প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের প্রাক্তন ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের মৃত্যুর তদন্ত শুরু করতে সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) একটি এফআইআর দায়ের করেছে। সিবিআই-এর এই এফআইআর-এ অভিনেতা সুরজ পাঞ্চোলির নামও রয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে অভিনেত্রী জিয়া খানের মৃত্যুর মামলাতেও সুরজ পাঞ্চোলির নাম জড়িয়েছিল। তবে, একটি বিশেষ সিবিআই আদালত তাকে নির্দোষ ঘোষণা করে খালাস দেয়।

জিয়া খানের মায়ের বিবৃতি
দিশা সালিয়ান মামলার এফআইআর-এ সুরজ পাঞ্চোলির নাম আসার পর, জিয়া খানের মা রাবিয়া খান তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি দীর্ঘ নোট শেয়ার করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘যখন আমি শুনলাম যে ছয় বছর আগের দিশা সালিয়ান হত্যা মামলায় আমার মেয়ে জিয়া খানের মামলার মতোই একই নাম এসেছে, তখন আমি গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছি। এটি শুধু আমার জন্য নয়, সকলের জন্যই উদ্বেগের বিষয় হওয়া উচিত।’
রাবিয়া আরও লেখেন, জিয়া খান মামলার সময় তিনি দেখেছেন কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট করা একটি তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারে। তিনি লিখেছেন, ‘মামলার কারণে আমি জানি, ভুক্তভোগীদের ধোঁকা দেওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট করে দিলে কী হতে পারে। একবার প্রমাণ নষ্ট হয়ে গেলে সত্য খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়ে।’
‘তারা জিয়ার মামলার মতোই একই পন্থা অবলম্বন করছে’ - রাবিয়া
রাবিয়া খান তার নোটে তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘হাইকোর্ট নিজেই বলেছে যে দিশা সালিয়ান মামলার তদন্তে ত্রুটি রয়েছে। তারা জানে যে কোনো প্রমাণ অবশিষ্ট নেই। যখন গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হারিয়ে গেছে বা নষ্ট হয়ে গেছে, তখন যে কোনো নতুন তদন্ত অর্থহীন।’
{{/usCountry}}রাবিয়া খান তার নোটে তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘হাইকোর্ট নিজেই বলেছে যে দিশা সালিয়ান মামলার তদন্তে ত্রুটি রয়েছে। তারা জানে যে কোনো প্রমাণ অবশিষ্ট নেই। যখন গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হারিয়ে গেছে বা নষ্ট হয়ে গেছে, তখন যে কোনো নতুন তদন্ত অর্থহীন।’
{{/usCountry}}তিনি আরও লিখেছেন, 'তারা একই পন্থা অবলম্বন করছে: প্রমাণের অভাবে ন্যায়বিচার অস্বীকার করা এবং একে আত্মহত্যায় প্ররোচনা বলে আখ্যা দেওয়া... 'প্ররোচনা'র দিকটি তদন্তই করা হয়নি। তারা জিয়ার মামলার মতোই একই পন্থা অবলম্বন করছে।'
‘জিয়া যেমন সত্য জানার অধিকার রাখে, দিশারও ঠিক তেমনই অধিকার আছে’
জিয়া খানের মা বলেছেন যে, ভুক্তভোগী এবং তাদের পরিবারের প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তিনি তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে মামলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংরক্ষণের জন্য অনুরোধ করেছেন। রাবিয়া বলেছেন যে, তার মেয়ে জিয়ার মতোই দিশা সালিয়ানেরও সত্যটা জানার অধিকার আছে।
দিশা সালিয়ান কবে মারা গিয়েছিলেন?
২০২০ সালের ৮ জুন মুম্বাইয়ে দিশা সালিয়ানকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এই ঘটনাটি সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর কয়েকদিন আগে ঘটেছিল। তার মৃত্যুর পর, মামলাটি প্রাথমিকভাবে একটি আকস্মিক মৃত্যু (ADR) হিসাবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। প্রায় ছয় বছর পর, সিবিআই এই মামলায় একটি এফআইআর দায়ের করেছে। এফআইআর-এ আদিত্য ঠাকরে, রিয়া চক্রবর্তী, সুরজ পাঞ্চোলি, দিনো মোরিয়া, রোহান রায় এবং আরও অনেকের নাম রয়েছে। সিবিআই এখন এফআইআর-এ নাম থাকা ব্যক্তিদের এবং অন্যান্য সম্পর্কিত দিকগুলো তদন্ত করছে।