‘বিগ বস বাংলা’-র দুর্গে প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে সমীকরণ, আর তার সঙ্গেই দ্বিগুণ হচ্ছে বিতর্কের উত্তাপ। সম্প্রতি শো-র অন্যতম প্রতিযোগী অভিনেতা জীতু কামাল-এর আচরণ, লিঙ্গবৈষম্যমূলক মন্তব্য এবং রান্নাঘরে চরম অশান্তি সৃষ্টি করা নিয়ে নেটপাড়ায় বইছে ক্ষোভের ঝড়।

সহ-প্রতিযোগী রাজবীর দে-কে চরম অপমান করা থেকে শুরু করে রান্নাঘরের দায়িত্বপ্রাপ্ত তনুশ্রী-কে ‘চোর’ তকমা দেওয়া— একের পর এক ঘটনায় জীতুর ওপর ক্ষুব্ধ দর্শক থেকে ইন্ডাস্ট্রির সহ-কর্মীরা।
জীতুর মুখে লিঙ্গবৈষম্যমূলক মন্তব্য ও তীব্র কটাক্ষ:
ঘরের অন্দরে রাজবীরের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে মেজাজ হারান জীতু কামাল। পুরুষত্ব ও নারীদের অবমূল্যায়ন করে রাজবীরের উদ্দেশে তিনি একের পর এক কুরুচিকর বাক্যবাণ ছোড়েন: ‘পুরুষ হলে এটা করে দেখা!’ ‘মেয়েছেলেদের মতো করিস না!’ ‘পুরুষ হওয়ার পরিচয় দে!’ অথবা ‘মেয়েদের মতো হাতে চুড়ি পরে থাক!’
জীতুর এমন পুরুষতান্ত্রিক আচরণের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন সহ-শিল্পীরা। অভিনেত্রী আভেরি সিং রায় কটাক্ষ করে জানান, এই বক্তব্যগুলো জীতুর ‘নিজের বিকৃত ব্যক্তিত্বেরই প্রতিফলন’, তিনি লেখেন-'জিতু কামাল এর এই মন্তব্য গুলো ওর মতই দেখতে লাগে'। অন্যদিকে জীতুর প্রাক্তন সহ-অভিনেতা দেবনাথ চট্টোপাধ্যায় সোজাসুজি তোপ দেগে বলেন: ‘ওর প্রচুর মেল ইগো’। আভেরির পোস্টে নেটিজেনরা জীতুকে ‘নারীবিদ্বেষী’ বলে তোপ দাগেন।
মাংসের টুকরো কম পড়তেই রান্নাঘরে রণক্ষেত্র:
{{/usCountry}}মাংসের টুকরো কম পড়তেই রান্নাঘরে রণক্ষেত্র:
{{/usCountry}}চলতি সপ্তাহে রান্নাঘরের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তনুশ্রী। মাংস রান্না হওয়ার পর জীতু নিজের খাবারের থালা নিতে গিয়ে দেখেন, তাঁর পাতে মাংসের টুকরো বরাদ্দ হিসেবের চেয়ে কম। ব্যাস, এতেই রেগে আগুন হয়ে যান অভিনেতা!
জীতুর অভিযোগ, তনুশ্রীর হাতে রান্নার দায়িত্ব থাকলেই নাকি তাঁর পাতে খাবার কম পড়ে। সবার সামনে তনুশ্রীকে সোজাসুজি ‘চোর’ ও ‘মিথ্যাবাদী’ তকমা দিয়ে জীতু দাবি করেন, তনুশ্রী সকলের খাবার চুরি করছেন। এমনকি আগে পনির চুরি করতেও তাঁকে হাতেনাতে ধরেছিলেন বলে দাবি তোলেন অভিনেতা। তনুশ্রীও ছেড়ে দেওয়ার পাত্রী নন! তিনি সোজা আঙুল তুলে জানান, জীতু নিজেও ধোয়া তুলসী পাতা নন। জীতুকে তিনি সবার সামনে মধু চুরি করে খেতে দেখেছেন এবং জীতু ঘরের নানা জিনিস লুকিয়ে রাখেন বলেও অভিযোগ করেন।
বাকযুদ্ধ এমন চরম পর্যায়ে পৌঁছায় যে জীতু রেগে গিয়ে ঘোষণা করেন, পরের দিন থেকে তনুশ্রীর হাতের রান্না তিনি আর ছূঁয়েও দেখবেন না। জীতু বলেন, ‘পরের দিন থেকে তনুশ্রীর হাতের রান্না যদি আমি আর খাই, তবে আমার নামে যেন কুকুর পোষা হয়!’
রাজবীরকে ‘দালাল’ অপবাদ ও সোনামণি-সৃজলার সংঘাত:
এই ‘মাংস-যুদ্ধে’ ঘি ঢালতে বাকি প্রতিযোগীরাও আসরে নামেন। তনুশ্রীর পাশে দাঁড়াতে রাজবীর এগিয়ে এলে জীতুর চরম রোষানলে পড়েন তিনি। সবার সামনে রাজবীরকে সোজাসুজি ‘দালাল’ অপবাদ দেন জীতু। জীতুর সমর্থনে গলা তুলে সৃজলা গুহ দাবি করেন, খাবার বণ্টনের সময় তনুশ্রী তাঁর সঙ্গেও চরম বৈষম্য করেছেন। সৃজলার এই অভিযোগে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে কান্নায় ভাসেন তনুশ্রী।
সোনামণি ও মনামীর এন্ট্রি: কান্নারত তনুশ্রীর সমর্থনে এগিয়ে আসেন সোনামণি ও মনামী। সোনামণি ও সৃজলার পুরনো সাপে-নেউলে সম্পর্ক উসকে উঠতেই ঝগড়ার পারদ চরম সীমায় পৌঁছায়, যা দর্শকদের জন্য এক ভরপুর হাইভোল্টেজ ড্রামায় পরিণত হয়েছে।