...
...
Next Story

Jowar Bhanta: ‘সিনিয়রদের প্রতি কোনও সম্মান নেই, এই ড্রামা বন্ধ করো’, জোয়ার ভাঁটা অভিনেত্রী চাঁদনির নিশানায় কে?

‘তোমরা আসার আগেই মানুষ আমাদের চিনেছে!’ শুটিং ফ্লোরে সস্তা রিলস ও বিটিএস (BTS) সংস্কৃতির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিনেত্রী চাঁদনি সাহা।

Published on: Jun 23, 2026, 16:45:40 IST
Advertisement

সোশ্যাল মিডিয়ার রিলস আর ‘পাপারাৎজি’ সংস্কৃতির বাড়বাড়ন্ত এখন বিনোদন জগতের আনাচে-কানাচে। ভিউজ আর লাইক পাওয়ার চক্করে অনেক সময়ই ক্ষুণ্ণ হয় শুটিং ফ্লোরের শৃঙ্খলা ও প্রবীণ তারকাদের সম্মান। এবার এই ট্রেন্ড বা অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন জনপ্রিয় বাংলা ধারাবাহিকের পরিচিত মুখ চাঁদনি সাহা (Chandni Saha)। যাঁকে এই মুহূর্তে জোয়ার ভাঁটায় দেখছে দর্শক।

‘সিনিয়রদের প্রতি কোনও সম্মান নেই, এই ড্রামা বন্ধ করো’, চাঁদনির নিশানায় কে?
‘সিনিয়রদের প্রতি কোনও সম্মান নেই, এই ড্রামা বন্ধ করো’, চাঁদনির নিশানায় কে?

শুটিং ফ্লোরে মোবাইল হাতে ঘুরে বেড়ানো নতুন প্রজন্মের কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং কিছু সংবাদমাধ্যমের ‘অসভ্যতা’ নিয়ে ফেসবুকে একটি দীর্ঘ ও কড়া পোস্ট করেছেন তিনি।

'সিনিয়রদের প্রতি কোনও সম্মান নেই, এই ড্রামা বন্ধ করো'

চাঁদনি স্পষ্ট জানান, নতুন প্রজন্মের এই অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভরতা এবং ক্যামেরার অপব্যবহার শুটিংয়ের পরিবেশ নষ্ট করছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি লেখেন, ‘হাস্যকর লাগে যখন দেখি যে এই সোশ্যাল মিডিয়া-ওরিয়েন্টেড জেনারেশনের এত প্রবলেম। কেউ ফোন হাতে নিয়ে ফ্লোরে ঢুকে সবার ওপর ক্যামেরা ধরে ব়্যানডম স্টোরি করছে, এবং কোনও রেস্পেক্ট নেই যে ফ্রেমে সিনিয়ররাও আছেন। কেউ কেয়ার করে না’।

তিনি আরও যোগ করেন, ইদানীং ধারাবাহিকের কাজ করতে গিয়ে এই ফোন কালচার তাঁর কাছে চরম বিরক্তিকর হয়ে উঠেছে। পর্দার পেছনের দৃশ্য বা BTS (Behind The Scenes) তোলার নামে সব শিল্পীদের নিয়ে হালকা চালের কনটেন্ট বানানো হচ্ছে, অথচ ক্যাপশনে শুধু নায়ক-নায়িকার নাম দেওয়া হচ্ছে। সেইসব রিল-মেকারদের উদ্দেশ্য করে তিনি সাফ বলেন, ‘বেবি গার্লস অ্যান্ড বয়েজ, তোমরা তখন মার্কেটে ছিলে না, বস, তখন থেকে আমরা কাজ করছি। তাই যাদের ফ্রেমে নিচ্ছ, তাদের নাম মেনশন করার মিনিমাম সৌজন্য় যদি না থাকে, তাহলে প্লিজ ফ্লোরে এসে ব়্যানডম বিটিএস তুলো না। এটা গ্রহণযোগ্য নয়।’

