সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI)-এর শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর পর এবার জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া (Jamia Millia Islamia)-র ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে প্রকাশ্যে সরব হলেন প্রবীণ অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা স্টুডেন্টস ইউনিয়ন পুনর্গঠন ও নির্বাচনের দাবিতে সরব জামিয়ার শিক্ষার্থীদের ওপর প্রশাসনের মনোভাবের তীব্র বিরোধিতা করে কেন্দ্রকে নিশানা করেছেন তিনি।

‘দিমাগি নকশাল’ ব্যাজ পরে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ:
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা একটি ভিডিওতে অভিনেতা জামিয়া শিক্ষার্থীদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান। ভিডিওতে পোশাকে ‘দিমাগি নকশাল’ (Dimagi Naxal) লেখা একটি ব্যাজ উঁচিয়ে ধরে অভিনেতা বলেন, ‘আমি গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে আমি একজন দিমাগি নকশাল! জানি না আমাদের দেশের প্রহরীরা আমাদের মতো মানুষদের আর কী কী নাম দিয়েছেন— দেশবিরোধী, ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’ এবং আরও কত কী!’
সরকারের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলে ৭৬ বছর বয়সী অভিনেতা বলেন, ‘আমি এই সরকারকে একটা প্রশ্ন করতে চাই। দেশের যুবসমাজের মনোবল ভাঙতে, শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে এবং আমাদের গণতন্ত্রকে বিপন্ন করতে আপনারা আর কী করবেন? কতদূর যাবেন আপনারা?’
‘সব মনে রাখা হবে’: কবিতা উদ্ধৃত করে হুঙ্কার:
ভিডিওতে শিক্ষার্থী নিপীড়নের অতীত ঘটনা স্মরণ করে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এই প্রবীণ অভিনেতা ক্ষোভ উগরে দেন। কবি আমির আজিজের বিখ্যাত কবিতার লাইন উদ্ধৃত করে নাসিরুদ্দিন শাহ বলেন, ‘প্রথমে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (JNU), তারপর সত্যজিৎ রায় ফিল্ম ইনস্টিটিউট, আর এখন জামিয়া মিলিয়া... শিক্ষার্থীদের ওপর যে অত্যাচার চালানো হচ্ছে তা ইতিহাস মনে রাখবে। ‘সব ইয়াদ রাখা জায়েগা’ (সব মনে রাখা হবে)।’
এর পাশাপাশি কবি বিসমিল আজিমাবাদীর কালজয়ী ‘সরফরোশি কি তামান্না’ কবিতার বিখ্যাত পংক্তি— ‘দেখনা হ্যায় জোর কিতনা বাজু-এ-কাতিল মেঁ হ্যায়’ আবৃত্তি করে প্রতিবাদী ছাত্রদের উৎসাহিত করেন তিনি। উল্লেখ্য, এর আগে জুলাই মাসে নিট (NEET) পরীক্ষার অসঙ্গতি নিয়েও সরব হয়েছিলেন তিনি।
{{/usCountry}}এর পাশাপাশি কবি বিসমিল আজিমাবাদীর কালজয়ী ‘সরফরোশি কি তামান্না’ কবিতার বিখ্যাত পংক্তি— ‘দেখনা হ্যায় জোর কিতনা বাজু-এ-কাতিল মেঁ হ্যায়’ আবৃত্তি করে প্রতিবাদী ছাত্রদের উৎসাহিত করেন তিনি। উল্লেখ্য, এর আগে জুলাই মাসে নিট (NEET) পরীক্ষার অসঙ্গতি নিয়েও সরব হয়েছিলেন তিনি।
{{/usCountry}}জামিয়া মিলিয়ার ছাত্র আন্দোলন প্রেক্ষাপট:
২০০৬ সালের পর থেকে দীর্ঘ দুই দশক ধরে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ছাত্রসংসদ নির্বাচন হয়নি। ছাত্রসংসদ নির্বাচন পুনরায় শুরু করা এবং ইউনিয়ন সংবিধান অনুমোদনের নির্দিষ্ট সময়সূচির (Timeline) দাবিতে টানা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
লাগাতার আন্দোলনের ১৫তম দিনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নীতিগতভাবে ভোট করাতে রাজি হলেও নির্বাচনের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেনি। ফলে ক্ষুব্ধ ছাত্রসমাজ আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রায় ৭০০ জন পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।