বুধবার সকাল থেকেই ভোট-উৎসবে মজেছে বাংলা। দ্বিতীয় ও শেষ দফার নির্বাচন এবার বাংলায়। তারকা থেকে সাধারণ মানুষ, সকলেই যখন ভোট পরবর্তী আঙুলে লাগানো নীল কালির ছবি দিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই অভিনেতা জীতু কমল মনে করালেন, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ১ মাস হল আজ।

স্টার জলসার ভোলে বাবা পার করেগা ধারাবাহিকের শ্যুটের সময় জলে ডুবে মৃত্যু হয় তাঁর তালসারিতে। এরপর প্রযোজনা সংস্থার গাফিলতি, সত্য লুকনোর ব্যাপার আসে সামনে। জানা যায়, কোনো সাবধানতা না নিয়েই, শ্যুট হচ্ছিল সমুদ্রে নেমে। এমনকী, স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনের থেকে কোনো অনুমতিও নেওয়া হয়নি। ইতিমধ্যেই তালসারি ও কিজেন্ট পার্ক থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে এই কেসে। তবে তদন্ত নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো সেভাবে আসেনি সামনে।
এদিকে, রাহুলের মৃত্যু নিয়ে প্রতিবাদ করে বিতর্কে জড়ান ইন্ডাস্ট্রিরই আরেক মুখ জীতু কমল। আসলে রাহুল জলে ডুবে যাওয়ার মাসখানেক আগে তিনি আর্টিস্ট ফোরামের কাছে এক প্রযোজনা সংস্থার নামে অভিযোগ করেছিলেন। দাবি ছিল, অসুস্থ অবস্থাতেও তাঁকে দিয়ে জোর করে শ্যুটিং করায় ওই সংস্থা। হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেন জীতু তারপর। এমনকী, ডাক্তার এরপর বিশ্রামের উপদেশ দিলেও, সেই প্রযোজনা সংস্থা ছুটি দিতে রাজি হয়নি। স্বভাবতই ক্ষুব্ধ জীতু আর্টিস্ট ফোরামে অভিযোগ করেন। কিন্তু না ফোনে, না ইমেইলের জবাব পান। তাই রাহুলের মৃত্যুর পর, আর্টিস্ট ফোরামের বিরুদ্ধে সরব হন। এমনকী প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে রাহুল আর নিজের ছবিতে মালা পড়িয়ে বিক্ষোভ দেখান একাই। তবে এরপর থেকে জীতুর বিরোধিতা করে একাধিক তারকা।
বুধবারের পোস্টে তাঁদেরই ঠুকলেন চিরদিনই তুমি যে আমার ধারাবাহিকের ‘আর্য স্যার’। লিখেছেন, ‘মাস খানেক হল সবে, ঠিক আজকের দিনে, মৃত্যুর পর পরই এত আত্মীয় সংখ্যা গজিয়ে উঠেছিল, তা দেখে তো আমি হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। একটা মৃত্যু নাকি সবকিছু নাড়িয়ে দিতে পারে, হায় রে বাঙালি। মৃত্যু না হলে আপনারা নড়তেন না, তা তো আপনারাই স্পষ্ট করছেন। আজ একমাস পূর্ণ হল। সত্যি করে বলুন তো, মনে আছে গত মাসে এইদিনে কী ঘটেছিল?? নাহ, এই মনে পড়ল। কোথায় সেই আবেগ, কোথায় সেই চোখের জল! না, আমি কিন্তু বলছি না আমার সঙ্গে সম্পর্কটা রাহুলদার আপনাদের মত গজিয়ে ওঠা বোন, দাদা, ভাইয়ের মতো এত 'গাঢ়' ছিল। আমার সঙ্গে কলিগের সম্পর্ক ছিল।’
{{/usCountry}}বুধবারের পোস্টে তাঁদেরই ঠুকলেন চিরদিনই তুমি যে আমার ধারাবাহিকের ‘আর্য স্যার’। লিখেছেন, ‘মাস খানেক হল সবে, ঠিক আজকের দিনে, মৃত্যুর পর পরই এত আত্মীয় সংখ্যা গজিয়ে উঠেছিল, তা দেখে তো আমি হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। একটা মৃত্যু নাকি সবকিছু নাড়িয়ে দিতে পারে, হায় রে বাঙালি। মৃত্যু না হলে আপনারা নড়তেন না, তা তো আপনারাই স্পষ্ট করছেন। আজ একমাস পূর্ণ হল। সত্যি করে বলুন তো, মনে আছে গত মাসে এইদিনে কী ঘটেছিল?? নাহ, এই মনে পড়ল। কোথায় সেই আবেগ, কোথায় সেই চোখের জল! না, আমি কিন্তু বলছি না আমার সঙ্গে সম্পর্কটা রাহুলদার আপনাদের মত গজিয়ে ওঠা বোন, দাদা, ভাইয়ের মতো এত 'গাঢ়' ছিল। আমার সঙ্গে কলিগের সম্পর্ক ছিল।’
{{/usCountry}}‘তাই আপনাদের মতো ব্যক্তিগত আক্রমণ শানাতে পারিনি, দল পাকিয়ে এখনও যে কাজ করে চলেছেন তাও করতে পারিনি। আমার প্রতিবাদ ছিল, আছে, থাকবে। স্থান, কাল, সময়টাও আমারই নির্দিষ্ট করা থাকবে। শ্রেণী শত্রু চিহ্নিত করার কাজও জারি থাকবে। এখনও বলব, আমার কথাটা ১৬ মার্চ একটু শোনা হলে, আপনার দাদা বা ভাইকে এতো সহজে চলে যেতে হত না না না।’
প্রসঙ্গত, টলিপাড়ার অভিনেত্রী পায়েল ফেসবুকে লিখেছিলেন, সেদিনের প্রতিবাদের পর রাহুলের ছবি জীতু গাছতলায় ফেলেই চলে যান। পরে যা সামলে তুলে রাখা হয় আর্টিস্ট ফোরামের অফিসে। সেই পোস্টের দিকে ইঙ্গিত করে জীতু লিখলেন, ‘আমার তো একটা ধন্যবাদ প্রাপ্য বলুন! আপনাদের মনে না হোক, আমার সৌজন্যেই ওই রুমে রাহুলদার একটা ফটো জায়গা পেয়েছে। এই মাটি, ক্ষুদিরাম বোস এর মাটি, নেতাজি সুভাষ চন্দ্রের মাটি, উল্লাসকর দত্তের মাটি, প্রফুল্ল চাকীর মাটি, প্রফুল্ল চক্রবর্তী মাটি, বিবেকানন্দের মাটি। তাই কিছুটা মাটি যদি আপনাদের প্রিয় রাহুলদার মুখে লেগে থাকে তাহলে সেটা গর্বেরই মাটি লেগেছে, ঠুনকো ইমোশনের ধুলো লাগেনি… আজ তো আবার আঙুলে কালি লাগিয়ে ছবি তোলার দিন। গণতন্ত্রের উৎসব। সেই গণতান্ত্রিক দেশেই আমি বাস করি যেখানে, প্রতিবাদ করার দিনক্ষণ ঠিক করে দেবেন আপনি। প্রতিবাদ কী নিয়ে হবে তা ঠিক করে দেবেন আপনি। একা প্রতিবাদ করা যাবে কি যাবে না তারও কন্ঠ ঠিক করে দেবেন আপনি। আপনার আর কি! লাল, সবুজ, গেরুয়া সব বাগানেই আপনার অবাধ বিচরণ। আপনি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক যে!’