তু বড়সড় বদল আসছে। সাধারণ ফুটবল ম্যাচে প্রথমার্ধের পর খেলোয়াড়রা ঠিক ১৫ মিনিটের বিরতি পান। কিন্তু মেটলাইফ স্টেডিয়ামের মূল ঘাসের পিচের ওপর আস্ত একটা কনসার্ট স্টেজ তৈরি করা, ১১ মিনিটের পারফরম্যান্স এবং পুনরায় স্টেজটি খুলে নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।
ফিফা জানিয়েছে, দ্রুত স্টেজ তৈরি করতে ৭ মিনিট এবং তা সরাতে আরও ৭ মিনিট সময় লাগবে। ফলে দুই অর্দ্ধের মাঝখানের এই বিরতি এবার ১৫ মিনিট থেকে বেড়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ মিনিটে গিয়ে ঠেকবে। খেলোয়াড়দের পেশি সচল রাখা এবং বিশ্ব ফুটবলের ঐতিহ্য বজায় রেখে এই সময়কে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, তা নিয়ে ফুটবল বোদ্ধাদের মধ্যে মৃদু বিতর্ক থাকলেও, বিনোদনের এই জোয়ারকে স্বাগত জানাচ্ছেন আপামর দর্শক।
বিনোদনের মোড়কে মহৎ উদ্দেশ্য
স্রেফ গ্ল্যামার বা দেখনদারি নয়, এই ঐতিহাসিক হাফ-টাইম শো-এর পেছনে রয়েছে একটি বড় উদ্দেশ্য। ফিফা এবং গ্লোবাল সিটিজেনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটির লক্ষ্য হলো বিশ্বজুড়ে শিশুদের গুণগত শিক্ষা ও ফুটবলের প্রসারের জন্য গঠিত ‘ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ড’-এর জন্য প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার অর্থ সংগ্রহ করা। জাস্টিন বিবার যেমন জানিয়েছেন, “বিশ্বকাপ ফুটবল যেভাবে গোটা পৃথিবীকে এক সুতোয় বাঁধে, তা অন্য কিছু পারে না।” সেই মেলবন্ধনকেই এবার সুরের ছোঁয়ায় অমর করে রাখার পালা।
ভারতীয় দর্শকদের জন্য সময়সূচি (IST Time)
আমেরিকার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টেয় ফাইনাল ম্যাচ শুরু হলেও, ভারতীয় দর্শকদের জন্য ম্যাচ এবং এই ঐতিহাসিক শো দেখার সময় কিন্তু মধ্যরাতে।
ম্যাচ কিক-অফ (IST): ২০শে জুলাই, সোমবার ভোর ১২:৩০ মিনিট।
হাফ-টাইম শো শুরুর সম্ভাব্য সময় (IST): সোমবার ভোর ১:২৫ থেকে ১:৩৫ মিনিটের মধ্যে (ম্যাচের প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমের ওপর ভিত্তি করে)।
সরাসরি সম্প্রচার: ফক্স স্পোর্টস (Fox Sports), টেলিমুন্ডো (Telemundo) এবং ভারতের ক্ষেত্রে অফিশিয়াল ব্রডকাস্টার চ্যানেলে।
খেলাধুলো এবং সংস্কৃতির এমন মহামিলন বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এর আগে দেখেনি। এখন দেখার, কাপ যুদ্ধের স্নায়ুযুদ্ধের মাঝে এই ৩০ মিনিটের মিউজিক্যাল থ্রিলার দর্শকদের কতটা আবিষ্ট করে রাখতে পারে!