বলিউডের মেলোডি কুইন শ্রেয়া ঘোষাল বিগত দুই দশক ধরে ভারতীয় সংগীত জগতের অন্যতম শীর্ষ তারকা। ২০০২ সালে ‘দেবদাস’ সিনেমার মাধ্যমে আত্মপ্রকাশের পর থেকে নিজের ঝুলিতে একের পর এক হিট গান পুরেছেন তিনি। তবে তারকাখ্যাতির আলো থেকে নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে সবসময়ই কিছুটা আড়ালে রাখতে পছন্দ করেন এই গায়িকা। ২০১৫ সালে ছেলেবেলার বন্ধু তথা উদ্যোক্তা শিলাদিত্য মুখোপাধ্যায়কে বিয়ে করেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের সাংসারিক জীবন ও স্বামী শিলাদিত্যর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন শ্রেয়া।

১০ বছরের প্রেম ও বিয়ের গল্প:
শ্রেয়া ও শিলাদিত্যর পরিচয় শৈশব থেকে, প্রায় তিন দশক ধরে তাঁরা একে অপরকে চেনেন। ২০০২ সালে শ্রেয়া যখন সংগীত জগতে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলছেন, তখন শিলাদিত্যও টেক ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা তৈরি করছিলেন; ঠিক সেই সময় থেকেই তাঁদের প্রেমের সূচনা। দীর্ঘ ১০ বছর চুটিয়ে প্রেম করার পর ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি এক ঐতিহ্যবাহী বাঙালি রীতিতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তাঁরা। ২০২১ সালে তাঁদের কোল আলো করে আসে পুত্রসন্তান দেবযান।
সংসার সামলানো ও শিলাদিত্যর সাপোর্ট:
{{/usCountry}}সংসার সামলানো ও শিলাদিত্যর সাপোর্ট:
{{/usCountry}}'দ্য মেল ফেমিনিস্ট পডকাস্ট'-এ নিজের বৈবাহিক জীবনের সমতা এবং শিলাদিত্যর অসামান্য সহযোগিতার কথা শেয়ার করেন শ্রেয়া। নিজেকে ‘ভাগ্যবতী’ দাবি করে শ্রেয়া বলেন, ‘আমি খুবই ভাগ্যবতী যে ওঁর মতো একজনকে পেয়েছি। ও একাই পুরো ঘরের দেখভাল করে। ও নিজের শর্তে বাঁচতে ভালোবাসে, তাই নিজের থালাবাসন নিজেই ধোয়, রান্নাঘর পরিষ্কার করে। এমনকি আমি এসব কাজ করতে গেলে ও রেগে যায়!’ ১৪০৬ কোটির কোম্পানির মাথা শ্রেয়ার বর শিলাদিত্য়, তিনি নিজের হাতে সংসারের কাজ করেন!
অহংকারহীন সম্পর্ক ও পেশাগত স্বাধীনতা:
কাজের সূত্রে বছরের পর বছর ধরে মাসের পর মাস বাড়ির বাইরে থাকতে হয় শ্রেয়াকে। তবে ডেটিংয়ের দিনগুলো থেকেই শিলাদিত্য ভীষণ নিরাপত্তাবোধে ভরপুর এবং একজন ইগো-মুক্ত মানুষ। শ্রেয়ার কথায়, সারাদিন কড়া পরিশ্রমের পর দুজন মিলে একসঙ্গে সংসারের কাজ সামলান তাঁরা।
মিউজিক্য়াল ট্যুর বা কনসার্টের জন্য মাসের পর মাস বউ বাইরে থাকলেও শিলাদিত্য কখনও জবাবদিহি চাননি বা অভিযোগ করেননি।
দুজন মানুষের মধ্যে কোনো অহংকার নেই, আর এখন তাঁদের খুদে সন্তান দেবযানই তাঁদের জীবনের মূল কেন্দ্রবিন্দু। পেশাগত সাফল্যের চূড়ান্ত শিখরে থাকা শ্রেয়া ঘোষাল যে ব্যক্তিগত জীবনেও এক সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ সাংসারিক সঙ্গীকে পাশে পেয়েছেন, তা তাঁর এই খোলামেলা স্বীকারোক্তিতেই স্পষ্ট।