...
...
Next Story

‘বিছানায় শুয়ে হিসু করার পরিস্থিতি…লজ্জা নেই আমার জন্য তারা বেডপ্যান ধরেছেন’, আয়া মাসিদের নিয়ে আবেগঘন ঝিলম

‘আয়া নয়, আয়া শব্দটার সঙ্গে আসলে মায়ার মিল!’ কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ক্রিটিক্যাল অপারেশনের পর স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ে আবেগঘন ঝিলম গুপ্ত।

Published on: Nov 1, 2026, 14:28:52 IST
Advertisement

অসুস্থতার কারণে ‘বিগ বস বাংলা’-র ঘর থেকে আচমকা বিদায় নিতে হয়েছিল সামাজিক মাধ্যমের জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ঝিলম গুপ্ত-কে। পরবর্তীতে জানা যায়, তাঁর গলব্লাডারে বিশাল আকৃতির পাথর ও মারাত্মক সংক্রমণ হয়েছিল। অবশেষে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অধ্যাপক চিকিৎসক সিদ্ধার্থ বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে সফলভাবে তাঁর পিত্তথলির অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।

‘বিছানায় শুয়ে হিসু করার পরিস্থিতি…লজ্জা নেই আমার জন্য তারা বেডপ্যান ধরেছেন’, আয়া মাসিদের নিয়ে আবেগঘন ঝিলম
‘বিছানায় শুয়ে হিসু করার পরিস্থিতি…লজ্জা নেই আমার জন্য তারা বেডপ্যান ধরেছেন’, আয়া মাসিদের নিয়ে আবেগঘন ঝিলম

সাধারণত যে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হতে আধ ঘণ্টা থেকে পয়তাল্লিশ মিনিট বা বড়জোড় এক ঘণ্টা সময় লাগে, কেস জটিল হয়ে যাওয়ায় ঝিলমের ক্ষেত্রে তা সম্পন্ন হতে সময় লেগেছে দুই ঘণ্টারও বেশি। শারীরিক কষ্টের মাঝেও হাসপাতালের বেডপ্যান ধরে পরম স্নেহে পরিচর্যা করা স্বাস্থ্যকর্মীদের (আয়া) প্রতি এক অসামান্য ও বিনম্র কৃতজ্ঞতা বার্তা পোস্ট করেছেন তিনি।

‘ আধ ঘণ্টার জায়গায় লাগল দু’ঘণ্টার বেশি!’ কাইসিস মুহূর্ত:

অস্ত্রোপচার প্রসঙ্গে ঝিলম জানান, তাঁর কেসটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ বা ক্রিটিক্যাল হয়ে উঠেছিল। যে অপারেশন আধ ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা, সেখানে তাঁর ক্ষেত্রে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। স্বাভাবিকভাবেই অপারেশনের পর পেটের ব্যথা ও শারীরিক কষ্ট অন্যান্য রোগীদের চেয়ে একটু বেশি হওয়াটাই ছিল স্বাভাবিক।

‘আয়া নয়, শব্দটার আসল মানে মায়া’: চরম শ্রদ্ধার স্বীকারোক্তি:

হাসপাতালে প্রিয়জনদের অনুপস্থিতির সময়টিতে যেভাবে দুজন আয়া (স্বাস্থ্যকর্মী) তাঁকে আগলে রেখেছেন, তা ভেবে নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি ঝিলম। পোস্টের মাধ্যমে ঝিলম অকপটে জানান, জীবনে বহুবার অসুস্থ হলেও বিছানায় শুয়ে বেডপ্যান ব্যবহার করার মতো পরিস্থিতি তাঁর আগে কখনও তৈরি হয়নি। কিন্তু এবার সেই কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। ঝিলম অকপটে লেখেন, 'আমি জীবনে বহুবার অসুস্থ হয়েছি, কিন্তু বিছানায় শুয়ে হিসু করার পরিস্থিতি কখনও তৈরি হয়নি। তবে এবারে হয়েছে। বলতে লজ্জা নেই, শ্রদ্ধায় অবনত হতে বাধা নেই এই দুটি মানুষের কাছে, আমার জন্য তারা বেডপ্যান ধরেছেন। আমাকে পরিষ্কার থাকতে সাহায্য করেছেন।'

লজ্জা ভুলে ও পরম শ্রদ্ধায় মাথা নত করে ঝিলম স্বীকার করেছেন— ওই দুজন মানুষ হাসিমুখে তাঁর বেডপ্যান ধরেছেন এবং তাঁকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সাহায্য করেছেন।

বিদায়বেলায় চোখের জল ও নিঃশব্দ সম্পদের বার্তা:

হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে বিদায় নেওয়ার সময় যখন সেই দুই পরিচর্যাকারী বিনয়ের সাথে বলে যান, ‘কোনো ভুল হয়ে থাকলে ক্ষমা করে দিও’, তখন নিজেকে ধরে রাখতে না পেরে কেঁদে ফেলেন ঝিলম।

সামাজিক মাধ্যমে এই রূপকথা সমতুল্য মানবিক অভিজ্ঞতা শেয়ার করে ঝিলম লিখেছেন, ‘মায়া দিয়ে আপন করে নেওয়া আয়া নামের মানুষগুলো সুস্থ থাকুক। তোমরাই আসলে আমাদের এই সমাজের নিঃশব্দ সম্পদ।’ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে এবং প্রচলিত সামাজিক ছক ভেঙে গ্রাউন্ড-লেভেলের এই মানুষদের এভাবে সম্মান জানানোয় অনুরাগী মহল ঝিলমের সংবেদনশীল মন ও উদার মানসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করছেন।

 
ABOUT THE AUTHOR
Priyanka Mukherjee

প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks