বলিউডের প্রবীণ লেখক ও গীতিকার জাভেদ আখতার সম্প্রতি ধর্ম, বিশ্বাস এবং নাস্তিকতা নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি মানুষের ঈশ্বরে বিশ্বাসের কারণ নিয়েও কথা বলেন।

জাভেদ আখতারকে মনে করিয়ে দেওয়া হল মুফতি শামাইল নাদভির সঙ্গে বিতর্ক
সাক্ষাৎকারে জাভেদ আখতারকে ইসলামিক স্কলার মুফতি শামাইল নাদভির সঙ্গে তাঁর পুরনো বিতর্কের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়। সেই বিতর্কে ‘কনটিনজেন্সি’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন মুফতি শামাইল। তখন জাভেদ জানিয়েছিলেন, তিনি শব্দটির অর্থ বুঝতে পারছেন না। পরে মুফতি শামাইল তাঁকে শব্দটির অর্থ বুঝিয়ে দেন।
এবার তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, এখন কি তিনি ‘কনটিনজেন্সি’-র অর্থ বুঝেছেন? জাভেদ বলেন, প্রতিটি জিনিসেরই কনটিনজেন্সি রয়েছে, তবে তাঁর মতে, এই যুক্তি সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি মাধ্যাকর্ষণ এবং আলোর গতির কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, কিছু বিষয়কে পদার্থবিদ্যায় ‘ব্রুট ফ্যাক্ট’ বলা হয়, যেগুলির কনটিনজেন্সি নেই।
ধর্ম ও ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে কী বললেন জাভেদ?
ধর্ম নিয়ে নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাভেদ আখতার বলেন, বিভিন্ন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী এমন এক শক্তি রয়েছে, যা সর্বত্র এবং সর্বশক্তিমান। কিন্তু তাঁর কাছে এই ধারণা পুরোপুরি যুক্তিসঙ্গত মনে হয় না।
বন্যা, ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বহু মানুষের মৃত্যু প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর যুক্তি, এই মানুষগুলির মধ্যে কি প্রত্যেকেই অপরাধী ছিলেন যে তাঁদের এমন পরিণতি হল? পাশাপাশি অপরাধের কারণে বহু মানুষের মৃত্যু নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, যদি সর্বশক্তিমান কোনও সত্তা সত্যিই থাকেন, তাহলে এত কিছু ঘটতে দেখেও তিনি কেন তা আটকান না?
{{/usCountry}}বন্যা, ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বহু মানুষের মৃত্যু প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর যুক্তি, এই মানুষগুলির মধ্যে কি প্রত্যেকেই অপরাধী ছিলেন যে তাঁদের এমন পরিণতি হল? পাশাপাশি অপরাধের কারণে বহু মানুষের মৃত্যু নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, যদি সর্বশক্তিমান কোনও সত্তা সত্যিই থাকেন, তাহলে এত কিছু ঘটতে দেখেও তিনি কেন তা আটকান না?
{{/usCountry}}‘সবচেয়ে খারাপ অবস্থার দেশেই সবচেয়ে বেশি প্রার্থনা’
জাভেদ আখতারের দাবি, বিশ্বের যে দেশগুলির পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ, সেখানেই সবচেয়ে বেশি প্রার্থনা করা হয়। তাঁর মতে, সমৃদ্ধ দেশগুলিতে তুলনামূলকভাবে প্রার্থনা ও দোয়ার প্রবণতা কম।
মানুষ কেন এত কিছুর পরেও ধর্ম বা কোনও না কোনও বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত থাকে, সেই প্রশ্নের উত্তরে জাভেদ বলেন, বিশ্বাস মানুষকে আশা দেয়। অনেক সময় সেই আশাটা হয়তো ‘মিথ্যে আশ্রয়’, কিন্তু তাতেও মানুষ সান্ত্বনা পায়।
‘এলন মাস্ক আপনার ভাই—এটা বিশ্বাস করলেও তৃপ্তি পাবেন’
এই প্রসঙ্গেই নিজের বক্তব্য বোঝাতে এলন মাস্কের উদাহরণ দেন জাভেদ আখতার। তিনি বলেন, কেউ যদি মন থেকে বিশ্বাস করেন যে এলন মাস্ক তাঁর ভাই এবং আগামী মাসে তাঁকে ২-৪ বিলিয়ন ডলার পাঠাবেন, তাহলে সেই বিশ্বাসও তাঁকে যথেষ্ট সান্ত্বনা দিতে পারে। তাঁর কথায়, অন্তত এলন মাস্ক একজন বাস্তব মানুষ—তাই এমন বিশ্বাসও কারও কাছে স্বস্তিদায়ক হতে পারে।
নাস্তিকতা নিয়ে জাভেদ আখতারের বক্তব্য
নাস্তিকতা প্রসঙ্গে জাভেদ বলেন, ধর্মবিশ্বাসী মানুষ সাধারণত কোনও ব্যক্তি, ধর্মগুরু কিংবা পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া বিশ্বাসের উপর আস্থা রাখেন। কিন্তু নাস্তিকদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা। তাঁর মতে, তাঁরা ব্যক্তির উপর নয়, যুক্তি ও কারণের উপর বিশ্বাস করেন।
জাভেদের আরও বক্তব্য, বিশ্বের প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষ যে ধর্মে জন্মগ্রহণ করেন, সেই ধর্মেই তাঁদের জীবন কাটিয়ে দেন। তাঁর মতে, এই বিষয়টিও মানুষের ধর্মবিশ্বাস কীভাবে তৈরি হয়, তা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।