সম্প্রতি ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্যঙ্গচিত্রসংবলিত বিতর্কিত পোস্টার হাতে দেখা যাওয়ায় আইনি জটিলতা ও প্রবল রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে পড়েছেন জনপ্রিয় টলিউড অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র (Sreelekha Mitra)। কলকাতার আনন্দপুর থানা সহ একাধিক স্থানে বামমনস্ক অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআৎ দায়ের হয়েছে এবং বিজেপি নেতৃত্বের তরফে অভিনেত্রীর গ্রেপ্তারের দাবি উঠেছে। তবে সেই নিয়ে চিন্তিত নন শ্রীলেখা। নিজের সামাজিক মাধ্যমে এক অত্যন্ত কঠোর ও আত্মবিশ্বাসী বার্তা শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী।

সরাসরি কোনও ব্যক্তির নাম না নিয়ে নিজের সৎ মানসিকতা, আত্মসম্মান এবং নীতির প্রশ্নে অটল থাকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।
‘তোমরা আমাকে থামাতে পারবে না’— পোস্টে শ্রীলেখার কঠোর বার্তা
শ্রীলেখা মিত্র তাঁর সোশাল মিডিয়া পোস্টে লিখেছেন, 'তোমরা আমাকে বাঁকাতে চাও, ভাঙতে চাও, স্তব্ধ করে দিতে চাও? এগিয়ে এসো। আমাকে গালাগাল দাও, হুমকি দাও, একঘরে করার চেষ্টা করো। সুযোগ কেড়ে নাও, মিথ্যা রটাও আর আমার আওয়াজ মুছে ফেলার চেষ্টা করো।
যদি সততার একটা মূল্য দিতে হয়, তবে আমি আনন্দের সঙ্গেই সেই মূল্য চোকাব। কারণ ক্ষমতার জন্য নীতি, আরামের জন্য বিবেক কিংবা করতালির জন্য নিজের সততা বিক্রি করতে আমি অস্বীকার করি।
অনেকেই পদের পেছনে ছোটেন, প্রভাব-প্রতিপত্তি ও টাকার জন্য রাজনৈতিক হাওয়া বুঝে রঙ বদলান। আমি তেমন নই। আমি ক্ষমতার লোভী নই, আমি বিক্রি হওয়ার মতো মানুষ নই। আমার আনুগত্য ক্ষমতার প্রতি নয়— তা সত্য, ন্যায় ও মানবতার প্রতি।'
তিনি আরও যোগ করেন, পথ যতই কঠিন করা হোক না কেন, তিনি কারও সামনে হাঁটু মুড়ে মাথা নত করবেন না। নিজের আত্মসম্মান, মর্যাদা, সততা এবং নীতি কোনোভাবেই বিক্রয়যোগ্য নয়। মৃত্যুর শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তিনি কেবল নিজের বিবেকের কাছেই দায়বদ্ধ থাকবেন।
{{/usCountry}}তিনি আরও যোগ করেন, পথ যতই কঠিন করা হোক না কেন, তিনি কারও সামনে হাঁটু মুড়ে মাথা নত করবেন না। নিজের আত্মসম্মান, মর্যাদা, সততা এবং নীতি কোনোভাবেই বিক্রয়যোগ্য নয়। মৃত্যুর শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তিনি কেবল নিজের বিবেকের কাছেই দায়বদ্ধ থাকবেন।
{{/usCountry}}কী নিয়ে ছিল বিতর্ক ও এফআইআর (FIR)?
দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির যে প্রতিবাদ চলছিল, তার সমর্থনে বাম ছাত্রসংগঠন কলকাতায় এক প্রতিবাদ মিছিল ডেকেছিল। সেই মিছিলেই হেঁটেছিলেন শ্রীলেখা। সেখানেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি ব্যঙ্গচিত্র ও বিতর্কিত পোস্টার শ্রীলেখার হাতে দেখা যায়, যা পরে সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়।
বিজেপির এফআইআর ও অভিযোগ: বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ সহ বেশ কয়েকজন আনন্দপুর ও বিভিন্ন সাইবার ক্রাইম থানায় শ্রীলেখার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর অবমাননা ও জনসমক্ষে শান্তিভঙ্গের অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেন।
বিতর্কের শুরুতে শ্রীলেখা জানিয়েছিলেন, চশমা না থাকার কারণে তাড়াহুড়োর মধ্যে পোস্টারে কী লেখা বা আঁকা ছিল তা না দেখেই তিনি ধরে ফেলেছিলেন এবং কাউকে অসম্মান করার কোনো উদ্দেশ্য ওঁর ছিল না।
তবে পোস্টারের জল বহুদূর গড়ানোর পর ও একাধিক আইনি নোটিশের মুখে পড়ার পর, এই আত্মপক্ষ সমর্থনের পোস্টটির মাধ্যমে তিনি বুঝিয়ে দিলেন যে কোনো প্রকার রাজনৈতিক চাপ বা হুমকির কাছে নিজের স্বাধীন মতপ্রকাশ এবং সততা বিসর্জন দিতে তিনি নারাজ।