টলিপাড়ার পরিচিত কণ্ঠ ইমন চক্রবর্তী বরাবরই স্পষ্টবক্তা। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে তৈরি করা অত্যন্ত নিম্নরুচির একটি মিম ভাইরাল হতেই চুপ থাকতে পারেননি তিনি। নিজের সমাজমাধ্যমের দেওয়ালে এই নারীবিদ্বেষী মানসিকতার তীব্র নিন্দা করেছেন গায়িকা। তাঁর মতে, কোনও মানুষের রাজনৈতিক আদর্শ আপনার পছন্দ না হতেই পারে, কিন্তু তার জন্য তাঁর নারীসত্তাকে অপমান করার অধিকার সমাজ আপনাকে দেয়নি।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকে ট্রোলের নিশানায় থেকেছেন খোদ ইমন। তৃণমূলের টিকিটে ভোটে লড়বেন তিনি, এমন কথা চাউর হওয়ায় কম বিদ্রুপ হজম করতে হয়নি তাঁকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের স্নেহধন্যা ইমন, ছাত্রজীবনে বামেদের রাজনৈতিক মতাদর্শকে আঁকড়েছিলেন ইমন। এক সময়ের এসএফআই নেত্রী ইমন, এখন তৃণমূল ঘনিষ্ঠ। তবে ইমন শুরু থেকেই বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ব্যক্তিগত পরিসরের। এবার দিদির হয়ে ব্যাট ধরলেন ইমন।
ইমনের সপাট জবাব:
ইমন তাঁর পোস্টে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, ক্ষমতার লড়াইয়ে নীতি-আদর্শের সংঘাত কাম্য, কিন্তু ব্যক্তিগত কুৎসা বা শরীর নিয়ে বিদ্রুপ কখনোই কাম্য নয়। ইমন লেখেন, 'আপনি এঁনাকে পছন্দ না-ই করতে পারেন। কিন্তু মহিলা বলে অসম্মান করার অধিকার কারও নেই। যে জঘন্য মিম ঘুরছে সোশ্যাল মিডিয়ায়, সেই মিমের ক’জন প্রতিবাদ করলেন?? করলেন না তো।
এখনই সবাই আমায় দৌড়ে আসবে গাল দিতে। দিন। কিন্তু যাঁরা এই মিমকে সাপোর্ট করলেন, তাঁরা নিজেরা মানুষ কি না ভেবে দেখবেন।
আর যাঁরা প্রতিবাদ করলেন, তাঁদের জন্য আমার গর্ব হয়। আমিও করছি প্রতিবাদ। তাতে আমি প্রস্তুত আপনাদের সেই ‘অসাধারণ’ সব কথা শোনার জন্য। শুরু করুন'।
{{/usCountry}}আর যাঁরা প্রতিবাদ করলেন, তাঁদের জন্য আমার গর্ব হয়। আমিও করছি প্রতিবাদ। তাতে আমি প্রস্তুত আপনাদের সেই ‘অসাধারণ’ সব কথা শোনার জন্য। শুরু করুন'।
{{/usCountry}}প্রতিবাদের এককাট্টা সুর:
ইমন একা নন, এর আগে স্বস্তিকা দত্ত, অরিজিতা মুখোাধ্য়ায়, রূপালি ভট্টাচার্যরাও একই সুরে কথা বলেছেন। রাজনৈতিক দল বা রঙের ঊর্ধ্বে উঠে একজন মহিলার আত্মসম্মান রক্ষা করা যে প্রতিটি মানুষের কর্তব্য, সেই বার্তাই দিতে চেয়েছেন ইমন।
নেটপাড়ার প্রতিক্রিয়া:
ইমন চক্রবর্তীর এই সাহসী পোস্টের নিচে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। অনেকেই তাঁর এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে বলছেন, সমাজমাধ্যমে সৌজন্যবোধ ফেরানো জরুরি। আবার বিরোধী শিবিরের কেউ কেউ একে ‘ভিন্ন চোখে’ দেখার চেষ্টা করলেও, ইমনের মূল বক্তব্য— অর্থাৎ নারীর সম্মান রক্ষা— তা নিয়ে দ্বিমত প্রকাশের জায়গা বিশেষ রাখেননি গায়িকা।
মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে যে যৌনগন্ধী মিম ছড়িয়ে পড়ে পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের দু-দিন আগে, তা নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে নির্বাচন কমিশন। স্বতপ্রণোদিতভাবে কমিশন পুলিশকে নির্দেশ দেয় ওই মিমটি নিয়ে তদন্ত করতে।