তৃণমূল কংগ্রেসের সাথে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে এক সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী ইন্দ্রাণী হালদার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে নানা সময়ে তৃণমূলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁকে একটা সময় পর্যন্ত দেখা গেলেও, দলীয় পদে তাঁকে গুরুত্ব না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি এবার সরাসরি মুখ খুলেছেন।

২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির আঁচ আগেই পেয়েছিলেন ইন্দ্রাণী। এইবারও ঘাসফুল শিবিরের হয়ে প্রচার সেরেছেন তিনি। এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে অভিনেত্রী জানান, তাঁর বহু জুনিয়র সহ-শিল্পীরা রাজনীতিতে এসে সাংসদ (MP) কিংবা বিধায়ক (MLA) হওয়ার সুযোগ পেলেও তিনি কোনও দিনই কোনও প্রশাসনিক বা দলীয় পদ পাননি। মুখ্যমন্ত্রী একাধিকবার তাঁকে সাংসদ বা বিধানসভার পদে পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। পদ না পাওয়ার বিষয়টিকে মুখ্যমন্ত্রী বা রাজনৈতিক পরিস্থিতির সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করলেও, জুনিয়রদের এগিয়ে যাওয়া এবং নিজের অবহেলিত থাকার বিষয়টি তিনি আক্ষেপের সঙ্গেই তুলে ধরেন।
ইন্দ্রাণী বলেন, ‘আমি দল থেকে কিছু পাইনি। দিদি চাইলে হয়ত করতে পারতেন, উনি আমাকে বলেছিলেন তোমাকে এমপি করে দেব। কোনও কারণে হয়ত করে উঠতে পারেনি। আমি দোষ দেব না ওঁনাকে। যাকগে…আমি কিন্তু বলেছিলাম আমার চাই না। উনি নানান কাজে ব্য়স্ত ছিলেন, আর হয়ে ওঠেনি’।
নির্বাচনী প্রচারের বিষয়ে ইন্দ্রাণী হালদার অত্যন্ত স্পষ্ট ও খোলামেলা জবাব দিয়েছেন। তিনি জানান, তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রচার চালানোকে তিনি একটি পেশাদার কাজের (প্রফেশন) অংশ হিসেবেই দেখতেন। নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের (পয়সা) বিনিময়ে স্টার ক্যাম্পেইনার হিসেবে প্রচারের কাজ করেছেন এবং তিনি জানতেন যে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ফলের সমীকরণ কী হতে চলেছে। টলিউডের আদরের মামণিদি বলেন, ‘আমি যেমন মাচা করতে যাই, তেমন পয়সা নিয়ে প্রচার করেছি। এটা আমার পেশা। আমি গিয়েই বুঝেছিলাম এখানে বিজেপির হাওয়া বইছে’।
{{/usCountry}}নির্বাচনী প্রচারের বিষয়ে ইন্দ্রাণী হালদার অত্যন্ত স্পষ্ট ও খোলামেলা জবাব দিয়েছেন। তিনি জানান, তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রচার চালানোকে তিনি একটি পেশাদার কাজের (প্রফেশন) অংশ হিসেবেই দেখতেন। নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের (পয়সা) বিনিময়ে স্টার ক্যাম্পেইনার হিসেবে প্রচারের কাজ করেছেন এবং তিনি জানতেন যে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ফলের সমীকরণ কী হতে চলেছে। টলিউডের আদরের মামণিদি বলেন, ‘আমি যেমন মাচা করতে যাই, তেমন পয়সা নিয়ে প্রচার করেছি। এটা আমার পেশা। আমি গিয়েই বুঝেছিলাম এখানে বিজেপির হাওয়া বইছে’।
{{/usCountry}}রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ও নতুন সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি সরকারের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে পোস্ট করার পর তিনি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। সেই প্রসঙ্গে অভিনেত্রীর সাফ কথা, এটিকে কোনো দলবদল বা রাজনৈতিক সমীকরণ না ভেবে সাধারণ সৌজন্যতা হিসেবেই দেখা উচিত।
ভবিষ্যতে রাজনীতি বা রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে যাওয়া প্রসঙ্গে ইন্দ্রাণী হালদার জানান, রাজনীতির ঊর্ধ্বে গিয়ে সব দলের মধ্যেই তাঁর পরিচিত ও পুরোনো বন্ধুবান্ধব রয়েছে। তাই আমন্ত্রণ পেলে ভবিষ্যতেও তিনি যেকোনো দলের বন্ধুদের ডাকে সাড়া দেবেন।