মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল তৃণমূল কংগ্রেস। আর ভোটের ঘণ্টা বাজার আগে থেকেই, শোনা যাচ্ছিল যে, এবারে প্রার্থী করা হতে পারে ইমন চক্রবর্তীকে। এমনিতেই তিনি হাওড়ার মেয়ে, তাই হুগলির উত্তরপাড়া কেন্দ্র থেকে আসন দেওয়া হতে পারে তাঁকে। এলাকার লোক, অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিককে নিয়ে ‘বীতশ্রদ্ধ’, তাই মমতা ভরসার হাত বাড়িয়েছেন ইমনের দিকে, এমনই ছিল জল্পনা-কল্পনা।
ট্রোলারদের পালটা কটাক্ষ ইমনের

তবে সেসব জল্পনা-কল্পনায় আপাতত ইতি! কারণ প্রার্থী তালিকায় না উত্তরপাড়া না অন্য কোনো কেন্দ্র, কোথাও নাম নেই ইমনের। এদিকে তৃণমূল যখন প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করছে, তখনই একটি কটাক্ষভরা পোস্ট এল ইমনের থেকে। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখলেন, ‘বিগত কয়েকমাস ধরে আপনারা আমাকে বিভিন্ন জায়গায় দাঁড় করিয়েছিলেন। এই যেমন উত্তরপাড়া, দক্ষিণপাড়া, বালি, সিমেন্ট, আমতলা, জামতলা ইত্যাদি। কেউ কেউ আবার কেওড়াতলাতে নিয়ে গিয়েও দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন। আপনাদের কাছে কড়জোরে একটা বিনীত অনুরোধ রাখছি, প্লিজ আপনারা আমাকে এবার একটু নিজের পায়ে দাঁড়াতে দিন।’
‘চটি-চাটা’ কটাক্ষে জর্জরিত হয়ে পড়েছিলেন ইমন
ইমন ভোটে দাঁড়াবেন এমন রটে যাওয়ার পর থেকে, ক্রমাগত কটাক্ষের মুখে পড়তে হয় গায়িকাকে। চটিচাটা-র মতো কথাও শুনতে হয়। তৃণমূলের ভোটের পাঁচালি গাওয়ায় যা শুরু। চলতি বছরে 'বঙ্গবিভূষণ' পান। তখনও ট্রোলের দাবি ছিল, তৃণমূলের ‘পা চেটেই’ এই পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। তবে পরিস্থিতি চরম হয়, যখন কটাক্ষ থেকে বাদ যায় না গায়িকার মরা মা-ও। মাঝে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণাও করে ফেলেছিলেন ইমন। যদিও তাঁকে ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেরান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই।
ইমন-মমতার ভালোবাসা
মমতা এক অনুষ্ঠানে এসে বলেন, ইমনকে খুব বাজে ভাবে ট্রোল করা হয়েছে। সেদিন ওঁর মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী ছিল। আমি জানি না, সেদিন আমরা নচিকেতা, রূপঙ্কর, রাঘব, শ্রীজাত, শ্রীরাধা, বাবুলকেও বঙ্গবিভূষণ দিয়েছি। তাহলে শুধু মাত্র ইমনের সঙ্গেই এমন করা হল? এটা খুব ভুল।’ তারপর গায়িকার স্যোশাল মিডিয়া ছাড়া প্রসঙ্গে মমতাকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘কেন ছাড়াবে? বেশি করে ধরো। আনস্যোশাল লোকেদের জন্য তুমি স্যোশাল মিডিয়া কেন ছাড়বে?’
{{/usCountry}}মমতা এক অনুষ্ঠানে এসে বলেন, ইমনকে খুব বাজে ভাবে ট্রোল করা হয়েছে। সেদিন ওঁর মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী ছিল। আমি জানি না, সেদিন আমরা নচিকেতা, রূপঙ্কর, রাঘব, শ্রীজাত, শ্রীরাধা, বাবুলকেও বঙ্গবিভূষণ দিয়েছি। তাহলে শুধু মাত্র ইমনের সঙ্গেই এমন করা হল? এটা খুব ভুল।’ তারপর গায়িকার স্যোশাল মিডিয়া ছাড়া প্রসঙ্গে মমতাকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘কেন ছাড়াবে? বেশি করে ধরো। আনস্যোশাল লোকেদের জন্য তুমি স্যোশাল মিডিয়া কেন ছাড়বে?’
{{/usCountry}}ইমন বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগত ভাবে দিদিকে ভীষণ ভালোবাসি। একজন মানুষ হিসেবে দিদিকে আমি খুব ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি। তাই দিদির কথা আমার শিরোধার্য। ওঁর কথা মেনে শীঘ্রই স্যোশাল মিডিয়াতে নিশ্চয়ই ফিরবো।’
উত্তরপাড়ায় কাঞ্চনের জায়গায় এলেন শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তরপাড়া একসময় ছিল বামেদের শক্ত ঘাঁটি। আর সেই আসন থেকে এবার লড়ছেন মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। উত্তরপাড়া আসন থেকে কাঞ্চন মল্লিককে সড়ালেও, সেখানে কোনো বিনোদন জগতের মানুষকে আনা হয়নি। বরং, টিকিট পেয়েছেন দলের বর্ষীয়ান নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রার্থী করা হয়েছে এই কেন্দ্রে। অর্থাৎ বেশ সেয়ানে-সেয়ানে টক্কর হবে। পেশায় আইনজীবী শীর্ষণ্য।