আজ তিনি ইন্ডাস্ট্রির প্রথম সারির নায়িকা, লাইমলাইটের কেন্দ্রে তাঁর নিত্য আনাগোনা। কিন্তু এই সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছানোর নেপথ্যে যে লুকিয়ে রয়েছে এক মধ্যবিত্ত বাবার রক্ত জল করা পরিশ্রমের গল্প, তা খোলসা করলেন অভিনেত্রী শ্রুতি দাস মানে জোয়ার ভাঁটা ধারাবাহিকের নিশা। এসি, ফ্রিজ মেকানিক বাবার হাত ধরে কীভাবে আজ সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছেন, লোডশেডিংয়ের সেই অন্ধকার রাতগুলোর স্মৃতি হাতড়ে ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্ট করলেন ‘রাঙা বউ’ খ্যাত অভিনেত্রী।

কাঁধে মাল নিয়ে লোকের বাড়ি বাড়ি ঘুরতেন ‘শিবু দা’:
বাবার (সুব্রত দাস) কাজের দিনগুলোর কথা মনে করে শ্রুতি লিখেছেন, ‘আমার বাবাকে ছোট থেকে একই (মুট বয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিয়ো পোস্ট করেন নায়িকা) কাজ করতে দেখেছি বহুবার। কত মাল কাঁধে করে নিয়ে, হাতে করে নিয়ে দেখেছি লোকের বাড়ি বাড়ি এসি সার্ভিসিং, টিভি সার্ভিসিং, ফ্রিজ সার্ভিসিং, ওয়াশিং মেশিন সার্ভিসিং— সব কিছু হাসিমুখে করতে দেখেছি।' শ্রুতি জানান, ছোটবেলায় তিনিও বাবার সাথে মাঝেমধ্যে কাস্টমারদের বাড়ি যেতেন এবং বসে বসে বাবাকে কাজ করতে দেখতেন। অভিনেত্রীর কথায়, ’কেউ কেউ জল অফার করত, কেউ কেউ না। খাবার কখনও অফার করতে দেখিনি কাউকে, কিন্তু সবাই খুব ভালো ব্যবহার করত তোমার ভালো ব্যবহারের জন্য।'
লোডশেডিংয়ের রাত আর ফুটপাতে বসে আকাশ দেখা:
নিজেদের চরম অভাবের দিনগুলোর এক টুকরো ছবি তুলে ধরে শ্রুতি লিখেছেন, 'বাবাকে দেখেছি ভাত খেতে খেতে উঠে গিয়ে জেনারেটর চালাতে। আমাদের বাড়ি জেনারেটর ছিল না। মা হাতপাখা দিয়ে হাওয়া করত আমাদের লোডশেডিং হলে। রাতের বেলা চিত্রালয় দোকানের সামনে স্ল্যাবে বসে থাকতাম তিনজন, হাওয়া যাতে পাই আর আকাশ দেখতাম। আসলে আকাশ দেখতাম না... ভগবান আমাদের দেখতেন।'
বাবার সেই কষ্ট দেখেই আজ বাবা-মাকে সমস্ত সুখ-সুবিধা এনে দিয়েছেন শ্রুতি। তিনি যোগ করেন,'তুমি হয়তো মনে মনে ভাবতে কাশের আমাদেরও কেউ সেই সুবিধা তুমি দিতে পারো.. আজ তাই লোডশেডিং হলে তোমাদের আর কষ্ট দিতে ইচ্ছা হয়নি, তাই সব ব্যবস্থা করেছি আস্তে আস্তে।' হ্য়াঁ, ইতিমধ্যেই কলকাতায় বাবা-মা'র জন্য ফ্ল্যাট কিনেছেন। তাঁদের জীবনকে স্বচ্ছল করে তুলতে সবরকম ব্যবস্থা করেছেন শ্রুতি।
{{/usCountry}}বাবার সেই কষ্ট দেখেই আজ বাবা-মাকে সমস্ত সুখ-সুবিধা এনে দিয়েছেন শ্রুতি। তিনি যোগ করেন,'তুমি হয়তো মনে মনে ভাবতে কাশের আমাদেরও কেউ সেই সুবিধা তুমি দিতে পারো.. আজ তাই লোডশেডিং হলে তোমাদের আর কষ্ট দিতে ইচ্ছা হয়নি, তাই সব ব্যবস্থা করেছি আস্তে আস্তে।' হ্য়াঁ, ইতিমধ্যেই কলকাতায় বাবা-মা'র জন্য ফ্ল্যাট কিনেছেন। তাঁদের জীবনকে স্বচ্ছল করে তুলতে সবরকম ব্যবস্থা করেছেন শ্রুতি।
{{/usCountry}}‘তুমিই আমার শক্তিমান’:
এলাকার মানুষের কাছে শ্রুতির বাবা ছিলেন অত্যন্ত প্রিয় একজন মানুষ। সবাই বলত ‘শিবু দার মতো মানুষ হয় না’। বাবার এই সততা নিয়ে গর্ব করে শ্রুতি লিখেছেন, ‘তখনও গর্ব করতাম, আজও করি তোমায় নিয়ে গর্ব। শুধু আশীর্বাদ করো যেন তোমার মতো ‘শক্তিমান’ হতে পারি জীবনে। উজাড় করে খাটতে পারি, মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারি আর তোমায় প্রাউড (proud) ফিল করাতে পারি।’
পোস্টের শেষে বাবা-মায়ের সুস্থতা কামনা করে শ্রুতি লিখেছেন, ‘তুমি আর মা শুধু ভালো থেকো। আমার পাশে, আমার মাথার ওপর ঢাল হয়ে থেকো।’ গ্ল্যামার দুনিয়ার তারকা হয়েও নিজের বাবার মেকানিক পরিচয়কে যেভাবে বুক ফুলিয়ে গর্বের সাথে শ্রুতি সমাজমাধ্যমে তুলে ধরেছেন, তা নেটিজেনদের কুর্নিশ আদায় করে নিয়েছে।