ভিডিও করার চক্করে তারকাদের অস্বস্তিকর অ্যাঙ্গেলে ফ্রেমবন্দি করা নিয়েও সরব হয়েছেন চাঁদনি। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এরপর থেকে তিনি শুটিং করার সময় সামনে কেউ ফোন নিয়ে এলে তিনি তা বরদাস্ত করবেন না। চাঁদনির কথায়, ‘কারুর পার্সোনাল কিছু জানতে হলে, সরাসরি গিয়ে জিজ্ঞাসা করো। কিন্তু ফ্লোরে বিটিএস করতে এসে কারুর নাক কাটা, কারুর গাল কাটা, অস্বস্তিকর অ্যাঙ্গেলে ধরে দেওয়া— এই ননসেন্সটা আমি বরদাস্ত করব না। তোমরা আসার আগেই মানুষ আমাদের চিনে গেছে। তাই তোমাদের ইন্টারভিউ হোক বা যা-ই হোক, সেগুলোতে আমি থাকতে চাই না। আমি আমার প্রতিবাদটা করলাম।’

সহ-অভিনেত্রী আরাত্রিকাকে কটাক্ষ? ভুল ভাঙলেন চাঁদনি

চাঁদনি সাহার এই বিস্ফোরক পোস্টের পর নেটপাড়ার একাংশ এবং কিছু পোর্টাল দাবি করতে শুরু করে যে, চাঁদনি হয়তো ‘জোয়ার ভাঁটা’ ধারাবাহিকের প্রধান নায়িকা আরাত্রিকা মাইতি (Aratrika Maity)-কে লক্ষ্য করে এই কড়া কথাগুলো বলেছেন। কিন্তু এই জল্পনা ছড়াতেই বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে ফের একটি পোস্ট করে ভুল ভাঙেন চাঁদনি। তিনি স্পষ্ট করে দেন, তাঁর নিশানায় আরাত্রিকা নয়, বরং সস্তার হাইপ চাওয়া কিছু মিডিয়া চ্যানেল।

ভুলভাল খবর রটনাকারীদের একহাত নিয়ে তিনি লেখেন, ‘আমার এই পোস্টটা বাংলায় লেখা আর যাদের বাংলা বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে তারা ফ্রিতে ক্লাস করতে আসতে পারেন। উল্টোপাল্টা আবারও লেখা হচ্ছে যে আমি নাকি আরাত্রিকাকে নিয়ে লিখেছি... কী হাস্য়কর! আমি লিখেছি হঠাৎ করে যারা একটা চ্যানেল খুলে মিডিয়া হয়ে গেছে তাদের নিয়ে এবং শুধু তাদের নিয়ে নয়, তাদের ননসেন্স বিহেভিয়ার নিয়ে। এটাও বাংলায় লিখলাম সেই মিডিয়াদের জন্য যারা কোনও কারণ ছাড়া আরাত্রিকাকে মাঝখানে আনল একটু হাইপ পাওয়ার জন্য। কী স্যাড! মানসিকতা যেন উন্নত হয়, যারা এই ভুলভাল পোস্ট করছেন এই আশা রাখবো।’

আরাত্রিকাও চাঁদনির পোস্টে কমেন্ট করেন। তিনি পালটা জানান, ‘কথা নেই বার্তা নেই, হঠাৎ আমার নাম টেনে নিয়ে চলে এলো। অদ্ভুত সব লোকজন। আর তোমার প্রিভিয়াস পোস্ট তাতে আমরা সবাই সহমত। আমাদের পারমিশন ছাড়াও মাঝে মাঝে বিটিএস করা হয় এবং পোস্ট ও হয় ! লেখা পড়ে বুঝতে তো আমাদের কোনো প্রবলেম হয়নি, তাহলে এগুলো ইচ্ছাকৃত টিআরপি বাড়ানোর জন্যই করা হচ্ছে আর কিছুই না! আবার বলছে শ্রুতি ও সহমত চাঁদনীর সাথে’। দুই অভিনেত্রী সাফ জানান, তাঁদের মধ্য়ে কোনও সমস্য়া নেই। তাঁরা সকলেই বিরক্ত এই রিল-কালচার নিয়ে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Priyanka Mukherjee

প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe