আজকের ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’র যুগে সেলিব্রিটি আর অনুরাগীদের সম্পর্কের সমীকরণটা ঠিক কেমন? একটা সেলফি তোলা, ব্যাস! আলাপচারিতা, সৌজন্য বা হাই-হ্যালোর বালাই নেই। এমনকি কারণে-অকারণে তারকাদের কাঁধে, বুকে বা কোমরে হাত দিয়ে ছবি তোলার এক অদ্ভুত হিড়িক তৈরি হয়েছে সমাজমাধ্যমে। অনুরাগীদের এই ‘গা ঘেঁষা’ আধুনিক মানসিকতা ও সংস্কৃতির অবক্ষয় নিয়ে এবার বিস্ফোরক কলম ধরলেন টলিপাড়ার ‘পাওয়ারহাউস’ অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। নিজের সবচেয়ে পুরনো ও প্রিয় ফ্যান অনীশের বিয়ের উপহার পাওয়া শাড়ি পরে সামাজিক অবক্ষয়ের পর্দাফাঁস করলেন তিনি।

‘সেলফি তুলব? ওইটেই শুরু, ওইটেই শেষ’:
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিনোদন জগতের সাথে যুক্ত থাকা স্বস্তিকা নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোর কথা মনে করে লেখেন, ‘বড় বা ছোট পর্দায় কাজ শুরু করার সময়টায় ফ্যানদের একটা অন্য রকম আন্তরিকতা ছিল। তখন ফোনে ক্যামেরাও ছিল না, ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়াতে দেওয়ার তাগিদও ছিল না। এখন ফ্যান শব্দটার প্রাসঙ্গিকতাই পাল্টে গেছে। এখন ফ্যান মানে সেলফি তোলা। ব্যাস ওইটুকুই। পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে কারণে-অকারণে যে কারুর গায়ে ফট করে হাত দেওয়া যায় না, এটা আমাদের সমাজ থেকে বিলুপ্ত।’
খুদে অনীশের বড় হয়ে ওঠার গল্প:
এই ভিড়ের মাঝেই অনীশের মতো কিছু ব্যতিক্রমী অনুরাগীকে আজও আগলে রেখেছেন অভিনেত্রী। অনীশ যখন এক্কেবারে ছোট, তখন থেকে সে স্বস্তিকার অনুরাগী। অক্সফোর্ড, ক্রসওয়ার্ডের মতো বইয়ের দোকান থেকে শুরু করে ছবির প্রিমিয়ার— সব জায়গায় অনীশের উপস্থিতি স্বস্তিকাকে এক অদ্ভুত ভরসা দিয়েছিল, যার কারণে নিজের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর দিতেও দ্বিধা করেননি তিনি। দেখতে দেখতে সেই পুঁচকে অনীশ আজ বড় হয়েছে, চাকরি করছে, বাবা-মাকে দেখছে এবং মধুরিমা নামের এক মিষ্টি মেয়েকে বিয়ে করে সংসার পেতেছে।
বিয়ের সময় উপস্থিত থাকতে না পারলেও, সম্প্রতি নিজের নতুন ছবি ‘বিবিপায়রা’-র স্ক্রিনিংয়ের দিন অনীশ ও তাঁর স্ত্রীকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন স্বস্তিকা। আর সেখানেই হবু বউমা মধুরিমা তাঁর ‘দিদি’র পছন্দের কথা মাথায় রেখে উপহার দিয়েছেন লাল পাড় সাদা এক জমকালো শাড়ি। শাড়িটি পেয়ে আবেগপ্লুত অভিনেত্রী জানান, 'আমার মায়ের ফেভারিট চওড়া পাড়, আর এই কম্বিনেশন। হালকা একটু গয়না পরে মাথায় একটু ফুল লাগিয়ে নিলেই সাজুগুজু কমপ্লিট। কাচতে দেওয়ার আগে এটা আমি আরও ২-৪ বার পরব।'
ফ্যান নয়, সন্তানসম!
{{/usCountry}}ফ্যান নয়, সন্তানসম!
{{/usCountry}}নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কথা টেনে এনে স্বস্তিকা পোস্টে যোগ করেন, ‘সন্তানসম আমার। আসলে এত ছোট বয়সে মা হয়েছি, মানির (কন্যা অন্বেষা) বয়সী কেউ থাকলে তার প্রতি মাতৃস্নেহটাই বেরিয়ে পড়ে। ওরা জমিয়ে একে অপরকে আগলে রেখে সংসার করুক।’
আজকের মেকি জাঁকজমকের যুগে এক সেলিব্রিটি ও তাঁর অনুরাগীর এমন খাঁটি, নিঃস্বার্থ ও পারিবারিক সম্পর্কের গল্প সত্যিই নেটপাড়ার নাগরিক ও ট্রোলারদের এক বড়সড় চড় মারল, তা বলাই বাহুল্য।