...
...
Next Story

Shruti Das: মুটের কাজ করেও মেয়ের স্বপ্নউড়ানের সঙ্গী! ‘শক্তিমান’ বাবাকে নিয়ে আবেগঘন ‘নিশা’ শ্রুতি

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রুতি দাস বরাবরই তাঁর স্পষ্টবাদিতা এবং মাটির কাছাকাছি থাকার অভ্যাসের জন্য দর্শকদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। গ্ল্যামার দুনিয়ার চাকচিক্যে হারিয়ে না গিয়ে নিজের শিকড়কে যে তিনি ভোলেননি, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন অভিনেত্রী।

Published on: May 19, 2026, 12:30:14 IST
Advertisement

আজ তিনি ইন্ডাস্ট্রির প্রথম সারির নায়িকা, লাইমলাইটের কেন্দ্রে তাঁর নিত্য আনাগোনা। কিন্তু এই সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছানোর নেপথ্যে যে লুকিয়ে রয়েছে এক মধ্যবিত্ত বাবার রক্ত জল করা পরিশ্রমের গল্প, তা খোলসা করলেন অভিনেত্রী শ্রুতি দাস মানে জোয়ার ভাঁটা ধারাবাহিকের নিশা। এসি, ফ্রিজ মেকানিক বাবার হাত ধরে কীভাবে আজ সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছেন, লোডশেডিংয়ের সেই অন্ধকার রাতগুলোর স্মৃতি হাতড়ে ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্ট করলেন ‘রাঙা বউ’ খ্যাত অভিনেত্রী।

মুটের কাজ করেও মেয়ের স্বপ্নউড়ানের সঙ্গী! ‘শক্তিমান’ বাবাকে নিয়ে আবেগঘন শ্রুতি
মুটের কাজ করেও মেয়ের স্বপ্নউড়ানের সঙ্গী! ‘শক্তিমান’ বাবাকে নিয়ে আবেগঘন শ্রুতি

কাঁধে মাল নিয়ে লোকের বাড়ি বাড়ি ঘুরতেন ‘শিবু দা’:

বাবার (সুব্রত দাস) কাজের দিনগুলোর কথা মনে করে শ্রুতি লিখেছেন, ‘আমার বাবাকে ছোট থেকে একই (মুট বয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিয়ো পোস্ট করেন নায়িকা) কাজ করতে দেখেছি বহুবার। কত মাল কাঁধে করে নিয়ে, হাতে করে নিয়ে দেখেছি লোকের বাড়ি বাড়ি এসি সার্ভিসিং, টিভি সার্ভিসিং, ফ্রিজ সার্ভিসিং, ওয়াশিং মেশিন সার্ভিসিং— সব কিছু হাসিমুখে করতে দেখেছি।' শ্রুতি জানান, ছোটবেলায় তিনিও বাবার সাথে মাঝেমধ্যে কাস্টমারদের বাড়ি যেতেন এবং বসে বসে বাবাকে কাজ করতে দেখতেন। অভিনেত্রীর কথায়, ’কেউ কেউ জল অফার করত, কেউ কেউ না। খাবার কখনও অফার করতে দেখিনি কাউকে, কিন্তু সবাই খুব ভালো ব্যবহার করত তোমার ভালো ব্যবহারের জন্য।'

লোডশেডিংয়ের রাত আর ফুটপাতে বসে আকাশ দেখা:

নিজেদের চরম অভাবের দিনগুলোর এক টুকরো ছবি তুলে ধরে শ্রুতি লিখেছেন, 'বাবাকে দেখেছি ভাত খেতে খেতে উঠে গিয়ে জেনারেটর চালাতে। আমাদের বাড়ি জেনারেটর ছিল না। মা হাতপাখা দিয়ে হাওয়া করত আমাদের লোডশেডিং হলে। রাতের বেলা চিত্রালয় দোকানের সামনে স্ল্যাবে বসে থাকতাম তিনজন, হাওয়া যাতে পাই আর আকাশ দেখতাম। আসলে আকাশ দেখতাম না... ভগবান আমাদের দেখতেন।'

‘তুমিই আমার শক্তিমান’:

এলাকার মানুষের কাছে শ্রুতির বাবা ছিলেন অত্যন্ত প্রিয় একজন মানুষ। সবাই বলত ‘শিবু দার মতো মানুষ হয় না’। বাবার এই সততা নিয়ে গর্ব করে শ্রুতি লিখেছেন, ‘তখনও গর্ব করতাম, আজও করি তোমায় নিয়ে গর্ব। শুধু আশীর্বাদ করো যেন তোমার মতো ‘শক্তিমান’ হতে পারি জীবনে। উজাড় করে খাটতে পারি, মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারি আর তোমায় প্রাউড (proud) ফিল করাতে পারি।’

পোস্টের শেষে বাবা-মায়ের সুস্থতা কামনা করে শ্রুতি লিখেছেন, ‘তুমি আর মা শুধু ভালো থেকো। আমার পাশে, আমার মাথার ওপর ঢাল হয়ে থেকো।’ গ্ল্যামার দুনিয়ার তারকা হয়েও নিজের বাবার মেকানিক পরিচয়কে যেভাবে বুক ফুলিয়ে গর্বের সাথে শ্রুতি সমাজমাধ্যমে তুলে ধরেছেন, তা নেটিজেনদের কুর্নিশ আদায় করে নিয়েছে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Priyanka Mukherjee

প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe