দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গীত জগতে কার জনপ্রিয়তা বেশি আতিফ আসলাম না অরিজিৎ সিং? এই প্রশ্নের উত্তর বেশ কঠিন। এলওসি-র দুই পারের সঙ্গীত আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল দুই নক্ষত্রের নাম — অরিজিৎ সিং এবং আতিফ আসলাম। প্রায়শই দুই শিল্পীর ভক্তদের মধ্যে কে সেরা, তা নিয়ে তুলনা চলে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অরিজিৎ সিংয়ের সঙ্গে এই তুলনা এবং তাঁর গান নিয়ে মুখ খুললেন পাকিস্তানি গায়ক আতিফ আসলাম।

অরিজিতের গায়কি ও ব্যক্তিত্বের প্রশংসা:
অরিজিতের সঙ্গে তুলনার কথা উঠতেই এক বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমকে আতিফ অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে বলেন, ‘উনি দুর্দান্ত! ভীষণ মিষ্টি একটা মানুষ। আমার মনে হয় এই মুহূর্তে ভারতে তাঁর মতো গায়ক মতো কেউ নেই... আমার তাঁর সঙ্গে কখনও দেখা হয়নি, তবে শুনেছি সে অত্যন্ত একজন নরম মনের মানুষ, এককথায় খুব ভালো ছেলে।’ আতিফ জানান, অরিজিৎ কখনও তাঁর বিরুদ্ধে কিছু বলেননি এবং তাঁর মিউজিকের প্রতি সবসময় যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল থেকেছেন।
আতিফ ও অরিজিৎ-এর বয়সের ফারাক মাত্র ৫ বছরের। যদিও কেরিয়ারের নিরিখে আতিফ জিয়াগঞ্জের ভূমিপুত্রের চেয়ে অনেকটাই সিনিয়র। ২০০৫ সালে ওহ লমহে গেয়ে গোটা ভারত মাতিয়েছিলেন পাক তারকা। সেইসময় ফেম গুরুকুলে অংশ নেন অরিজিৎ। এরপর লম্বা সময় মুম্বইয়ে স্ট্রাগল করেছেন তিনি। ২০১৪ সালে আশিকি ২-এর তুম হি হো অরিজিৎ-এর কেরিয়ারের চাকা ঘুরিয়ে দেয়।
একই গান দুজনের কণ্ঠে ও আতিফের খোলামেলা বক্তব্য:
{{/usCountry}}একই গান দুজনের কণ্ঠে ও আতিফের খোলামেলা বক্তব্য:
{{/usCountry}}সঞ্চালক যখন প্রশ্ন করেন, বলিউড ছবিতে একই গান তাঁরা দুজনে গেয়েছেন, সে ক্ষেত্রে কার ভার্সনটি বেশি ভালো লাগে বা সেরা? এ প্রসঙ্গে ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্কের রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে আতিফ বলেন: ‘আমি বেশ কিছু গান করেছি যেগুলো সে-ও গেয়েছে। এটা স্রেফ এই কারণেই ঘটেছিল কারণ ভারতে আমাদের পারফর্ম করার অনুমতি ছিল না। আর এই কারণেই এমনটা ঘটেছিল, তবে আমি ভীষণ আনন্দিত যে অরিজিৎ ওই গানগুলো গেয়েছিল, কারণ তাঁর গলায় গানগুলো দুর্দান্ত শুনিয়েছিল।’
আতিফ স্পষ্টভাবে জানান, ভারতে পাকিস্তানি শিল্পীদের পারফর্ম করায় নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণেই তাঁর গাওয়া একাধিক গান পরবর্তীতে অরিজিৎকে দিয়ে গাওয়ানো হয়েছিল। তবে এতে তিনি এতটুকু ক্ষুব্ধ নন, বরং অরিজিৎ সেই গানগুলো অত্যন্ত দুর্দান্তভাবে গেয়েছেন বলে সানন্দে প্রশংসা করেন আতিফ।
দুই দেশের সীমান্ত পারের এই শিল্পীসুলভ ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন আবারও প্রমাণ করল যে, শিল্পের কোনো সীমান্ত হয় না।