টালিগঞ্জ মানেই অরূপ বিশ্বাস— এই দীর্ঘকালীন সমীকরণ ২০২৬-এর মে মাসে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। বিজেপির পাপিয়া অধিকারীর কাছে হেভিওয়েট অরূপ বিশ্বাসের পরাজয় নিশ্চিত হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হলেন প্রভাবশালী প্রযোজক হিমাংশু ধানুকা। কোনো লুকোছাপা নয়, বরং স্বরূপ বিশ্বাস ও অরূপ বিশ্বাসের ‘দাদাগিরি’র বিরুদ্ধে নাম না করেই তোপ দাগলেন তিনি। তবে হিংমাশু যে বিশ্বাস ব্রাদার্সের দিকেই আঙুল তুলছেন তা স্পষ্ট।

পুরনো ক্ষত বনাম বাংলার মানুষের রায়:
হিমাংশু ধানুকা মনে করিয়ে দিয়েছেন সেই অন্ধকার সময়ের কথা, যখন লন্ডনের মাটিতে টলিউডের ছবির শুটিং আটকে দিয়েছিল ফেডারেশন। তিনি লিখেছেন, ‘কয়েক বছর আগে যখন ব্রিটেনে আমাদের ছবির শুটিং মাঝপথে থমকে গিয়েছিল, তখন জনসমক্ষে সাহায্যের আর্জি জানিয়েছিলাম। কিন্তু সেই সময় সব পক্ষ থেকে শুধু নীরবতা মিলেছিল।’ ধানুকার স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল অরূপ ও স্বরূপ বিশ্বাসের দিকে, যাঁদের অঙ্গুলিহেলনে সে সময় টেকনিশিয়ানদের কাজ করা থেকে বিরত রাখা হয়েছিল।
জনতার গর্জন ও গণতন্ত্রের জয়:
বিজেপিকে অভিনন্দন জানিয়ে ধানুকা তাঁর পোস্টে আরও লেখেন, ‘আজ বাংলার মানুষ কথা বলেছে। গণতন্ত্রে মানুষের গলার স্বরই শেষ কথা। এই জনাদেশ শুধু রাজনৈতিক নয়, এটা পরিবর্তনের চাহিদা, দায়বদ্ধতা এবং প্রতিভাকে সম্মান জানানোর লড়াই।’ তাঁর মতে, টলিউডের সৃজনশীল মানুষদের এবার আর কারো দয়ায় বা ভয়ে কাজ করতে হবে না।
ফেডারেশনের ‘দাদাগিরি’র অবসান?
{{/usCountry}}ফেডারেশনের ‘দাদাগিরি’র অবসান?
{{/usCountry}}স্বরূপ বিশ্বাস দীর্ঘকাল ধরে ফেডারেশনের মাথায় থেকে স্টুডিও পাড়া নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন বলে অভিযোগ বিরোধীদের। ধানুকার এই পোস্ট যেন সেই ‘সিস্টেম’কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করল। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এবার টলিপাড়ার ইকোসিস্টেম আরও স্বচ্ছ হবে এবং মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের যোগ্য সম্মান মিলবে।
টালিগঞ্জে উলটপুরাণ:
বিজেপির পাপিয়া অধিকারীর এই জয় শুধু একটি আসনের জয় নয়, এটি টলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ওপর বিশ্বাস ভাইদের একচ্ছত্র আধিপত্যের পতন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফল প্রকাশের পর থেকেই টলিপাড়ার অলিতে-গলিতে চাপা উত্তেজনা— অনেকেই আশা করছেন, এবার হয়তো সত্যিই ‘ভয়মুক্ত’ হয়ে কাজ করার পরিবেশ ফিরবে।
হিমাংশু ধানুকার এই বিস্ফোরক পোস্টের পর স্বরূপ বা অরূপ বিশ্বাসের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে ২০২৬-এর এই ফল যে টলিউডের রাজনীতির খোলনলচে বদলে দেবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।