উপমহাদেশের সঙ্গীত জগতের এক জীবন্ত কিংবদন্তি রুনা লায়লা (Runa Laila)। তাঁর কণ্ঠের জাদু বাংলা, হিন্দি, উর্দু কিংবা পাঞ্জাবি— সমস্ত ভাষার সীমানা পেরিয়ে কোটি কোটি সঙ্গীতপ্রেমীর হৃদয় জয় করেছে। ৭৪ বছর বয়সেও তাঁর কণ্ঠ ঝড় তোলে তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে। সম্প্রতি রুনা লায়না সঙ্গীতসন্ধ্যায় চেনা মেজাজে পাওয়া গেল শিল্পীকে। স্টেজে আলাপচারিতার মাঝে ফিরে এল ভারতের বিশিষ্ট সাংবাদিক তথা লেখক খুশবন্ত সিং (Khushwant Singh)-এর একটি বহুল চর্চিত মন্তব্য।

‘রুনা লায়লাকে দিয়ে দাও, বদলে ফারাক্কা নিয়ে যাও’
ইলাস্ট্রেটেড উইকলি অব ইন্ডিয়া’-র নামজাদা সম্পাদক ছিলেন খুশবন্ত সিং। তিনি সাধারণত খুব কম মানুষেরই প্রশংসা করতেন, সমালোচনাই বেশি করতেন। কিন্তু দিল্লিতে রুণা লায়লার একটি কনসার্ট পুরোটা দেখার পর তিনি তাঁর পত্রিকায় বাংলাদেশি গায়িকাকে নিয়ে লম্বা আর্টিকেল লেখেন খুশবন্ত সিং।
কী লিখেছিলেন খুশবন্ত সিং?
দিল্লির সেই কনসার্টে এসে খুশবন্ত সিং গায়িকার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কোনো কথা বলেননি। কিন্তু পরে নিজের পত্রিকায় তিনি লেখেন, ‘ রুনা লায়লার পারফরম্যান্স কেবল কান দিয়ে শোনার নয়, তাঁর উপস্থিতি ও পরিবেশনা দৃশ্যতও এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।’ বাংলাদেশ সরকারের উদ্দেশ্যে রসিকতা ও গভীর প্রশংসার ছলে খুশবন্ত সিং লিখেছিলেন—'দয়া করে রুনা লায়লাকে আমাদের দিয়ে দিন, আর বিনিময়ে ফারাক্কার সমস্ত জল নিয়ে নিন।'
‘ফারাক্কার বিনিময়ে ভারতে যাইনি, এই দেশেই থাকব’
খুশবন্ত সিং-এর এই প্রসঙ্গের ওপর ভিত্তি করে ভারতে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার প্রস্তাব ও প্রলোভন নিয়ে রুনা লায়লা স্পষ্ট জানান, ‘ফারাক্কার বিনিময়ে হলেও আমাকে ভারত চেয়েছিল, কিন্তু আমি যাইনি। আমি এই দেশেই আছি, আর এইখানেই থাকব।’
সীমান্ত ছাড়ানো সুরের জাদু
{{/usCountry}}সীমান্ত ছাড়ানো সুরের জাদু
{{/usCountry}}ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ— উপমহাদেশের তিন দেশেই সমান জনপ্রিয় রুনা লায়লা। ‘দমাদম মাস্ত কালান্দার’ থেকে শুরু করে ‘দে দে পিয়ার দে’ বা ‘সাধের লাউ’— তাঁর প্রতিটি গানই কালজয়ী। ভারতের সঙ্গীত জগৎ তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মান জানালেও এবং বারবার তাঁকে আপন করে নিতে চাইলেও, তিনি সর্বদা নিজ দেশ বাংলাদেশের পরিচয়েই বিশ্বমঞ্চে গান গেয়ে গিয়েছেন।