কোনো বড় বিতর্ক বা ইগো ফাইট ছাড়া একদম সরল, সততা ও আত্মমর্যাদা নিয়ে খেলে আসা মানুষকে কি সত্যিই রিয়্যালিটি শো-তে রাখা যায় না? ঠিক এই প্রশ্নটাই তুলে দিয়েছে ‘বিগ বস বাংলা’-র সাম্প্রতিক মিড-উইক ইভিকশনের নাটকীয় সিদ্ধান্ত। জনমতের তোয়াক্কা না করে ঘরের ৯ জন সদস্যের গোপন ভোটের জেরেই শেষমেশ শো থেকে বিদায় নিতে হলো ভারতের প্রাক্তন তারকা ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাসকে!

ঝিলম গুপ্ত ও দীপেন্দু বিশ্বাস— দুজনের উপরই নমিনেশনের খাঁড়া ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন খোদ বিগ বস। কিন্তু সবচেয়ে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে সাধারণ দর্শকের ভোটিং লাইন বন্ধ রেখে ঘরের ভেতরের প্রতিযোগীদের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এই আজব নিয়ম।
‘৯ জন সদস্য কি গোটা বাংলার প্রতিনিধি?’ তীব্র জনক্ষোভ
দর্শকদের দাবি, এর আগে যতবারই দীপেন্দু নমিনেটেড হয়েছেন, ততবারই তাঁকে ভালোবেসে উজোড় করে ভোট দিয়ে বাঁচিয়ে নিয়েছিলেন বাংলার মানুষ। কিন্তু কোনো নোটিশ ছাড়া মাঝ সপ্তাহে ভোটিং সার্ভিস বন্ধ করে সহ-প্রতিযোগীদের ওপর ভার দিয়ে যে রায় দেওয়া হলো, তা আদতে জনমতের ওপর এক বড় আঘাত।
সহ-প্রতিযোগীদের তোপ: সরব ভিভান ঘোষ
দীপেন্দুর এই অন্যায্য ও নাটকীয় বিদায়ে শুধু দর্শকই নন, ক্ষুব্ধ টেলিপাড়ার পরিচিত মুখ ভিভান ঘোষও। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান যে, দীপেন্দুর মতো এক প্রবীণ খেলোয়াড়, যাঁর কোনো চটুলতা বা প্যাঁচ ছিল না, তাঁকে এভাবে ঘরের চক্রান্তের শিকার হয়ে বের হতে দেখা সত্যিই হতাশাজনক। কোনো গেম প্ল্যান বা মিথ্যা ইমেজের চাদর না জড়িয়ে ‘দীপু দা’ ঘরের একমাত্র সহজ-সরল মানুষ হিসেবে নিজের পরিচিতি ধরে রেখেছিলেন। তিনি লেখেন, ‘মিডউইকে এইভাবে কারণ ছাড়া কাউকে কিভাবে বের করা যায়? ৯টা ভোটে এ কি বিচার হয়? সারা বাংলার মানুষ দীপেন্দু বিশ্বাস কে চাইছিলো। এক মাত্র সৎ মানুষ ছিল বিগ বস- এ।’
কনটেন্ট বনাম সততার লড়াই?
{{/usCountry}}কনটেন্ট বনাম সততার লড়াই?
{{/usCountry}}বিগ বসের খেলায় গণ্ডগোল বা ঝগড়াঝাঁটি না করলে ‘পার্টিসিপেশন কম’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার যে প্রবণতা, সেখান থেকেই এই নমিনেশনের সূত্রপাত। কিন্তু দর্শকরা বলছেন, ট্র্যাশ টক বা গসিপ করাটাই যদি একমাত্র যোগ্যতা হয়, তবে সততার কোনো দাম নেই। ঝিলমের তুলনায় বা অন্য চতুর গেমারদের ভিড়ে দীপেন্দুর শান্ত ভাবমূর্তিকেই তাঁর সবচেয়ে বড় খামতি বানিয়ে দেওয়া হলো।