রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর থেকে সোশাল মিডিয়ায় ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার্স আর্টিস্ট ফোরাম-এর বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক পোস্ট করেছেন জীতু কমল। বলা চলে একেই তোলপাড় ফেলে দিয়েছেন অভিনেতা। টলিপাড়ার অধিকাংশই জীতুর বিপরীতে। তবে তাতে রাশ টানেননি অভিনেতা। এমনকী, সম্প্রতি জীতুর বিরুদ্ধে মুখ খোলেন ‘ইন্ডাস্ট্রি’, আর্টিস্ট ফোরাম-এর কার্যকরী সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।

জীতুর সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালিখি নিয়ে প্রসেনজিৎ বলেন, ‘আমরা সবাই বলছি সোশাল মিডিয়ায় লেখার আগে আমাদের জানাতে। আমরা তাহলে যথাসাধ্য সমাধানের চেষ্টা করব। সোশাল মিডিয়ায় লিখেই যদি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যেত তাহলে ২৭ বছর ধরে আর্টিস্ট ফোরাম থাকত না।’!
এবার তারই জবাব দিলেন জীতু। ইন্ডিপেনডেন্ট বেঙ্গলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা বললেন, ‘আর্টিস্ট ফোরামকে তো আমি মেল করেছিলাম। যে সিনিয়র অভিনেতা, আমাদের শ্রদ্ধেয়, তিনি বারবার এড়িয়ে গিয়েছেন আমাকে। আমি তাঁকে বারবার ফোন করেছি, আমি তাঁকে এসএমএস করেছি, হোয়াটসঅ্যাপ করেছি। কাল হঠাৎ বললেন, সোশ্যাল মিডিয়াতে বললে কী সব সমস্যার সমাধান হয়… আপনি মিথ্যে কথা বলছেন!’
এরপর যখন সাংবাদিক জানতে চান তিনি কি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ করছেন? তাতে জীতুর জবাব, ‘চ্যালেঞ্জ নয়, উনি মিথ্যে কথা বলছেন। আমি কিন্তু অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্য়ায়, পদ্মশ্রী প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে বলছি না। বলছি ওই চেয়ারটাতে বসে থাকা মানুষটাকে। আপনি তো ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট বা কোনো একটা পদে আছেন। আমি ঠিক বলতে পারব না, কারণ সেদিন মেল করে, আমি কার্ডটা ছিঁড়ে ফেলে দিয়েছিলাম। এই ফোরামের মেম্মার থাকতে পারব না আর। যে ফোরাম দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চাটুকারিতা করছে। বলছে আর্টিস্ট ফোরামকে জানানো উচিত ছিল। আমি তো জানিয়েছি। আমি তো মেল দেখিয়েছি। আমি নিজের মালা নিজে গলায় পরে নিয়ে বারবার করে মেইল দেখিয়েছি। যে আমি ১৫ তারিখ জানিয়েছি, ২৯ তারিখ আমার এক সহ অভিনেতার মৃত্যু ঘটল, সেটা তো নাও ঘটতে পারত। যে অনভিপ্রেত কথাটা বলছেন আপনি, 'আমরা প্রস্তুত ছিলাম না রাহুলের মৃত্যুর জন্য'! কেউ মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকে নাকি। আপনি তো খুব ভয়কর কথা বলছেন। আমার ১৫ তারিখের মেইলটা যদি আপনারা দেখতেন, তাহলে একটা সলিউশনে আসা যেত। তার প্রত্যুত্তরে জানিয়েছেন, 'নতুন কমিটি হয়েছে, একটু তো সময় লাগবে'! ৪ তারিখ ক্ষমতায় এসেছে রাজ্যে একটা নতুন দল, ৯ তারিখের মধ্যে কতগুলো প্রকল্প জানিয়ে দিল। আর আপনারা একটা কমিটি এক-দেড় মাস হয়েছে, আমি কমপ্লেন দিয়েছি দেড় মাস ধরে, আপনারা ফোনটুকু পর্যন্ত তোলেননি। করছি বলে রেখে দিয়েছেন…’
প্রসঙ্গত, ‘এরাও মানুষ’ ছবি ঘিরে সব দ্বন্দের সূত্রপাত। প্রযোজক ও জীতুর মধ্যে সমস্যা শুরু হয়। অভিনেতার অভিযোগ যে, অসুস্থ শরীর নিয়েও তাঁকে কাজ করে যাওয়ার চাপ দেওয়া হতে থাকে। এখানেই শেষ নয়, জীতু যখন তাঁর অভিযোগ নিয়ে আর্টিস্ট ফোরামের দ্বারস্থ হন, তখন তাঁর কথা শোনা হয়নি বলে অভিযোগ। আর সেই জট এখনো কাটেনি। এরপর অবশ্য জীতু জানান, তিনি নিজেই উদ্যোগ নিয়ে প্রযোজকের সঙ্গে সব সমস্যা মিটিয়ে নেন। তবে আর্টিস্ট ফোরামের ‘অসহযোগিতা’ নিয়ে মনে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে এখনো সরব তিনি।
{{/usCountry}}প্রসঙ্গত, ‘এরাও মানুষ’ ছবি ঘিরে সব দ্বন্দের সূত্রপাত। প্রযোজক ও জীতুর মধ্যে সমস্যা শুরু হয়। অভিনেতার অভিযোগ যে, অসুস্থ শরীর নিয়েও তাঁকে কাজ করে যাওয়ার চাপ দেওয়া হতে থাকে। এখানেই শেষ নয়, জীতু যখন তাঁর অভিযোগ নিয়ে আর্টিস্ট ফোরামের দ্বারস্থ হন, তখন তাঁর কথা শোনা হয়নি বলে অভিযোগ। আর সেই জট এখনো কাটেনি। এরপর অবশ্য জীতু জানান, তিনি নিজেই উদ্যোগ নিয়ে প্রযোজকের সঙ্গে সব সমস্যা মিটিয়ে নেন। তবে আর্টিস্ট ফোরামের ‘অসহযোগিতা’ নিয়ে মনে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে এখনো সরব তিনি।
{{/usCountry}}