ইমতিয়াজ আলির সিনেমা মানেই তাতে জড়িয়ে থাকবে এক অদ্ভুত আত্মিক টান এবং সুরের জাদু। পরিচালকের সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’ (Main Vaapas Aaunga) প্রথম দিকে বক্স অফিসে কিছুটা ধীর গতিতে খাতা খুললেও, দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসার জোড়ে বক্স অফিসে ব্যাপক গতি নিয়েছে। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের এক আবেগঘন ও যন্ত্রণাদায়ক প্রেক্ষাপটে তৈরি এই ছবি দেখে প্রেক্ষাগৃহ থেকে বেরোনো দর্শকদের চোখে জল ধরে রাখার একাধিক ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।

আর এই ছবির আবেগভরা গল্পকে সুতোয় বেঁধে রেখেছে অস্কারজয়ী সঙ্গীত পরিচালক এ আর রহমান-এর মেলোডি। বিশেষ করে ছবির একটি গান— ‘তেরে পাস ম্যায়’ এই মুহূর্তে নেটপাড়ায় রীতিমতো কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে। এই গানে এক নারী কণ্ঠের নরম, মায়াবী ও দরদী আওয়াজ শুনে মুগ্ধ শ্রোতারা। তবে অনেকেই জানেন না যে, এই মিষ্টি গায়িকাটি আসলে কে! তিনি আর কেউ নন, আজ থেকে প্রায় ২০ বছর আগের ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর মঞ্চ কাঁপানো প্রতিযোগী দীপালি সহায় (Deepali Sahay)।
১৯ বছর আগে ইন্ডিয়ান আইডলের মঞ্চ এবং মিনি মাথুরের সেই ভবিষ্যৎবাণী
বিহারের মেয়ে দীপালির গানের হাতেখড়ি হয়েছিল মাত্র তিন বছর বয়সে। তবে তিনি প্রথম লাইমলাইটে আসেন ২০০৭ সালে, মাত্র ১৮ বছর বয়সে জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘ইন্ডিয়ান আইডল সিজন ৩’ (Indian Idol Season 3)-এ অংশ নিয়ে। তখন তিনি দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ‘তেরে পাস ম্যায়’ গানটি ভাইরাল হওয়ার পর দীপালির সেই পুরনো অডিশন ক্লিপগুলোও নতুন করে ট্রেন্ড করছে, যেখানে বিচারকেরা ওঁর গান শুনে মুগ্ধ হয়েছিলেন।
যদিও দীপালি সেই শো জিততে পারেননি এবং মাঝপথেই এলিমিনেট হয়ে যান, তবে শো-এর সঞ্চালিকা মিনি মাথুর সেদিন ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন যে— ‘একদিন গোটা দেশ দীপালির সুরে সুর মেলাবে।’ অবশেষে ২০ বছর পর, ২০২৬ সালে এসে সেই ভবিষ্যৎবাণী অক্ষরে অক্ষরে সত্যি হলো।
{{/usCountry}}যদিও দীপালি সেই শো জিততে পারেননি এবং মাঝপথেই এলিমিনেট হয়ে যান, তবে শো-এর সঞ্চালিকা মিনি মাথুর সেদিন ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন যে— ‘একদিন গোটা দেশ দীপালির সুরে সুর মেলাবে।’ অবশেষে ২০ বছর পর, ২০২৬ সালে এসে সেই ভবিষ্যৎবাণী অক্ষরে অক্ষরে সত্যি হলো।
{{/usCountry}}‘ভেবেছিলাম আর কোনওদিন কথা বলতে পারব না’— কণ্ঠস্বর হারানোর সেই ভয়ঙ্কর দিন
সম্প্রতি ‘দ্য হিন্দু’ (The Hindu)-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে দীপালি তাঁর জীবনের এক অন্ধকার অধ্যায়ের কথা শেয়ার করেছেন। রিয়্যালিটি শো-তে একটানা গান গাওয়া এবং পরবর্তীতে অন্য একটি সিজনে অ্যাঙ্করিং বা সঞ্চালনা করার কারণে তাঁর কণ্ঠনালীতে (Voice box) মারাত্মক চোট লেগেছিল। অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিল যে ডাক্তাররা তাঁকে গান গাওয়া ছেড়ে দেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
দীপালি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘একজন ডাক্তার আমাকে বলেছিলেন যে আমি যেন গান গাওয়ার কথা মাথা থেকেই বের করে দিই। আমি যদি এভাবেই রেওয়াজ (Riyaaz) চালিয়ে যাই, তবে আমি কোনওদিন আর কথাই বলতে পারব না! একজন অল্পবয়সী মেয়ের পক্ষে এই কথা মেনে নেওয়া কতটা কঠিন ছিল তা বোঝাতে পারব না। ডাক্তারের সেই রূঢ় কথা আমাকে মানসিক আঘাত দিয়েছিল এবং আমি বহু বছর গান থেকে দূরে সরে গিয়েছিলাম।’
অভিনয় থেকে রহমানের ছবিতে বলিউডে গ্র্যান্ড ডেবিউ
গান গাইতে না পেরে একপ্রকার বাধ্য হয়েই দীপালি অভিনয়ের দিকে ঝোঁকেন এবং পুনের এফটিআইআই (FTII)-তে ভর্তি হন। তবে ভাগ্যের চাকা ঘোরে যখন তাঁর আলাপ হয় বলিউডের প্রখ্যাত সিনেমাটোগ্রাফার বাবা আজমি (শাবানা আজমির ভাই)-র সাথে। বাবা আজমিই দীপালির প্রতিভাকে চিনে তাঁকে আবারও গান গাওয়ার জন্য জোর দেন এবং উৎসাহিত করেন।
বছরের পর বছর কঠোর সংগ্রাম এবং কণ্ঠস্বর ফিরে পাওয়ার দীর্ঘ লড়াইয়ের পর, অবশেষে এ আর রহমানের হাত ধরে বলিউডে এক ঐতিহাসিক ডেবিউ করলেন দীপালি। ইমতিয়াজ আলীর ছবিতে তাঁর গাওয়া গানটি আজ আপামর ভারতীয় সঙ্গীতপ্রেমীদের চোখের জল ফেলছে।