বলিউড অভিনেতা গোবিন্দা প্রায়শই তাঁর প্রয়াত মা নির্মলা দেবীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা বলেছেন। সম্প্রতি এবিপি লাইভকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গোবিন্দা তাঁর মায়ের ত্যাগের কথা বলেছেন এবং স্মরণ করেছেন কেন তিনি অভিনয় জীবন ছেড়ে দিয়ে সাধিকা হয়েছিলেন।

নির্মলা দেবী হিন্দি সিনেমায় প্রধান অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করলেও এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যে ইন্ডাস্ট্রি থেকে সরে দাঁড়ান। গোবিন্দা স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘নায়িকা হওয়ার পর আমার মা নির্মলা দেবী এতটাই গরিব হয়ে গিয়েছিলেন যে আমাদের বাংলোর সমস্ত জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।’
তাঁর মা কেন সাধিকা হয়েছিলেন, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গোবিন্দা বলেন, 'আমার বাবা মাকে বলেছিলেন, ‘নির্মলা, তুমি এতই সুন্দরী যে, যখন কাজের খোঁজে বাইরে যাবে, লোকেরা তোমার দিকে অন্যরকম দৃষ্টিতে তাকাবে।’
আরও পড়ুন: ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’ মুক্তির আগে ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে পায়েল-সব্যসাচী, দিলেন পুজো
'বাবার কথা শুনে আমার মা মাথা কামিয়ে সাধ্বী হয়ে গেলেন। তিনি বললেন, ‘আমার ছেলেমেয়েরা বড় হোক’। এমন মায়ের ছেলে হয়ে, কে আমাকে নিয়ে কী বলছে তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমি সেদিকে ফিরেও তাকাচ্ছি না।' বললেন গোবিন্দা।
গোবিন্দা আরও জানান যে তাঁর মা কখনও চাননি তিনি নায়ক হন। অভিনেতা হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করার পর তাঁর মা কেমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন, তা স্মরণ করে তিনি জানান, তাঁর মা মনে করতেন বিনোদন জগতের চাহিদার জন্য তিনি বড্ড বেশি সরল। তিনি এও চাইতেন না যে গোবিন্দা ধূমপান বা মদ্যপান করুক। গোবিন্দ জানান, তাঁর মা চাইতেন তিনি ব্যাঙ্কে চাকরি করুন, কিন্তু তাঁর বাবা তাঁর সম্ভাবনায় বিশ্বাস করতেন।
{{/usCountry}}গোবিন্দা আরও জানান যে তাঁর মা কখনও চাননি তিনি নায়ক হন। অভিনেতা হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করার পর তাঁর মা কেমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন, তা স্মরণ করে তিনি জানান, তাঁর মা মনে করতেন বিনোদন জগতের চাহিদার জন্য তিনি বড্ড বেশি সরল। তিনি এও চাইতেন না যে গোবিন্দা ধূমপান বা মদ্যপান করুক। গোবিন্দ জানান, তাঁর মা চাইতেন তিনি ব্যাঙ্কে চাকরি করুন, কিন্তু তাঁর বাবা তাঁর সম্ভাবনায় বিশ্বাস করতেন।
{{/usCountry}}আরও পড়ুন: চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন হবে ভিক্টোরিয়ায়, অতিথির তালিকা প্রকাশ মিঠুনের
নির্মলা দেবী প্রসঙ্গে
নির্মলা দেবী ছিলেন একজন অভিনেত্রী এবং হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী, যিনি ১৯৪০-এর দশকের গোড়ার দিকে তাঁর চলচ্চিত্র জীবন শুরু করেন। ভি.সি. দেশাই পরিচালিত 'সাভেরা' (১৯৪২) ছবির মাধ্যমে তিনি অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ করেন, যেখানে তিনি অরুণ কুমার আহুজার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন, যাঁকে তিনি সেই বছরেই বিয়ে করেন। এরপর তিনি 'শারদা' (১৯৪২), 'কানুন' (১৯৪৩), 'গীত' (১৯৪৪), 'গালি' (১৯৪৪) এবং 'পিয়া মিলন' (১৯৪৫)-এর মতো ছবিতে অভিনয় করেন। 'চলিস করোড়' (১৯৪৬) ছবিতে তাঁর অভিনয়ও প্রশংসা লাভ করে।
পরবর্তীতে তিনি তাঁর স্বামীর প্রযোজিত ঘরোয়া প্রযোজনা ‘ঘুংঘাট’ (১৯৪৬) এবং ‘সেহরা’ (১৯৪৮)-তে অভিনয় করেন। তিনি ‘অনমোল রতন’ (১৯৫০) এবং ‘জয় মহালক্ষ্মী’ (১৯৫১)-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় চালিয়ে যান, যার মধ্যে জয় মহালক্ষ্মী ছিল তাঁর শেষ পর্দায় উপস্থিতি। অভিনয় ছাড়ার পর তিনি সঙ্গীতচর্চা চালিয়ে যান এবং ঠুমরি পরিবেশনার জন্য পরিচিত একজন হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় কণ্ঠশিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
গোবিন্দার প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে
প্রায় সাত বছর পর ‘রূপা’ এবং ‘দুনিয়াদারি’ দিয়ে বড় পর্দায় ফিরতে চলেছেন অভিনেতা। তিনি ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ছবি দুটির ঘোষণা দেন। ‘রূপা’ ছবিতে তিনি নবাগত রানি স্বর্ণকারের বিপরীতে অভিনয় করবেন এবং এই প্রজেক্টটির প্রযোজনাও করছেন।