দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় গেম শো ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি সিজন ১৮’ (KBC 18)- জমে উঠেছে। সাম্প্রতিক এক পর্বে হটসিটে বসে নজর কাড়লেন আইআইটি বম্বের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মেধা তালিকার শীর্ষ স্থানাধিকারী ২২ বছর বয়সী যোগেশ সাহু। তবে দুর্দান্ত খেলার পরও ১ কোটি টাকার একটি জটিল প্রশ্নের জবাব না দিতে পারায় ৫০ লাখ টাকা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো ছত্তিশগড়ের এই প্রতিভাশালী যুবককে।

যে প্রশ্নে আটকে গেলেন যোগেশ
সমস্ত লাইফলাইন শেষ হয়ে যাওয়ার পর ১ কোটি টাকার জন্য যোগেশকে প্রশ্ন করা হয়েছিল ‘ইন্ডিয়ান ডার্বি’ নিয়ে। অমিতাভ জানতে চান, ১৯৪৩ সালে মুম্বইয়ের মহালক্ষ্মী রেসকোর্সে ভাদোদারার মহারাজার মালিকানাধীন কোন ঘোড়াটি প্রথম ‘ইন্ডিয়ান ডার্বি’ জিতেছিল?
অপশন A: প্রিন্সেস বিউটিফুল
অপশন B: রিগাল ডোমেইন
অপশন C: স্টার অফ গোয়ালিয়ার
অপশন D: প্রিন্স প্রদীপ
যোগেশ ‘এলিমিনেশন লজিক' ব্যবহার করে মনে করেছিলেন প্রশ্নে ‘Horse’ কথাটির উল্লেখ আছে, তাই ‘Princess Beautiful’ (যা স্ত্রীলিঙ্গ নির্দেশ করে) উত্তর হতে পারে না। তিনি বেছে নেন অপশন D (প্রিন্স প্রদীপ)। কিন্তু সঠিক উত্তরটি ছিল অপশন A (প্রিন্সেস বিউটিফুল)।
১৯৪৩ সালের ৩০শে জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক দৌড়ে বারোদা (বর্তমানে ভাদোদারা) মহারাজার এই মাদী ঘোড়াটিই জয়লাভ করেছিল।
ভারতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ঘোড়দৌড় ‘ইন্ডিয়ান ডার্বি’-র ইতিহাস বেশ পুরোনো। ১৯৪৩ সালের ৩০শে জানুয়ারি মুম্বইয়ের মহালক্ষ্মী রেসকোর্সে এর প্রথম আসর বসেছিল, যেখানে প্রাইজ মানি ছিল ৩৫,০০০ টাকা। মহারাজা গায়েকওয়ারের মালিকানাধীন মাদী ঘোড়া ‘প্রিন্সেস বিউটিফুল’ এই উদ্বোধনী দৌড়ে জয়লাভ করে ইতিহাস গড়ে। অস্ট্রেলিয়ান জকি এগার ব্রিট এবং ট্রেনার এম সি প্যাটেলের অধীনে প্রিন্সেস বিউটিফুল সেই মরসুমে ইন্ডিয়ান ১০০০ গিনি এবং ২০০০ গিনি-তেও জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল।
১৮ লাখের চাকরি ছেড়ে ইউপিএসসি-র প্রস্তুতি
{{/usCountry}}১৮ লাখের চাকরি ছেড়ে ইউপিএসসি-র প্রস্তুতি
{{/usCountry}}ছত্তিশগড়ের ভাতাপাড়ার বাসিন্দা যোগেশের বাবা পেশায় একজন গাড়ি চালক, যাঁর মাসিক আয় প্রায় ২০,০০০ টাকা। অত্যন্ত অভাবের মধ্য দিয়ে বড় হওয়া যোগেশ আইআইটি বম্বেই থেকে পড়াশোনা শেষ করে ১৮ লাখ টাকার চাকরির অফার পান। তবে আইএএস (IAS) অফিসার হওয়ার স্বপ্নে তিনি সেই চাকরি প্রত্যাখ্যান করেন এবং ইউপিএসসি (UPSC)-র প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন।
এক কোটি টাকা জিততে না পারলেও, ৫০ লাখ টাকার এই জয় তাঁর পরিবারকে আর্থিক অনটন থেকে অনেকটাই রেহাই দেবে।