বলিউডের জনপ্রিয় ও গ্ল্যামারাস অভিনেত্রীদের নাম নিলে যার মুখ চোখের সামনে ভেসে ওঠে, তিনি হলেন জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ (Jacqueline Fernandez)। শ্রীলঙ্কান এই সুন্দরী ২০০৯ সালে ‘আলাদিন’ ছবির মাধ্যমে বি-টাউনে পা রাখেন। এরপর ‘কিক’, ‘জুড়বা ২’, ‘রেস ৩’-এর মতো একের পর এক সুপারহিট সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকদের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন। পর্দায় তাঁর হাসি, নিখুঁত ডান্স মুভস এবং ইতিবাচক মনোভাব দেখে যে কেউ ভাববেন—তাঁর জীবন হয়তো শুধুই আলো আর সাফল্যে ভরা।

তবে বাস্তব চিত্রটি পুরোপুরি আলাদা। আজ খ্যাতির শীর্ষে থাকলেও জ্যাকলিনকে জীবনের একাধিক কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ১১ আগস্ট তাঁর জন্মদিনে জেনে নেওয়া যাক এই শ্রীলঙ্কান সুন্দরীর জীবনের এমন ৩টি কঠিন ও অন্ধকার অধ্যায়, যা তাঁর জীবনকে এক সময় ওলটপালট করে দিয়েছিল।
১. কেরিয়ারের শুরুতে প্রত্যাখ্যান ও বিদ্বেষের শিকার
শ্রীলঙ্কায় জন্ম ও বেড়ে উঠলেও ২০০৬ সালে 'মিস ইউনিভার্স শ্রীলঙ্কা' মুকুট জয়ের পর জ্যাকলিন ভারতে পাড়ি জমান। কিন্তু বি-টাউনে প্রবেশ করা এবং নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করা তাঁর জন্য সহজ ছিল না।
ভয়ের অভিজ্ঞতা ও আউটসাইডার ট্যাগ: এক সাক্ষাৎকারে জ্যাকলিন নিজেই খোলসা করেছিলেন যে, কেরিয়ারের শুরুর দিকে তাঁকে প্রচণ্ড মানসিক চাপের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। একজন বহিরাগত বা আউটসাইডার হওয়ার কারণে ইন্ডাস্ট্রি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের নানা কটূক্তির শিকার হতে হয় তাঁকে।
শারীরিক গঠন ও গায়ের রং নিয়ে খোঁচা: হিন্দি কথা বলার টোন এবং শারীরিক ভাষার কারণে তাঁকে একের পর এক অডিশন থেকে বাদ দেওয়া হতো। এমনকি অনেকে পরামর্শ দিয়েছিলেন নাক বা ঠোঁটে প্লাস্টিক সার্জারি করানোর জন্য। তবে সমস্ত অপমান ও নেতিবাচকতাকে উড়িয়ে দিয়ে কঠোর পরিশ্রমের জোরেই তিনি বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করে নেন।
২. ২০০ কোটি টাকার মানি লন্ডারিং বিতর্ক ও সুকেশ চন্দ্রশেখর কাণ্ড
{{/usCountry}}শারীরিক গঠন ও গায়ের রং নিয়ে খোঁচা: হিন্দি কথা বলার টোন এবং শারীরিক ভাষার কারণে তাঁকে একের পর এক অডিশন থেকে বাদ দেওয়া হতো। এমনকি অনেকে পরামর্শ দিয়েছিলেন নাক বা ঠোঁটে প্লাস্টিক সার্জারি করানোর জন্য। তবে সমস্ত অপমান ও নেতিবাচকতাকে উড়িয়ে দিয়ে কঠোর পরিশ্রমের জোরেই তিনি বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করে নেন।
২. ২০০ কোটি টাকার মানি লন্ডারিং বিতর্ক ও সুকেশ চন্দ্রশেখর কাণ্ড
{{/usCountry}}জ্যাকলিনের জীবনের সবচেয়ে বিতর্কিত ও কঠিন সময়টি আসে ২০০ কোটি টাকার মানি লন্ডারিং মামলায় তাঁর নাম জড়িয়ে পড়ার পর। সুকেশ চন্দ্রশেখরের সাথে তাঁর সম্পর্কের খবর প্রকাশ্যে আসার পরই চরম বিড়ম্বনায় পড়েন অভিনেত্রী।
আইনি ঝঞ্ঝাট ও ইডি-র জেরাবার: এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) একাধিকবার অভিনেত্রীকে ডেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জেরা করে। সুকেশের কাছ থেকে নেওয়া কোটি কোটি টাকার বিলাসবহুল গাড়ি, হীরের গয়না এবং ব্যাগ বাজেয়াপ্ত করা হয়। এই মামলার কারণে তাঁর বিদেশ যাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা পর্যন্ত জারি করা হয়েছিল।
সামাজিক হেনস্থা ও একাকিত্ব: এই বিতর্কের কারণে বিতর্কের মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। একাধিক ব্র্যান্ডের চুক্তি হাতছাড়া হয় এবং অনেক তথাকথিত বলিপাড়া বন্ধুও এই বিপদের দিনে তাঁর পাশ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি চরম মানসিক ট্রমার মধ্যে দিয়ে তাঁকে দিন কাটাতে হয়েছিল।
৩. বিতর্কিত প্রেম, বিচ্ছেদ ও ব্যক্তিগত জীবনের তোলপাড়
পেশাগত জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বেশ কয়েকবার মন ভেঙেছে এই শ্রীলঙ্কান কুইনের।
ব্যান্ডেজের মতো ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক: বলিউডে আসার পর প্রখ্যাত পরিচালক সাজিদ খানের সাথে জ্যাকলিনের সম্পর্কের কথা কারো অজানা ছিল না। একাধিক সুপারহিট ছবিতে কাজ করার মাঝেই তাঁদের প্রেম ঘনীভূত হয়। তবে অতিরিক্ত পজেসিভনেস ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের কারণে একসময় সেই সম্পর্ক তিক্ততায় রূপ নেয় এবং বিচ্ছেদ ঘটে।
মানসিক আঘাত কাটিয়ে ওঠা: সাজিদ খানের সাথে বিচ্ছেদের পর বেশ কিছু সময় অভিনয় থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে হয়েছিল তাঁকে। এরপর বাহরাইনের এক রাজপরিবারের সদস্যের সাথেও তাঁর সম্পর্কের গুঞ্জন উঠেছিল, যা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। একের পর এক ব্যর্থ প্রেম এবং পরবর্তীতে সুকেশ কাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি।
জীবনের চরম অন্ধকার অধ্যায়গুলো পেরিয়েও জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ নিজেকে বারবার নতুন করে গড়ে তুলেছেন। কাজের মাধ্যমে নেতিবাচকতাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার নামই যে জীবন, তা প্রমাণ করেছেন এই অভিনেত্রী। জন্মদিনে তাঁর জীবনের এই সংগ্রাম ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প অনেক অনুরাগীকেই অনুপ্রাণিত করবে।