বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণের পর তাঁর পরিবারকে ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি হলেও, সেই সব জল্পনায় কার্যত ইতি টানলেন স্ত্রী হেমা মালিনী। এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী-সাংসদ জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগে ধর্মেন্দ্র তাঁকে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি গুরুত্ব দিতে বলেছিলেন, তা হল পরিবারের ঐক্য। শুধু তাই নয়, সানি দেওল ও ববি দেওলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়েও মুখ খুলেছেন হেমা। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাইরে থেকে যা-ই মনে হোক না কেন, দেওল পরিবার আজও একসঙ্গেই রয়েছে।
ধর্মেন্দ্রর শেষ বার্তা ছিল পরিবারকে ঘিরেই

হিন্দি রাশ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হেমা মালিনী জানান, ধর্মেন্দ্র সবসময়ই পরিবারকে জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মনে করতেন। তাঁর কথায়, অভিনেতা বারবার বলতেন সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটাতে এবং পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে ধরে রাখতে।
হেমার ভাষায়, ধর্মেন্দ্র তাঁকে বলেছিলেন, ‘যতটা সম্ভব বাচ্চাদের সঙ্গে থেকো। পরিবারের সঙ্গে থেকো। কাজ সবসময় চলবে, কিন্তু পরিবারের গুরুত্ব যেন কখনও কমে না যায়। আজকাল সবাই নিজের নিজের জীবনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, কিন্তু পরিবারের বন্ধনটাই সবচেয়ে জরুরি।’
‘আমরা দেখাই না, কিন্তু আমরা সবাই এক’
ধর্মেন্দ্রর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই আলোচনার শেষ নেই। প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌরের সংসারে তাঁর চার সন্তান—সানি দেওল, ববি দেওল, অজিতা ও বিজয়েতা। পরে ১৯৮০ সালে হেমা মালিনীকে বিয়ে করেন তিনি। তাঁদের দুই মেয়ে এষা দেওল ও অহনা দেওল। সাক্ষাৎকারে সানি ও ববি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে হেমা তাঁদের প্রশংসায় ভরিয়ে দেন। তিনি বলেন, দু'জনেই অত্যন্ত ভালো মানুষ।
হেমার কথায়, ‘সানি খুব ভালো ছেলে। ববিও দারুণ। আমরা সবসময় একসঙ্গে থাকি। আমরা আমাদের সম্পর্ক নিয়ে প্রচার করি না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমরা সবাই খুব ভালো আছি। আমাদের একতা আছে, আর এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
মানুষকে ভালোবাসাই ছিল ধর্মেন্দ্রর স্বভাব
{{/usCountry}}হেমার কথায়, ‘সানি খুব ভালো ছেলে। ববিও দারুণ। আমরা সবসময় একসঙ্গে থাকি। আমরা আমাদের সম্পর্ক নিয়ে প্রচার করি না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমরা সবাই খুব ভালো আছি। আমাদের একতা আছে, আর এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
মানুষকে ভালোবাসাই ছিল ধর্মেন্দ্রর স্বভাব
{{/usCountry}}স্বামীর ব্যক্তিত্বের এমন কিছু দিকও তুলে ধরেন হেমা, যা সাধারণ মানুষ হয়তো খুব একটা জানেন না। তাঁর মতে, এত বড় তারকা হওয়ার পরও ধর্মেন্দ্র সারাজীবন মাটির মানুষ হিসেবেই থেকেছেন। হেমা জানান, বাড়ির বাইরে কোনও ভক্ত এলেই ধর্মেন্দ্র জানতে চাইতেন কে এসেছে! ছবি তুলতে চাইলে বা দেখা করতে চাইলে তিনি কাউকে ফিরিয়ে দিতেন না। বরং অতিথিদের বাড়ির ভেতরে ডেকে এনে আপ্যায়ন করতেন।তিনি বলেন, ধর্মেন্দ্র মানুষের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসতেন। কবিতা লেখা ও আবৃত্তিও ছিল তাঁর অন্যতম নেশা, যা তিনি ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পছন্দ করতেন।
'কঠিন সময় থেকে পালিও না'—এই শিক্ষাই দিয়ে গিয়েছেন
হেমা মালিনীর কথায়, ধর্মেন্দ্র শুধু একজন সফল অভিনেতাই ছিলেন না, জীবনের শিক্ষকও ছিলেন। তিনি সবসময় বিশ্বাস করতেন, সমস্যার সামনে থেকে পালিয়ে নয়, তার মুখোমুখি হয়েই সমাধান খুঁজে নিতে হয়।
অভিনেত্রী বলেন, তিনি একজন অত্যন্ত স্নেহশীল বাবা এবং নাতি-নাতনিদের কাছে আদর্শ দাদু ছিলেন। আজও পরিবারের ছোট সদস্যরা তাঁকে ভীষণভাবে মিস করে।
যদিও ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর পর মুম্বইয়ে দেওল পরিবারের উদ্যোগে একটি স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছিল। তবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন না হেমা মালিনী ও তাঁর দুই মেয়ে। একই দিনে নিজের বাড়িতেই আলাদা করে প্রার্থনা সভার আয়োজন করেন হেমা। এরপর দিল্লিতেও প্রয়াত অভিনেতার স্মরণে একটি বিশেষ প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জগতের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ছিলেন না প্রথম পক্ষের কোনো সন্তান