...
...
Next Story

Deepali Sahay: ১৯ বছর আগে ইন্ডিয়ান আইডলে হার, কণ্ঠস্বরও হারাতে বসেছিলেন,আমচকা কেন চর্চায় দীপালি সহায়?

‘একদিন গোটা দেশ তোমার সুরে সুর মেলাবে…’, ১৯ বছর আগে ভবিষ্যত বাণী করেছিলেন ইন্ডিয়ান আইডলের সঞ্চালিকা মিনি মাথুর। অবশেষে তা সত্যি প্রমাণ করলেন দীপালি। সুযোগ আসতে সময় লাগল প্রায় দু-দশক।

Published on: Jun 25, 2026, 15:45:39 IST
Advertisement

ইমতিয়াজ আলির সিনেমা মানেই তাতে জড়িয়ে থাকবে এক অদ্ভুত আত্মিক টান এবং সুরের জাদু। পরিচালকের সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’ (Main Vaapas Aaunga) প্রথম দিকে বক্স অফিসে কিছুটা ধীর গতিতে খাতা খুললেও, দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসার জোড়ে বক্স অফিসে ব্যাপক গতি নিয়েছে। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের এক আবেগঘন ও যন্ত্রণাদায়ক প্রেক্ষাপটে তৈরি এই ছবি দেখে প্রেক্ষাগৃহ থেকে বেরোনো দর্শকদের চোখে জল ধরে রাখার একাধিক ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।

১৯ বছর আগে ইন্ডিয়ান আইডলে হার, কণ্ঠস্বরও হারাতে বসেছিলেন,আমচকা কেন চর্চায় দীপালি
১৯ বছর আগে ইন্ডিয়ান আইডলে হার, কণ্ঠস্বরও হারাতে বসেছিলেন,আমচকা কেন চর্চায় দীপালি

আর এই ছবির আবেগভরা গল্পকে সুতোয় বেঁধে রেখেছে অস্কারজয়ী সঙ্গীত পরিচালক এ আর রহমান-এর মেলোডি। বিশেষ করে ছবির একটি গান— ‘তেরে পাস ম্যায়’ এই মুহূর্তে নেটপাড়ায় রীতিমতো কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে। এই গানে এক নারী কণ্ঠের নরম, মায়াবী ও দরদী আওয়াজ শুনে মুগ্ধ শ্রোতারা। তবে অনেকেই জানেন না যে, এই মিষ্টি গায়িকাটি আসলে কে! তিনি আর কেউ নন, আজ থেকে প্রায় ২০ বছর আগের ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর মঞ্চ কাঁপানো প্রতিযোগী দীপালি সহায় (Deepali Sahay)।

১৯ বছর আগে ইন্ডিয়ান আইডলের মঞ্চ এবং মিনি মাথুরের সেই ভবিষ্যৎবাণী

বিহারের মেয়ে দীপালির গানের হাতেখড়ি হয়েছিল মাত্র তিন বছর বয়সে। তবে তিনি প্রথম লাইমলাইটে আসেন ২০০৭ সালে, মাত্র ১৮ বছর বয়সে জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘ইন্ডিয়ান আইডল সিজন ৩’ (Indian Idol Season 3)-এ অংশ নিয়ে। তখন তিনি দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ‘তেরে পাস ম্যায়’ গানটি ভাইরাল হওয়ার পর দীপালির সেই পুরনো অডিশন ক্লিপগুলোও নতুন করে ট্রেন্ড করছে, যেখানে বিচারকেরা ওঁর গান শুনে মুগ্ধ হয়েছিলেন।

‘ভেবেছিলাম আর কোনওদিন কথা বলতে পারব না’— কণ্ঠস্বর হারানোর সেই ভয়ঙ্কর দিন

সম্প্রতি ‘দ্য হিন্দু’ (The Hindu)-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে দীপালি তাঁর জীবনের এক অন্ধকার অধ্যায়ের কথা শেয়ার করেছেন। রিয়্যালিটি শো-তে একটানা গান গাওয়া এবং পরবর্তীতে অন্য একটি সিজনে অ্যাঙ্করিং বা সঞ্চালনা করার কারণে তাঁর কণ্ঠনালীতে (Voice box) মারাত্মক চোট লেগেছিল। অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিল যে ডাক্তাররা তাঁকে গান গাওয়া ছেড়ে দেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।

দীপালি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘একজন ডাক্তার আমাকে বলেছিলেন যে আমি যেন গান গাওয়ার কথা মাথা থেকেই বের করে দিই। আমি যদি এভাবেই রেওয়াজ (Riyaaz) চালিয়ে যাই, তবে আমি কোনওদিন আর কথাই বলতে পারব না! একজন অল্পবয়সী মেয়ের পক্ষে এই কথা মেনে নেওয়া কতটা কঠিন ছিল তা বোঝাতে পারব না। ডাক্তারের সেই রূঢ় কথা আমাকে মানসিক আঘাত দিয়েছিল এবং আমি বহু বছর গান থেকে দূরে সরে গিয়েছিলাম।’

অভিনয় থেকে রহমানের ছবিতে বলিউডে গ্র্যান্ড ডেবিউ

গান গাইতে না পেরে একপ্রকার বাধ্য হয়েই দীপালি অভিনয়ের দিকে ঝোঁকেন এবং পুনের এফটিআইআই (FTII)-তে ভর্তি হন। তবে ভাগ্যের চাকা ঘোরে যখন তাঁর আলাপ হয় বলিউডের প্রখ্যাত সিনেমাটোগ্রাফার বাবা আজমি (শাবানা আজমির ভাই)-র সাথে। বাবা আজমিই দীপালির প্রতিভাকে চিনে তাঁকে আবারও গান গাওয়ার জন্য জোর দেন এবং উৎসাহিত করেন।

বছরের পর বছর কঠোর সংগ্রাম এবং কণ্ঠস্বর ফিরে পাওয়ার দীর্ঘ লড়াইয়ের পর, অবশেষে এ আর রহমানের হাত ধরে বলিউডে এক ঐতিহাসিক ডেবিউ করলেন দীপালি। ইমতিয়াজ আলীর ছবিতে তাঁর গাওয়া গানটি আজ আপামর ভারতীয় সঙ্গীতপ্রেমীদের চোখের জল ফেলছে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Priyanka Mukherjee

প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe