সম্প্রতি বাড়িতে ধুমধাম করে জগন্নাথ পুজো করেছিলেন গায়িকা ইমন চক্রবর্তী। আর সেখানে পুজোর স্থানে নিজের মায়ের ছবি রাখা নিয়ে বিতর্কের শুরু। একাধিক কটাক্ষের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। ইমন স্পষ্ট জানান যে, তিনি মাকেও ভগবানের আসনেই বসান এবং কে কী বলল তাতে তাঁর কিছু যায় আসে না।

তবে এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এক মহিলার করা পোস্টের স্ক্রিনশট শেয়ার করে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন গায়িকা। নবনীতা বন্দ্যোপাধ্যায় নামের সেই হিলা ফেসবুকে প্রশ্ন তোলেন, কেন ভগবান জগন্নাথকে ইমনের প্রয়াত মায়ের ছবির নীচে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল! তবে এরপর জাতীয় পুরস্কার-জয়ী গায়িকাকে নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক দাবি করতে থাকেন।
তাঁর পোস্টে লেখা হয়, ‘একটি ইন্টারভিউতে এই মহান গায়িকা বললেন যে তাঁর জগন্ময় দেব, দুর্গা, কালীর স্থান হলো তাঁর বাবা-মায়ের নীচে। কারণ বাবা-মায়ের জন্য তিনি নাকি পৃথিবীর আলো দেখেছেন। পড়াশোনার দৌড় কত তা জানি না, তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাপ তো নিশ্চয়ই আছে। কিন্তু সেটা থাকলে এমন বলা কেন’!
এখানেই থেমে না থেকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে লেখা হয়, ‘জগন্নাথ দেব, দুর্গা, কালী— উনার মা-বাবা শুধু কেন, যাঁদের থেকে সুবিধা নিয়ে দিনের পর দিন প্রোগ্রাম পেয়ে স্টেজে নেচে বেড়িয়েছেন, তারাও ওঁর কাছে তাহলে ঈশ্বরের ওপর। কারণ তাঁদের দয়ায় এতদিন করে খেয়ে গেছেন। এদের কাছে যে কোনও মূল্যে টাকা রোজগার করাটাই লক্ষ্য। আর সব অনুষ্ঠানে লিখিত কত জানি না, অলিখিত ভাবে ৩/৪ লাখ টাকা নিয়েছেন। সেটা যদি উনার যোগ্যতা হয়, সেটা যারা ঠিক করে দিলেন, তারা আপনার-আমার পকেট কেটে, তোলাবাজির টাকাই ওঁদের পকেটে দিলেন। কারণ তোষামোদকারী আর বিনোদন দিয়ে লোক ভালোলো, কিন্তু লোকের তাদেরও প্রয়োজন। আর সেই টাকার কতটা চেক, কতটা ক্যাশ, তাও জানি না। কারণ সেগুলো অত্যন্ত গোপনীয়—আপনার আমার কাছে। সত্যিই এরা এত টাকা পাওয়ার যোগ্য?’ (পোস্টটির ভাষা ও বানান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।)
এখানেই শেষ নয়, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার উল্লেখ করে নবনীতা বন্দ্যোপাধ্যায় নামের সেই মহিলা লেখেন, ‘এরাই দিদির বাড়িতে কালীপুজোর প্রসাদ পেয়ে ভোটে প্রতিবাদীতা না হয়ে অন্ততঃ সমস্ত প্রোগ্রামে যাতে সুযোগ পাওয়া যায়, সেই রাস্তাটা পরিষ্কার রাখতে দিনের পর দিন গেছে। এখনও এ সরকারের পা আবার যথারীতি চাটতে শুরু করে দিয়েছে। তারাও একই সুযোগ এদের দেবেন কিনা, তা বলা শক্ত। আর কতদিন এমন চলবে? কেউ কিছুই বলবে না এদের? কী গ্রেড এদের?’
{{/usCountry}}এখানেই শেষ নয়, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার উল্লেখ করে নবনীতা বন্দ্যোপাধ্যায় নামের সেই মহিলা লেখেন, ‘এরাই দিদির বাড়িতে কালীপুজোর প্রসাদ পেয়ে ভোটে প্রতিবাদীতা না হয়ে অন্ততঃ সমস্ত প্রোগ্রামে যাতে সুযোগ পাওয়া যায়, সেই রাস্তাটা পরিষ্কার রাখতে দিনের পর দিন গেছে। এখনও এ সরকারের পা আবার যথারীতি চাটতে শুরু করে দিয়েছে। তারাও একই সুযোগ এদের দেবেন কিনা, তা বলা শক্ত। আর কতদিন এমন চলবে? কেউ কিছুই বলবে না এদের? কী গ্রেড এদের?’
{{/usCountry}}আর সেই পোস্টের স্ক্রিনশট শেয়ার করেই ইমন লিখলেন, ‘অনেক হয়েছে। ধৈর্যের বাধ ভাঙলে মুশকিল। এই মহিলা আমাকে ব্লক করে এই পোস্টটি করেছেন। যা যা বলেছেন উনি তার প্রমাণ দিক। কোথায় কত টাকার গল্প উনি দিচ্ছেন তার প্রমাণ তো আমার চাই। আর না হলে এবার একটু মুশকিল। হ্যাঁ আমার কাছে আমার বাবা-মা-ই সবার আগে। আমার নাম করা যদি দোষের হয়ে যায়, তাহলে আমি বারবার করতে রাজি।’
তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করে এক নেটিজেনের পরামর্শ, ‘মানুষ যখন নিজের পরিশ্রমে সফল হয়, তখন হিংসুক বা দুর্জনেরা কষ্ট পায় এবং দোষ খোঁজার ছল করে। অন্যের ঈর্ষা বা কথায় দমে না গিয়ে নিজের সাধনা চালিয়ে যাওয়া যান। আর ঈশ্বরের আরাধনা তখনই সার্থক হয়, যখন জীবন্ত ঈশ্বর অর্থাৎ নিজের মা-বাবাকে ঠিকমতো সম্মান ও সেবা করা হয়।’
আরেকজন লেখেন, ‘ইমন যাদের সাহস নেই, তোমাকে ব্লক না করে তোমার সমালোচনা করার, তাদের লাইমলাইটে এনো না। এরা দরকার পড়লে নিজের কাছের মানুষকে নিয়েও কথা বলতে ছাড়বে না।’ যার জবাবে ইমন লিখলেন, ‘সবাই একটু দেখুক রোজ কত কিছু সহ্য করতে হয়। মা-বাবাকে নিয়ে আক্রমণ করা বন্ধই হচ্ছে না।’