নেটফ্লিক্সের ‘লক আপ সিজন ২’ (Lock Upp Season 2) শুরু হতেই নিত্যনতুন ড্রামা আর বিস্ফোরক সব রহস্যের পর্দাফাঁস হতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহে এই শো-এর প্রিমিয়ারে প্রতিযোগী হিসেবে এসে ‘অনুপমা’ খ্যাত অভিনেতা তথা বিগ বস বিজয়ী গৌরব খন্নার (Gaurav Khanna) সাথে নিজের ডিভোর্সের খবর দিয়ে শোরগোল ফেলেছিলেন অভিনেত্রী আকাঙ্ক্ষা চামোলা (Akanksha Chamola)। আর এই সপ্তাহে শো-এর ভেতরে আকাঙ্ক্ষার ব্যক্তিগত গোপন তথ্য ফাঁস করে দেয় সহ-প্রতিযোগী, যা নিয়ে সেটে রীতিমতো কান্নায় ভেঙে পড়লেন অভিনেত্রী।

অনুমতি ছাড়াই আকাঙ্ক্ষার উভকামী (Bisexual) হওয়ার অতীতকে ক্যামেরার সামনে এনে তাঁর একটি ‘লাইফলাইন’ কেড়ে নেওয়া হয়েছে শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন আকাঙ্ক্ষা। পরে শো-এর হোস্ট ফারহা খান তাঁকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন।
কীভাবে ফাঁস হলো আকাঙ্ক্ষার এই গোপন অতীত?
শো-এর সাম্প্রতিক পর্বে আকাঙ্ক্ষা জানতে পারেন যে, ব্যাকস্টেজে তাঁর একটি ব্যক্তিগত আলোচনা আড়ি পেতে শুনে ফেলেছিলেন সহ-প্রতিযোগী শ্রেয়া কালরা (Shreya Kalra)। শ্রেয়া সেই গোপন তথ্যটি অন্য প্রতিযোগী সুফি মোতিওয়ালার কাছে ফাঁস করে দেন, যার ফলে আকাঙ্ক্ষার ব্যক্তিগত জীবনের এই সত্যটি সবার সামনে চলে আসে এবং নিয়মানুযায়ী শো-তে একটি লাইফলাইন হারাতে হয় আকাঙ্ক্ষাকে। আকাঙক্ষার অনুমতি ছাড়া এই সংবেদনশীল তথ্য বাইরে আসায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি।
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে কাঁদতেই কাঁদতেই আকাঙ্ক্ষা বলেন, ‘আমি বিয়ের আগে বাইসেক্সুয়াল (উভকামী) ছিলাম। মেয়েদের সাথে আমার সম্পর্ক ছিল। তবে খুব একটা ঘনিষ্ঠ বা শারীরিক সম্পর্ক না থাকলেও, আমি বেশ কয়েকজন মহিলার সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছিলাম।’
‘আমার কাছে নারী শক্তিই আমার সেফ স্পেস’— আকাঙ্ক্ষার আবেগঘন বার্তা
{{/usCountry}}‘আমার কাছে নারী শক্তিই আমার সেফ স্পেস’— আকাঙ্ক্ষার আবেগঘন বার্তা
{{/usCountry}}নিজের যৌন পরিচিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আকাঙ্ক্ষা আরও বলেন, পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজে বড় হওয়ার সময় থেকেই তিনি মা ও বোনদের মধ্যে নিজের সুরক্ষাবলয় খুঁজে পেতেন। তাঁর কথায়, ‘আমি মেয়েদের পছন্দ করি, তাঁদের প্রতি একটা আকর্ষণ অনুভব করি। ছোট থেকে আমাদের শেখানো হয় মেয়েরা নাকি একে অপরের বন্ধু হতে পারে না, ঈর্ষা বা প্রতিযোগিতা থাকে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে তেমনটা ছিল না। আমার কাছে সব মহিলারাই সুন্দর। সমাজ এটাকে একটা ট্যাগ (বাইসেক্সুয়াল) দিয়েছে, কিন্তু আমার কাছে এটা ছিল এক পবিত্র ভালোবাসা।’
আকাঙ্ক্ষা আক্ষেপ করে বলেন, এই শো-তে আসার প্রথম দিন থেকেই তিনি নিজেকে সবচেয়ে বেশি ‘এক্সপোজড’ বা অরক্ষিত বোধ করছেন এবং ওঁর মনে হচ্ছে ‘লক আপ’-এ আসাটা ওঁর জীবনের একটা মস্ত বড় ‘ভুল’ ছিল। ওঁর এই কান্না দেখে শো-এর সঞ্চালক ফারহা খান তাঁকে জড়িয়ে ধরেন এবং শান্ত করার চেষ্টা করেন।