...
...
Next Story

Jeetu-Averi: ‘মেয়েদের মতো হাতে চুরি পরে থাক’, জীতুর নারীবিদ্বেষী মন্তব্যে সরব আভেরি

‘জীতু কামালের এই মন্তব্য গুলো ওর মতই দেখতে লাগে’, নারীবিদ্বেষী, টক্সিক মেল ইগোতে ভরপুর জীতু? প্রশ্ন ছুঁড়ে বিস্ফোরক আভেরি।

Published on: Nov 3, 2026, 16:58:11 IST
Advertisement

‘বিগ বস বাংলা’-র দুর্গে প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে সমীকরণ, আর তার সঙ্গেই দ্বিগুণ হচ্ছে বিতর্কের উত্তাপ। সম্প্রতি শো-র অন্যতম প্রতিযোগী অভিনেতা জীতু কামাল-এর আচরণ, লিঙ্গবৈষম্যমূলক মন্তব্য এবং রান্নাঘরে চরম অশান্তি সৃষ্টি করা নিয়ে নেটপাড়ায় বইছে ক্ষোভের ঝড়।

‘মেয়েদের মতো হাতে চুরি পরে থাক’, জীতুর নারীবিদ্বেষী মন্তব্যে সরব আভেরি সিং রায়
‘মেয়েদের মতো হাতে চুরি পরে থাক’, জীতুর নারীবিদ্বেষী মন্তব্যে সরব আভেরি সিং রায়

সহ-প্রতিযোগী রাজবীর দে-কে চরম অপমান করা থেকে শুরু করে রান্নাঘরের দায়িত্বপ্রাপ্ত তনুশ্রী-কে ‘চোর’ তকমা দেওয়া— একের পর এক ঘটনায় জীতুর ওপর ক্ষুব্ধ দর্শক থেকে ইন্ডাস্ট্রির সহ-কর্মীরা।

জীতুর মুখে লিঙ্গবৈষম্যমূলক মন্তব্য ও তীব্র কটাক্ষ:

ঘরের অন্দরে রাজবীরের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে মেজাজ হারান জীতু কামাল। পুরুষত্ব ও নারীদের অবমূল্যায়ন করে রাজবীরের উদ্দেশে তিনি একের পর এক কুরুচিকর বাক্যবাণ ছোড়েন: ‘পুরুষ হলে এটা করে দেখা!’ ‘মেয়েছেলেদের মতো করিস না!’ ‘পুরুষ হওয়ার পরিচয় দে!’ অথবা ‘মেয়েদের মতো হাতে চুড়ি পরে থাক!’

জীতুর এমন পুরুষতান্ত্রিক আচরণের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন সহ-শিল্পীরা। অভিনেত্রী আভেরি সিং রায় কটাক্ষ করে জানান, এই বক্তব্যগুলো জীতুর ‘নিজের বিকৃত ব্যক্তিত্বেরই প্রতিফলন’, তিনি লেখেন-'জিতু কামাল এর এই মন্তব্য গুলো ওর মতই দেখতে লাগে'। অন্যদিকে জীতুর প্রাক্তন সহ-অভিনেতা দেবনাথ চট্টোপাধ্যায় সোজাসুজি তোপ দেগে বলেন: ‘ওর প্রচুর মেল ইগো’। আভেরির পোস্টে নেটিজেনরা জীতুকে ‘নারীবিদ্বেষী’ বলে তোপ দাগেন।

চলতি সপ্তাহে রান্নাঘরের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তনুশ্রী। মাংস রান্না হওয়ার পর জীতু নিজের খাবারের থালা নিতে গিয়ে দেখেন, তাঁর পাতে মাংসের টুকরো বরাদ্দ হিসেবের চেয়ে কম। ব্যাস, এতেই রেগে আগুন হয়ে যান অভিনেতা!

জীতুর অভিযোগ, তনুশ্রীর হাতে রান্নার দায়িত্ব থাকলেই নাকি তাঁর পাতে খাবার কম পড়ে। সবার সামনে তনুশ্রীকে সোজাসুজি ‘চোর’ ও ‘মিথ্যাবাদী’ তকমা দিয়ে জীতু দাবি করেন, তনুশ্রী সকলের খাবার চুরি করছেন। এমনকি আগে পনির চুরি করতেও তাঁকে হাতেনাতে ধরেছিলেন বলে দাবি তোলেন অভিনেতা। তনুশ্রীও ছেড়ে দেওয়ার পাত্রী নন! তিনি সোজা আঙুল তুলে জানান, জীতু নিজেও ধোয়া তুলসী পাতা নন। জীতুকে তিনি সবার সামনে মধু চুরি করে খেতে দেখেছেন এবং জীতু ঘরের নানা জিনিস লুকিয়ে রাখেন বলেও অভিযোগ করেন।

বাকযুদ্ধ এমন চরম পর্যায়ে পৌঁছায় যে জীতু রেগে গিয়ে ঘোষণা করেন, পরের দিন থেকে তনুশ্রীর হাতের রান্না তিনি আর ছূঁয়েও দেখবেন না। জীতু বলেন, ‘পরের দিন থেকে তনুশ্রীর হাতের রান্না যদি আমি আর খাই, তবে আমার নামে যেন কুকুর পোষা হয়!’

রাজবীরকে ‘দালাল’ অপবাদ ও সোনামণি-সৃজলার সংঘাত:

এই ‘মাংস-যুদ্ধে’ ঘি ঢালতে বাকি প্রতিযোগীরাও আসরে নামেন। তনুশ্রীর পাশে দাঁড়াতে রাজবীর এগিয়ে এলে জীতুর চরম রোষানলে পড়েন তিনি। সবার সামনে রাজবীরকে সোজাসুজি ‘দালাল’ অপবাদ দেন জীতু। জীতুর সমর্থনে গলা তুলে সৃজলা গুহ দাবি করেন, খাবার বণ্টনের সময় তনুশ্রী তাঁর সঙ্গেও চরম বৈষম্য করেছেন। সৃজলার এই অভিযোগে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে কান্নায় ভাসেন তনুশ্রী।

সোনামণি ও মনামীর এন্ট্রি: কান্নারত তনুশ্রীর সমর্থনে এগিয়ে আসেন সোনামণি ও মনামী। সোনামণি ও সৃজলার পুরনো সাপে-নেউলে সম্পর্ক উসকে উঠতেই ঝগড়ার পারদ চরম সীমায় পৌঁছায়, যা দর্শকদের জন্য এক ভরপুর হাইভোল্টেজ ড্রামায় পরিণত হয়েছে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Priyanka Mukherjee

প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks