মা হওয়ার পর শরীরের ওজন বেড়েছে, আর তাতেই যেন ‘অপরাধ’ করে ফেলেছেন অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর! সম্প্রতি ২০১৮ সালের একটি পুরনো ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছিলেন ‘ভিরে দি ওয়েডিং’ খ্যাত এই তারকা। আর সেই ছবির নিচেই ধেয়ে আসে কুরুচিকর বডি-শেমিং। ১ মে নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে এক জনৈক ব্যক্তির মেসেজের স্ক্রিনশট শেয়ার করেন স্বরা, যেখানে লেখা ছিল— ‘কোথা থেকে কোথায় পৌঁছে গিয়েছ তুমি! এত ভালো অভিনেত্রী ছিলে... জানি না কেন এমন হলে?’

স্বরা ভাস্করের কড়া জবাব:
এই মেসেজের পাল্টা জবাবে স্বরা লেখেন, ‘মানুষ যখন এই ধরনের মেসেজ লেখে, তখন তাদের নিজেদের সম্পর্কে কোনও বোধ থাকে না দেখে অবাক লাগে।’ কিন্তু এখানেই শেষ নয়। ২ মে একটি দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে স্বরা প্রশ্ন তোলেন মহিলাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অবাস্তব সৌন্দর্যের মাপকাঠি নিয়ে।
অভিনয়ের সঙ্গে ওজনের সম্পর্ক নেই:
স্বরা একটি কোলাজ ছবি পোস্ট করেছেন। একদিকে ২০১৮ সালের তন্বী স্বরা, আর অন্যদিকে বর্তমানের স্বরা— যাঁর কোলে রয়েছে একরত্তি কন্যা রাবিয়া। ট্রোলারদের একহাত নিয়ে অভিনেত্রী লেখেন, ‘এই বিষয়ে আমি বারবার লড়ব! গত কয়েক বছরে মানুষ যেভাবে আমার ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছে কারণ সন্তান জন্মের পর আমার শরীর বদলে গিয়েছে এবং আমি অচেনা মানুষের বেঁধে দেওয়া সময়ে ওজন কমাতে রাজি হইনি... তা সত্যিই অদ্ভুত!’
‘আমি বাউন্স ব্যাক করতে চাইনি’:
বলিউডে মা হওয়ার পরপরই ‘জিরো ফিগার’-এ ফেরার যে হুজুগ, তার বিরুদ্ধে গর্জে উঠে স্বরা জানান, তিনি সজ্ঞানেই পুরনো চেহারায় দ্রুত ফিরে আসার লড়াইয়ে নামেননি। তাঁর সাফ কথা, ‘অভিনয় দক্ষতার সাথে ওজন কমানোর কোনো সম্পর্ক নেই।’ তিনি বিশ্বাস করেন, মাতৃত্বের এই পরিবর্তন অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং তা নিয়ে লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই।
{{/usCountry}}বলিউডে মা হওয়ার পরপরই ‘জিরো ফিগার’-এ ফেরার যে হুজুগ, তার বিরুদ্ধে গর্জে উঠে স্বরা জানান, তিনি সজ্ঞানেই পুরনো চেহারায় দ্রুত ফিরে আসার লড়াইয়ে নামেননি। তাঁর সাফ কথা, ‘অভিনয় দক্ষতার সাথে ওজন কমানোর কোনো সম্পর্ক নেই।’ তিনি বিশ্বাস করেন, মাতৃত্বের এই পরিবর্তন অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং তা নিয়ে লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই।
{{/usCountry}}মায়ের শরীর, স্রেফ পণ্য নয়:
স্বরা লিখেছেন, ‘মা হওয়ার পর ‘ফিরে আসা’ বা ‘বাউন্স ব্যাক’ বলে কিছু হয় না। কারণ সন্তান হওয়ার পর আপনি সারাজীবনের জন্য মা হয়ে যান। জীবনটাই আমূল বদলে যায়।’ তাঁর মতে, মহিলারা তাঁদের গর্ভে একটি প্রাণকে লালন করেন, পুষ্টি দেন এবং পৃথিবীর আলো দেখান— এই অসাধ্য সাধনের পর শরীরের পরিবর্তন হওয়াটাই স্বাভাবিক। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘কেন আমরা নিজেদের ওপর এই নিষ্ঠুরতা করব যে আমাদের পুরনো সেই কিশোরী বা তরুণী চেহারায় ফিরতেই হবে?’
ফিটনেস বনাম কৃত্রিম সৌন্দর্য:
স্বরা জানিয়েছেন, তিনি ফিটনেস বা স্বাস্থ্যের বিরোধী নন। কিন্তু সমাজ যেভাবে মহিলাদের একটি নির্দিষ্ট ‘বক্স’-এর মধ্যে আটকে রাখতে চায়, তিনি তার বিরোধী। তিনি বলেন, ‘জীবন মানেই সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। আমাদের নিজেদের শরীরকে সেই সময়টুকু এবং সম্মানটুকু দেওয়া উচিত।’ পোস্টপার্টাম ওজন বা গর্ভাবস্থার পরবর্তী ওজন নিয়ে ব্যঙ্গ করাকে তিনি ‘নির্বুদ্ধিতা এবং কদর্যতা’ বলে অভিহিত করেছেন।
নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া:
স্বরার এই বলিষ্ঠ পোস্টের পর অনেকেই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। নেটিজেনদের একাংশ বলছেন, সেলিব্রিটি মানেই যে সারাক্ষণ নিখুঁত থাকতে হবে— এই ধারণা ভাঙার সময় এসেছে। নিজের শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং নিজের ইচ্ছামতো জীবন কাটানোর যে অধিকার স্বরা দাবি করেছেন, তা অনেক মহিলার কাছেই আজ অনুপ্রেরণা।