অবশেষে প্রকাশ্যে এসেছে আখরি সাওয়াল ছবির ট্রেলার। সেন্সর বোর্ডের অনুমোদন পাওয়ার পর আগামী ১৫ মে মুক্তি পাচ্ছে সঞ্জয় দত্ত অভিনীত এই ছবি। প্রথমে ছবিটি ৩০ এপ্রিল মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও, সেন্সর বোর্ডে আটকে যাওয়ায় সিনেমার রিলিজ পিছিয়ে যায়।

ছবির গল্পে দেখা যাবে এক প্রফেসর এবং তাঁর ছাত্রদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক। সেই বিতর্কের মাধ্যমে ভারতের ইতিহাসের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তুলে ধরা হচ্ছে। ট্রেলারে ইতিহাস, রাজনীতি এবং মতাদর্শের সংঘর্ষকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা।
কী দেখানো হয়েছে ‘আখরি সওয়াল’-এর ট্রেলারে
ট্রেলারের শুরুতেই উঠে আসে ভারতের জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গ। ব্যাকগ্রাউন্ডে ভয়েস ওভার শোনা যায়, ‘১৯৭৫ নিয়ে কী বলবেন? ইমারজেন্সি?’
এরপর পর্দায় সেই সময়ের সংবাদপত্রের কাটিং এবং পুরনো ফুটেজ দেখানো হয়। সেখানে ইন্দিরা গান্ধীর কণ্ঠে শোনা যায়, ‘ভাই ও বোনেরা, রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।’
এরপর ভয়েস ওভার চলতে থাকে— ‘আপনাদের নেতারা ইন্দিরা গান্ধীকে চিঠি লিখছিলেন। ১৯৯২, বাবরি মসজিদ? যদি আরএসএস এত শান্তিপূর্ণ এবং সমাজসেবী সংগঠন হয়, তাহলে সেই দিন ওদের লোকেরা গম্বুজে উঠেছিল কেন? আজ আপনাদের এই প্রশ্নের উত্তর দিতেই হবে প্রফেসর, যে কোনও মূল্যে।’
এই প্রশ্নগুলি করেন নমাশি চক্রবর্তী অভিনীত চরিত্র ভিকি হেগড়ে, যার জবাব চাইছেন তিনি প্রফেসর গোপাল নাডকর্ণীর কাছে।
সঞ্জয় দত্ত ও নমশি চক্রবর্তী মুখোমুখি
{{/usCountry}}এই প্রশ্নগুলি করেন নমাশি চক্রবর্তী অভিনীত চরিত্র ভিকি হেগড়ে, যার জবাব চাইছেন তিনি প্রফেসর গোপাল নাডকর্ণীর কাছে।
সঞ্জয় দত্ত ও নমশি চক্রবর্তী মুখোমুখি
{{/usCountry}}এরপর সঞ্জয় দত্তকে বলতে শোনা যায়, ‘এই ডিবেট-টিবেট বাইরের চিন্তাভাবনা ভিকি। ডিবেট মানে বিতর্ক। ভারত বিতর্কে নয়, সংলাপে বিশ্বাস করে। কনস্ট্রাকটিভ ডিসকাশনে বিশ্বাস করে।’ অন্যদিকে সমীরা রেড্ডি বলেন, ‘সত্যকে শুধু বর্ণনা করা হয় না, ন্যারেটিভও তৈরি করা হয়।’
ট্রেলারে আরও একটি সংলাপ বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। সেখানে সঞ্জয় দত্ত বলেন, ‘ভালোই হয়েছে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের সময় সোশ্যাল মিডিয়া ছিল না। আজকের তথাকথিত লেফটিস্টরা যদি তখন থাকত এবং শুনত যে আফজল খানের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন শিবাজি, তাহলে হ্যাশট্যাগ চালু হয়ে যেত— 'শিবাজি কি আত্মসমর্পণ করতে চলেছেন'?’
কী নিয়ে ছবির গল্প
ছবির গল্প মূলত আরএসএস-এর ১০০ বছরের যাত্রাকে কেন্দ্র করে তৈরি। বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনাকে ঘিরে প্রশ্ন তোলা হয়েছে ছবিতে। ভিকি নামে এক গবেষক আরএসএস-কে নিয়ে একটি থিসিস তৈরি করে। কিন্তু তাঁর প্রফেসর গোপাল নাডকর্ণী সেই থিসিস খারিজ করে দেন। এরপর শুরু হয় দু’জনের মধ্যে এক তীব্র অ্যাকাডেমিক বিতর্ক, যা ধীরে ধীরে বড় আকার নেয়। বিষয়টি পৌঁছে যায় সংবাদমাধ্যম এবং টেলিভিশন ডিবেটেও।
এরপর কলেজের অন্যান্য ছাত্রছাত্রী, সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও এই বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। ফলে গল্প আরও জটিল এবং উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ছবির তারকা কাস্ট
ছবিতে সঞ্জয় দত্ত অভিনয় করেছেন প্রফেসর গোপাল নাডকর্ণীর চরিত্রে। নমশি চক্রবর্তী রয়েছেন তাঁর ছাত্র ভিকি হেগড়ের ভূমিকায়। এছাড়া অমিত সাধ অভিনয় করেছেন আদিত্য রাও চরিত্রে। সমীরা রেড্ডি রয়েছেন প্রফেসর পল্লবী মেননের ভূমিকায় এবং নীতু চন্দ্রা অভিনয় করেছেন কাব্য রাওয়াতের চরিত্রে।