ভারতীয় চিত্রনাট্যকার ও গীতিকার জাভেদ আখতার পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারির সমালোচনা করেছেন। জারদারি বলেছেন যে, পাকিস্তানের মুসলমানরা সেখানকার হিন্দু সংখ্যালঘুদের ‘সহ্য করে’। এতে জাভেদ আখতার ক্ষুব্ধ হন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি পাকিস্তানি রাষ্ট্রপতির দীর্ঘদিনের ডাকনাম, ‘মিস্টার টেন পার্সেন্ট’ বলেও টিপ্পনী করেছেন।
আসিফ আলি জারদারির সম্পূর্ণ বিবৃতি

পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সময় আসিফ আলি জারদারি পাকিস্তানি হিন্দুদের দুর্দশার কথা বলেন এবং তাদের সঙ্গে ভারতে বসবাসকারী হিন্দুদের তুলনা করেন। সিএনএন-নিউজ১৮-এ দেখানো একটি ক্লিপ অনুসারে, আসিফ আলি জারদারি বলেছেন, ‘ভারতীয়দের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। তাদের নিজস্ব এজেন্ডা আছে। তারা একটি অখণ্ড ভারতে বিশ্বাস করে। কিন্তু এর মাঝে এমন অনেক কিছু আছে যা তারা ভুলে গিয়েছে। আমরা মুসলমান। তারা নয়। কিন্তু আমরা এমন মানসিকতার মুসলমান, যা পাকিস্তানের ৩-৪ শতাংশ হিন্দু জনসংখ্যাকেও সহ্য করে। তারা অন্য যে কোনো জায়গার মতোই স্বাধীন ও সুখী। তারা ভারতীয়দের সঙ্গে থাকার চেয়ে আমাদের সঙ্গে থাকতেই বেশি পছন্দ করবে।’
জাভেদ আখতারের প্রতিক্রিয়া
জাভেদ আখতার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘পাকিস্তানের জনাব জারদারি, যিনি বেনজির ভুট্টোকে বিয়ে করার পর খ্যাতি লাভ করেন, তিনি বলেন যে তিনি তাঁর দেশ সেখানে থাকা ৩-৪ শতাংশ হিন্দু জনসংখ্যাকে সহ্য করেন। আমার মনে হয়, জনাব জারদারি, আপনি জনসংখ্যার ১০ শতাংশেরও কম অংশের প্রতি বরাবরই সংবেদনহীন।’
আসিফ আলি জারদারিকে কেন ‘মিস্টার টেন পার্সেন্ট’ ডাকনাম দেওয়া হয়েছিল?
প্রকৃতপক্ষে, আসিফ আলf জারদারি ১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকে এবং ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে ‘মিস্টার টেন পার্সেন্ট’ ডাকনামটি অর্জন করেন। সরকারি প্রকল্প এবং ব্যবসায়িক চুক্তির বিনিময়ে তিনি ১০ শতাংশ কমিশন দাবি করতেন— এমন অভিযোগের পর এই ডাকনামটি প্রচলিত হয়। যদিও আসিফ আলি জারদারি এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছিলেন, তবুও এই নামটি বিখ্যাত হয়ে ওঠে।
{{/usCountry}}প্রকৃতপক্ষে, আসিফ আলf জারদারি ১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকে এবং ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে ‘মিস্টার টেন পার্সেন্ট’ ডাকনামটি অর্জন করেন। সরকারি প্রকল্প এবং ব্যবসায়িক চুক্তির বিনিময়ে তিনি ১০ শতাংশ কমিশন দাবি করতেন— এমন অভিযোগের পর এই ডাকনামটি প্রচলিত হয়। যদিও আসিফ আলি জারদারি এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছিলেন, তবুও এই নামটি বিখ্যাত হয়ে ওঠে।
{{/usCountry}}১৯৯০ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি গোলাম ইসহাক খান বেনজির ভুট্টোর সরকারকে বরখাস্ত করার পর এই ডাকনামটি আরও বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করে। সে সময় ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী গোলাম মুস্তফা জতোই আসিফ আলি জারদারির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। গোলাম মুস্তফা জতোই ১৯৯০ সালে টাইম ম্যাগাজিনকে বলেছিলেন, ‘যেকোনো প্রকল্প শুরু করার অনুমতি পেতে ১০ শতাংশ কমিশন দিতে হতো। এমনকী ব্যাংক থেকে ঋণ পেতেও কমিশন দিতে হত... যা কিছু ঘটেছে, তার সবকিছুর সঙ্গেই জারদারি জড়িত ছিলেন। তিনিই ছিলেন মূল স্থপতি।’